Mir cement
logo
  • ঢাকা বুধবার, ০৪ আগস্ট ২০২১, ২০ শ্রাবণ ১৪২৮

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

  ১৭ জুন ২০২১, ১৭:০৭
আপডেট : ১৭ জুন ২০২১, ১৭:১১

স্কুলের শ্রেণীকক্ষ ভেঙে জায়গা দখল

ভেঙে ফেলা স্কুৃলের চিত্র

গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার হাতিয়াড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে দানকৃত জায়গা স্কুলেরই টাকায় নিজের ও ছেলের নামে দলিল করে নিয়েছেন স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা ও ম্যানেজিং কমিটির সাবেক সভাপতি মাওলানা আবদুল হামিদ মোল্যা। আবার শ্রেণীকক্ষ ভেঙে জায়গা দখল করারও চেষ্টা করেছেন তারা। জায়গা দখল ও শ্রেণীকক্ষ ভাঙায় তার ছেলে ছাওবান মোল্যাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

জানা যায়, ১৯৯৪ সালে কাশিয়ানী হাতিয়াড়ায় এলাকাবাসীর দানকৃত জায়গায় একটি হাই স্কুল গড়ে তোলা হয় এবং ১৯৯৮ সালে স্কুলটি এমপিওভুক্ত হয়। এরপর জায়গাটি স্কুলের টাকায় কৌশলে নিজ নামে দলিল করে নেন স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা ও জেলা জামায়াতের সাবেক আমীর মাওলানা আব্দুল হামিদ মোল্যা। পরে তিনি স্কুলের নামে জমি লিখে না দিয়ে তার ছেলে ছাওবান মোল্যার নামে দলিল করে দেন।

করোনায় স্কুল বন্ধ থাকার সুযোগে ছাওবান ও তার অনুসারীরা গত ১৩ জুন সকালে স্কুলের ৮টি শ্রেণীকক্ষবিশিষ্ট দুটি টিনসেড ঘর ভেঙে ফেলে এবং ১২টি গাছ কেটে জায়গা দখল করে স্থাপনা তৈরির কাজ শুরু করে। সেই সঙ্গে স্কুলের পাশের একটি পুকুরও ভরাট করে দখল করার চেষ্টা করে।

মঙ্গলবার (১৫ জুন) দুপুরে কাশিয়ানী উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মো. মোক্তার হোসেন, হাতিয়াড়া ইউপি চেয়ারম্যান দেবদুলাল বিশ্বাস ও স্কুলের প্রধান শিক্ষক বিশ্বজিত কুমার মৈত্রের উপস্থিতিতে হাতিয়াড়া ইউনিয়ন আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ওই স্কুলের অভিভাবক-সদস্য মো. বাদশা মোল্যা বাদী হয়ে মাওলানা আব্দুল হামিদ মোল্লাকে রাজাকার উল্লেখ করে প্রধান আসামি ও তার ছেলে ছওবান মোল্লাসহ ২৫ জনের বিরুদ্ধে কাশিয়ানী থানায় মামলা (নং-১৭/১১৪) করেন। ওই দিন রাতেই পুলিশ ছাওবান মোল্যাকে (৩৫) গ্রেপ্তার করে। বুধবার দুপুরে আদালতে পাঠানো হয় তাকে।

স্কুলের জমি দাতারা বলেন, স্কুলটি প্রতিষ্ঠা করার জন্য আব্দুল হামিদ আমাদের কাছে জমি চান। এলাকার মানুষ স্কুলটি প্রতিষ্ঠার জন্য স্কুলের নামে জমি দান করেন। কিন্তু তিনি কৌশলে জমি স্কুলের নামে না করিয়ে নিজের নামে দলিল করেন। পরে সেই জমি তার ছেলের নামে দলিল করে দেন। এরপরই তার ছেলে ছাওবান মোল্য শ্রেণীকক্ষ ভেঙে ফেলে স্কুলের জায়গা দখল করে স্থাপনা তৈরি শুরু করেন। এমনকি স্কুলের মূল্যবান গাছও কেটে নিয়ে যায়।

স্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্র সবুজ মোল্যা, নবম শ্রেণির ছাত্রী লুবানা খানম ও পিংকি বিশ্বাস বলেন, স্কুলের প্রতিষ্ঠা আব্দুল হামিদের ছেলে ছাওবান মোল্যা আমাদের শ্রেণীকক্ষ ভেঙে স্কুলের জায়গা দখল করে স্থাপনা তৈরি করেছে। স্কুল খুললে আমরা ক্লাস করতে পারব না। এমনকি স্কুলের মাঝে একটি বেড়াও দিয়ে রেখেছে।

হাতিয়াড়া হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক বিশ্বজিৎ কুমার মৈত্র বলেন, স্কুল ঘর ভেঙে ফেলায় আমরা শিক্ষক শিক্ষার্থীসহ এলাকাবাসী খুবই মর্মাহত হয়েছি। শ্রেণীকক্ষ ভেঙে ফেলায় স্কুল খুললে আমরা আর ক্লাস নিতে পারব না। শিক্ষার্থীরা অসুবিধায় পড়বে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রামদিয়া পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক কামাল হোসেন জানিয়েছেন, এ ঘটনায় ছাওবানের পিতা আব্দুল হামিদকে প্রধান আসামি করে ১৭ জন নামীয় ও আরও অজ্ঞাত ৭/৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। মামলার ২নং আসামি ছাওবান মোল্যাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। ছাওবানের বিরুদ্ধে থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।

কাশিয়ানী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রথীন্দ্র নাথ রায় বলেছেন, স্কুলের শ্রেণীকক্ষ ভেঙে জায়গা দখলের বিষয়টি জেনেছি। এ ব্যাপারে একটি মামলাও হয়েছে। তবে, স্কুল খুললে শিক্ষার্থীরা যাতে নির্বিঘ্নে ক্লাস করতে পারে সে জন্য শ্রেণীকক্ষ তৈরিসহ জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এসআর/

মন্তব্য করুন

RTV Drama
RTVPLUS