Mir cement
logo
  • ঢাকা মঙ্গলবার, ১৫ জুন ২০২১, ১ আষাঢ় ১৪২৮

ডিএনসিসি ৫৩ নম্বর ওয়ার্ডে প্রস্তাবিত স্যুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট স্থানান্তরের দাবি

ডিএনসিসি ৫৩ নম্বর ওয়ার্ডে প্রস্তাবিত স্যুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট স্থানান্তরের দাবি

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৫৩ নম্বর ওয়ার্ডে প্রস্তাবিত ঢাকা ওয়াসার স্যুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টটি বসতি এলাকা বাদ দিয়ে সুপারিশকৃত পাশ্ববর্তী খোলা স্থানে স্থানান্তরের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় কাউন্সিলর নাসির উদ্দিনসহ ওই এলাকার বাসিন্দারা। মঙ্গলবার (০৮ জুন) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে এলাকাবাসীর পক্ষে তিনি এ দাবি জানান।

লিখিত বক্তব্যে কাউন্সিলর বলেন, উত্তরা ৩য় প্রকল্প সন্নিহিত তুরাগ থানাধীন বর্তমানে ৫৩ নং ওয়ার্ড ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ধউর ও নলভোগ মৌজায় ঢাকা ওয়াসা স্যুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট স্থাপনের উদ্যোগ নেয়। যা বর্তমান নির্ধারিত স্থানে বাস্তবায়ন করা হলে মেট্রোরেল ডিপো কেন্দ্রিক গড়ে উঠা বিশাল জনগোষ্ঠির স্বাস্থ্য ঝুঁকি সৃষ্টি হবে, এলাকার জনবহুল আবাসিক এলাকার জনসাধারণের ভোগান্তি ও দুর্ভোগ বাড়বে, আশে পাশের বায়ুদূষণ বৃদ্ধি পাবে, পার্শ্ববর্তি প্রস্তাবিত ও গড়ে উঠা পুলিশ লাইন্সস, আহসানিয়া মিশন ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ, মাইলস্টোন স্কুল এন্ড কলেজসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সৌন্দর্য হানি ঘটবে। একইসাথে সরকারি ভূমি অধিগ্রহণ ব্যয় অনেক গুণ বৃদ্ধি পাবে ও পরিবেশ-প্রতিবেশের দূষণ বাড়বে। সরকারি অধিগ্রহণের ফলে তিন শতাধিক ঘরবাড়ী উচ্ছেদ হবে। যাতে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে আদিবাসীরা।

তিনি বলেন, উক্ত স্যুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্লান্ট বা পয়ঃশোধানাগার বাস্তবায়নের স্থান নির্ধারণ করতে গিয়ে ঢাকাবাসীর দীর্ঘ দিনের প্রত্যাশার একটি মাইলফলক রাজউক কর্তৃক প্রণীত মাস্টার প্ল্যান ড্যাপ নির্ধারিত রাস্তাকে ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে।

কাউন্সিলর বলেন, আমরা উক্ত স্যুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্লান্ট বা পয়ঃশোধানাগার বাস্তবায়নের বিপক্ষে নই। আমাদের দাবি হচ্ছে, এই প্রকল্পটি আবাসিক এলাকা থেকে সরিয়ে যথাক্রমে ভাটুলিয়া গ্রাম, আশুতিয়া ও ধউর মৌজার একাংশের প্রস্তাবিত জায়গায় বাস্তবায়ন করা হোক। এটি সম্পূর্ণ খোলা জায়গা। এখানে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে একদিকে যেমন জনগণের কোনো সমস্যা হবে না তেমনি প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রায় সাত’শ কোটি টাকা অধিগ্রহণ ব্যয় বাবদ সাশ্রয় করা সম্ভব হবে।

কাউন্সিলর এ বীর মুক্তিযোদ্ধা বলেন, ইতোপূর্বে কয়েক দফায় বিগত এল এ কেইস নং ৮/১৯৮৮,৯/১৯৯১, ৬ ও ৭/২০০০-২০০১ ও ১১/২০১৯ মূলে আদিবাসী জনগণের বসতভিটাসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রাজউকের অধিগ্রহনের ফলে উচ্ছেদের শিকার হয়। ২০১২ সালে রাজউক উত্তরায় নতুন কোন জমি অধিগ্রহণ করা হবে না মর্মে গণবিজ্ঞতি জারি করে। যা ১৪.০৭.২০১২ তারিখে বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। এতে এলাকাবাসী শান্ত ও আশ্বস্ত হয়। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয় আবারও অত্র এলাকায় ধউর ও নলভোগ মৌজায় বসতভিটা ও বিভিন্ন স্থাপনা উচ্ছেদ করে ঢাকা ওয়াসা স্যুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট স্থাপনের উদ্যোগ নেয়ায় স্থানীয় জনগণ আতঙ্কের মধ্যে দিনাতিপাত করছেন।

এলাকাবাসীর দাবির সাথে মেয়র, স্থানীয় সংসদ সদস্য একমত পোষণ করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, উক্ত প্রকল্প সম্পর্কে জানার পর বৃহত্তর জনসাধারণের স্বার্থ বিবেচনা করে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র, স্থানীয় ঢাকা-১৮ আসনের এমপি তুরাগ থানাধীন বর্তমান নলভোগ ও ধউর মৌজাস্থ বর্তমানে প্রস্তাবিত স্থানের পরিবর্তে একই এলাকার নিকটবর্তী ফাঁকা জায়গার গ্রাম ভাটুলিয়া, আশুতিয়া ও ধউর মৌজার একাংশে স্থানান্তরের সুপারিশ করেছেন। কিন্তু ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক কারো সুপারিশই আমলে নিচ্ছেন না।

এক প্রশ্নের জবাবে কাউন্সিলর বলেন, আমরা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সাথে একাধিকবার বৈঠকে বসার চেষ্টা করেছি। কিন্তু তিনি বসতে রাজি হননি। তিনি কারও পরামর্শ বা দাবিকেই আমলে না নিয়ে এক তরফাভাবে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের ষড়যন্ত্র করছে। ওয়াসার কর্তাব্যক্তি ও কতিপয় অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অসৎ উদ্দেশ্য না থাকলে প্রস্তাবিত সরকারি খাস জমিতে প্রকল্প বাস্তবায়নে উৎসাহী না হয়ে কেন বসতি উচ্ছেদ করে প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে হবে, এ নিয়ে ইতোমধ্যে বিভিন্ন প্রশ্ন সৃষ্টি হয়েছে। কাউন্সিলর উত্তরা ও তুরাগ এলাকার জনগণের স্বার্থ রক্ষা করে সুপারিশকৃত বিকল্প জায়গায় পয়:নিষ্কাশন প্রকল্পটি বাস্তবায়নে সরকারের শীর্ষ কর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

সাংবাদিক সম্মেলনে এলাকাবাসীর পক্ষে আবদুল বাতেন, মো: হারিস মিয়া, আজহারুল ইসলাম, মোবিনুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এফএ

RTV Drama
RTVPLUS