logo
  • ঢাকা বুধবার, ২৭ জানুয়ারি ২০২১, ১৩ মাঘ ১৪২৭

আগামী বর্ষায় ঢাকাবাসী সুফল পাবে: মেয়র তাপস

Mayor, Taposh, benefit, people, Dhaka, next monsoon
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস
রাজধানীতে যেসব খাল ও বক্স কালভার্ট রয়েছে সেগুলো গত কয়েক বছর পরিষ্কার করা হয়নি। এ কারণে দীর্ঘদিনের পুঞ্জিভূত সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করেছে। এখন সিটি করপোরেশন খাল ও বক্স কালভার্টে জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করছে। এতে আগামী বর্ষা মৌসুমে ঢাকাবাসী কিছুটা হলেও সুফল পাবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস।

আজ সোমবার (১১ জানুয়ারি) নগরীর ৭নং ওয়ার্ডের মানিকনগর স্লুইস গেইট ও ৮নং ওয়ার্ডের গোপীবাগস্থ টিটিপাড়া, সেগুনবাগিচা বক্স কালভার্ট, গোপী পাড়াস্থ টিটিপাড়া আউটলেটে চলমান বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম পরিদর্শন শেষে মেয়র এসব কথা বলেন।

ডিএসসিসি মেয়র বলেন, দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় ঢাকায়  যেসব খাল, বক্স কালভার্ট রয়েছে সেগুলো হস্তান্তর প্রক্রিয়া আরম্ভ হয়েছে এবং চলমান রয়েছে। সেই প্রেক্ষিতে, গত পহেলা জানুয়ারি থেকেই আমাদের খালগুলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করাসহ কালভার্টগুলো থেকে বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম আরম্ভ করেছি। আজকে আমরা মানিকনগর টিটিপাড়া এলাকা পরিদর্শনে এসেছি, গণমাধ্যমকর্মীরা লক্ষ্য করেছেন কি অবস্থা বিরাজমান আছে? এটা বিশাল একটা কর্মযজ্ঞ। যতটুকু অনুধাবন করতে পেরেছি, যে ধ্যান ধারণা ছিল, তারচেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন। এখানে দীর্ঘদিন ধরে কোনো কাজই হয়নি। সব জায়গায় শুধু বদ্ধই না, স্তুপই না, শক্ত পলিমাটি জমে গেছে। সুতরাং এটা একটা বিশাল কর্মযজ্ঞ। তারপরও আমরা পরিকল্পনা নেব, কর্মপরিকল্পনা ঠিক করব। আমরা এরই মাঝে এই পহেলা জানুয়ারি থেকে আরম্ভ করেছি, আগামী মার্চ মাসের মধ্যে যাতে এসব জায়গায় পানি প্রবাহ এবং পানি নিষ্কাশনের কিছু ব্যবস্থা করা যায়, এই লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে আমরা এগিয়ে চলেছি। বিশাল কর্মযজ্ঞ, তবুও আমাদের দৃঢ়তা রয়েছে। আগামী বর্ষা মৌসুমে আমরা ঢাকাবাসীকে কিছুটা হলেও সুফল দিতে পারব।

শেখ ফজলে নূর তাপস আক্ষেপ করে বলেন, খাল ও বক্স কালভার্ট নিয়ে এরআগে বিভিন্ন ধারণা দেয়া হলেও আসলে সত্যিকার অর্থে গত কয়েক বছর ধরেই এখানে কোনো কাজ হয়নি। বক্স কালভার্টগুলো ও পরিষ্কার করা হয়নি এবং খালগুলোও পরিষ্কার করা হয়নি। যার কারণে দীর্ঘদিনের পুঞ্জিভূত সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করেছে। সুতরাং আমাদের এখনকার যে কাজটা - এটা আমাদের জন্য অত্যন্ত জটিল, অত্যন্ত দুরূহ। তারপরও আমরা আরম্ভ করেছি। আমরা যদি এটা সফলভাবে করতে পারি, তাহলে ভবিষ্যতে কাজগুলো আরো শৃঙ্খলার মধ্যে আসবে, ব্যবস্থাপনার মধ্যে আসবে। সুফলগুলো আমরা ঢাকাবাসীকে দিতে পারব।

এখন যে পরিস্থিতিতে আছে তাতে জলাবদ্ধতা আরো বেশি হওয়ার কথা। তারপরও কিভাবে আমরা টিকে আছি তা অবাক কাণ্ড উল্লেখ করে ডিএসসিসি মেয়র বলেন, আপনারা নিজেরা দেখেছেন, এখানে পানি প্রবাহের কোন ব্যবস্থাই নাই। পানি যে আসবে, তারপরই তো পাম্প হাউজ ব্যবহার হবে। পাম্প হাউস দিয়ে পানিটা আবার নিষ্কাশন হবে। এরপর মান্ডা ও জিরানি খাল দিয়ে প্রবাহিত হবে। কিন্তু পানি আসার কোনো উপায় নেই। কারণ পুরোটাই বদ্ধ। আমাদের এখন বিশাল কর্মযজ্ঞ করতে হচ্ছে। পুরো বক্স কালভার্ট - এখান থেকে সেগুনবাগিচা পর্যন্ত পুরো কালভার্টটা পরিষ্কার করতে হবে। আপনারা অনুধাবন করতে পারছেন, এটা কতটা দুরূহ কাজ।

খাল ও বক্স কালভার্ট পরিদর্শনকালে শেখ ফজলে নূর তাপস বলেন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন তার বিরুদ্ধে যে বক্তব্য দিয়েছেন তা মানহানিকর। এ বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেন তাপস।

সাবেক মেয়র গতকাল আপনার বিরুদ্ধে যে বক্তব্য দিয়েছে, সে বিষয়ে আপনি মামলা করবেন কিনা,  সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ডিএসসিসি মেয়র ব্যারিস্টার শেখ তাপস বলেন, আসলে গতকাল ছিল ১০ জানুয়ারি, জাতির পিতার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস। এর আগেই ৯ জানুয়ারি আমরা লক্ষ্য করলাম যে, তিনি ঘটা করে আমার বিরুদ্ধে সভা ডেকে, আমার বিরুদ্ধে বিষোদগার করলেন। আমার কাছে মনে হয় যে, এটা ওনার ব্যক্তিগত আক্রোশের বহিঃপ্রকাশ।

ডিএসসিসিতে ১৭ মে দায়িত্বভার গ্রহণের পর থেকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান আরম্ভ করেছি এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান চলমান রয়েছে উল্লেখ করে ডিএসসিসি মেয়র ব্যারিস্টার শেখ তাপস আরও বলেন, আপনারা লক্ষ্য করেছেন, মার্কেট সংক্রান্ত কিছু তথ্য বেরিয়ে এসেছে। সংবাদকর্মীরাই সেগুলো অনুসন্ধান করে বের করেছেন। সেখানে বিভিন্নভাবে টাকা লেনদেন হয়েছে। যাদের সাথে টাকা লেনদেন হয়েছে, যারা লেনদেন করেছেন, তারাই অভিযোগ এনেছেন। আমরা ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে অথবা আমি ব্যক্তিগতভাবে কোনভাবেই কোন অভিযোগ আনি নাই। সেখানে যারা লেনদেন করেছে, যারা ব্যবসায়ী দোকানদার অবৈধভাবে সেই জায়গাগুলো দখলে ছিল, তারা অর্থ লেনদেন করেছেন। এখন তিনি পুরো দোষ আমার উপর চাপানোর চেষ্টা করছে। সেটা আমি মনে করি খুবই অনভিপ্রেত। সেটা শুধুমাত্র ব্যক্তিগত আক্রোশের বশবর্তী হয়ে তিনি এই বিষয়গুলো তুলে ধরছেন।

আপনার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করেছে সেজন্য মানহানি মামলা করবেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে ডিএসসিসি মেয়র ব্যারিস্টার শেখ তাপস বলেন, হ্যাঁ, অবশ্যই। তিনি অবশ্যই মানহানিকর বক্তব্য দিয়েছেন। আমি তার বক্তব্য শুনে অবাক হয়েছি। তিনি নিজেকে চুনোপুটি দুর্নীতিবাজ হিসেবে স্বীকার করেছেন। আর আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন। আমার বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রেক্ষিতে অবশ্যই এটা মানহানিকর হয়েছে। আমি এ ব্যাপারে ব্যবস্থা অবশ্যই নিতে পারি।

এ সময় অন্যদের মধ্যে ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এ বি এম আমিন উল্লাহ নুরী, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এয়ার কমডোর মোঃ বদরুল আমিন, প্রধান প্রকৌশলী রেজাউর রহমান, সচিব আকরামুজ্জামান, প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা রাসেল সাবরিনসহ কর্পোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং স্থানীয় কাউন্সিলরবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

এফএ

RTV Drama
RTVPLUS