Mir cement
logo
  • ঢাকা শুক্রবার, ১৮ জুন ২০২১, ৪ আষাঢ় ১৪২৮

রাজবাড়ী প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

  ০৮ জুন ২০২১, ২৩:৫০
আপডেট : ০৮ জুন ২০২১, ২৩:৫৪

অপারেশনের ৮ মাস পর পেট থেকে গজ ব্যান্ডেজ উ'দ্ধার!

ফাইল ছবি

রাজবাড়ীর পাংশার মর্ডান ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে সিজার হওয়া তাসলিমা (৩৪) নামের এক নারী রোগীর পেট থেকে ৮ মাস ৮ দিন পর গজ ব্যান্ডেজ বের করা হয়েছে। দীর্ঘ ৮ মাস গজটি পেটে থাকায় পচন ধরার জন্য শরীরে কোনো এন্টিবায়োটিক কাজ করবে না ও জীবন সঙ্কটাপন্ন বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ৪ জুলাই উপজেলার মর্ডান ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে তাসলিমার সিজার অপারেশন করা হয়। অপারেশন করেন ক্লিনিকে খণ্ডকালীন চিকিৎসক এবং পাংশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ও গাইনি বিশেষজ্ঞ ডা. শর্মী আহমেদ।

তাসলিমার স্বামী মো. সাইদুল ইসলাম বলেন, ২০২০ সালের ৪ জুলাই ডা. শর্মী আহমেদ ও তার সহযোগী ডা. বিনা আক্তার নার্স এবং ওটি বয় মিলে আমার স্ত্রীর সিজার করেন। সিজারের দুদিন পর থেকে তাসলিমার পেটে ব্যথা হতে থাকে। ক্লিনিক থেকে কিছু ওষুধ দেয়া হয়। ৯ জুলাই রিলিজ দেয়। বাড়ি ফেরার পর অস্ত্রোপচারের ক্ষত থেকে পুঁজ বের হতে থাকে। পরে ব্যথা আরও বেড়ে গেলে কুষ্টিয়া, ফরিদপুরসহ অন্যান্য হাসপাতালে নিলে চিকিৎসকরা ওষুধ খেতে দেন। এক পর্যায়ে জীবন সঙ্কটাপন্ন দেখে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করলে কর্তব্যরত ডাক্তার পরীক্ষা—নিরীক্ষা করে বলেন পেটের মধ্যে গজ ব্যান্ডেজ রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এ বছরের ১ মার্চ অপারেশন করে তাসলিমার পেট থেকে গজ ব্যান্ডেজ বের করা হয়। ৩০ মার্চ পাংশা মডেল থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করি। অপারেশনের পর থেকে আমার স্ত্রীর চিকিৎসা বাবদ প্রায় ৭ লক্ষ টাকা ব্যয় হয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আমাকে ক্ষতিপূরণের আশ্বাস দিলেও এখন পর্যন্ত কোনো ক্ষতিপূরণ পাইনি এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জুনিয়র কনসালটেন্ট ডা. শর্মী আহমেদ বলেন, মানুষ মাত্রই ভুল। আমারও ভুল হয়েছে, আমি ভুল স্বীকার করেছি এবং রোগীর পরিবারকে কিছু ক্ষতিপূরণ দিতে চেয়েছি।

উপজেলা স্বাস্থ্য পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. হাসানাত আল মতিন বলেন, ঘটনাটি শুনেছি এবং দুই পক্ষকে ডেকে একটি মীমাংসা করা হয়েছিল। মর্ডান ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের পরিচালক রাজ্জাক দিবেন ১ লক্ষ টাকা এবং ডা. শর্মী আহমেদ ১ লক্ষ টাকা। কিন্তু ক্লিনিক মালিক পক্ষ টাকা না দিয়ে ক্লিনিকটি অন্যথায় বিক্রি করে দেন। ক্লিনিক মালিক পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ চেষ্টায় ব্যর্থ হয়েছি।

জেলার সিভিল সার্জন ডা. ইব্রাহিম টিটন বলেন, বিষয়টি আমি অবগত আছি। সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ও যে ক্লিনিকে এমন ভুলের ঘটনাটি ঘটেছে তা উল্লেখ করে স্বজনরা লিখিত অভিযোগ করলে তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে বিধি-মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

পাংশা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মাদ শাহাদাত হোসেন বলেন, এ বিষয়ে একটি অভিযোগ পেয়েছি। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি, বিষয়টি তদন্তধীন রয়েছে।

এসআর/

RTV Drama
RTVPLUS