Mir cement
logo
  • ঢাকা রোববার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১, ৪ আশ্বিন ১৪২৮

করোনাকালে বিপাকে নৌকা তৈরির মিস্ত্রিরা

নৌকা তৈরির সময়

বর্ষা মৌসুমে সবার কাছেই নৌকার কদর রয়েছে। পুরো বর্ষা মৌসুমে প্রত্যন্ত এলাকায় চলাচল ও জীবিকার প্রয়োজন এবং পণ্য পরিবহনের অন্যতম বাহন হিসেবে এখনো নৌকার ব্যবহার অনেক জনপ্রিয়। এক সময় নৌকা তৈরি ও বিক্রি করে আর্থিক সচ্ছলতা পেলেও বর্তমানে করোনাকালে বিপাকে রয়েছেন টাঙ্গাইলের নাগরপুর এলাকার নৌকা তৈরির মিস্ত্রিরা।

উপজেলার দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জীবন-জীবিকার প্রয়োজনে নিবিড়ভাবে নিজেদের জড়িত রেখেছেন মৎস্য শিকার ও বিক্রির মাধ্যমে। জুন মাস থেকে নভেম্বর মাস পর্যন্ত মৎস্য শিকারে তাদের জীবনের জন্য নৌকার উপর নির্ভরশীল থাকেন। এ সময় তারা নৌকায় করে জাল পাতা, মাছ ধরার ফাঁদ অথবা বর্ষণে মৎস্য শিকার করে বাজারে বিক্রি করেন। অনেকে আবার নৌকায় শাপলা তোলে তা বাজারে বিক্রির মাধ্যমে সংসার চালাচ্ছেন।

বর্ষা মৌসুম এলেই বেড়ে যায় নৌকার কদর। এদিকে বর্ষা মৌসুমে ফসলের জমিতে কাজ না থাকায় এবং বাড়তি ঘর নির্মাণ করায় কাঠমিস্ত্রিরা এ সময় তাদের নিজেদের বাড়ি ও রাস্তার পাশে অস্থায়ী ঘর তৈরি করে বিভিন্ন ডিজাইনের নৌকা তৈরি করে থাকেন। বর্ষা মৌসুমের শুরুর আগেই কাঠ মিস্ত্রিরা গ্রামে গ্রামে ঘুরে নৌকা নির্মাণের জন্য গাছ কিনে, চিরাই করে বাড়িতে তৈরি করে বিভিন্ন হাট-বাজারে তা বিক্রির মাধ্যমে সংসার চালাচ্ছেন।

অনেকেই এই সময় নৌকা নির্মাণ ও বিক্রির মাধ্যমে আয় করে থাকেন। এভাবে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার সহস্রাধিক মিস্ত্রি পরিবার বাড়ি বসে নৌকা তৈরি ও বিক্রি করে বাড়তি আয়ের মাধ্যমে অর্থনৈতিকভাবে জীবিকা নির্বাহ করছেন। বাড়িতে মিস্ত্রিদের নৌকা নির্মাণের কাজে সহায়তা করেন তাদের স্ত্রী ও সন্তান।

উপজেলার দক্ষিণ নাগরপুর গ্রামের সিদ্দিক হোসেন কাঠ মিস্ত্রি আরটিভি নিউজকে জানান, বর্ষা মৌসুমে তেমন কোনো কাজ না থাকায় নৌকা তৈরি করে তা বিক্রি করা হয়। তার তত্ত্বাবধানে চার জন মিস্ত্রি রয়েছে। লকডাউনে এ বছর বেচাকেনা অনেক কম, তাছাড়া মোবাইল কোর্টের আতঙ্কে থাকেন তারা। বিভিন্ন সাইজের নৌকা নির্মাণ করছেন তারা, প্রতিটি নৌকা বিক্রি করেন ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা। একটি নৌকা নির্মাণে ২ হাজার থেকে ২৫শ’ টাকা পর্যন্ত খরচ হয় তাদের। আকার ভেদে নৌকার দাম কম-বেশি হয়ে থাকে।

এসআর/

মন্তব্য করুন

RTV Drama
RTVPLUS