logo
  • ঢাকা শনিবার, ২৩ জানুয়ারি ২০২১, ৯ মাঘ ১৪২৭

জলাবদ্ধতা নিরসনের আশ্বাস ঢাকা দুই নগরপিতার

Dhaka's two mayors promise to end waterlogging
সংগৃহীত
ঢাকা শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনে পানি নিষ্কাশনের দায়িত্ব সিটি করপোরেশনের কাছে হস্তান্তরের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। এটি বাস্তবায়িত হলে নগরীতে জলাবদ্ধতা নিরসনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের মেয়র। বৃহস্পতিবার দুপুরে সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক পরামর্শ সভার শেষে দুই মেয়র এ প্রতিশ্রুতি দেন।

অনুষ্ঠানে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, আজকের দিনটি ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা দুই সিটির মেয়র চেয়ে আসছিলাম ঢাকা শহরের খালগুলো আমাদের আওতায় দিয়ে দিক। আজ সে বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে এখানে অনেক টেকনিক্যাল ব্যাপার রয়েছে। যেমন আমাদের সক্ষমতার বিষয়সহ আইনগত বিভিন্ন দিক রয়েছে। আমরা নগরবাসীকে বলতে পারি এটি একটি অনেক পুরনো সমস্যা। এখানে খাল, সুয়ারেজ থেকে শুরু করে অনেক চ্যালেঞ্জ ছিল। জলাবদ্ধতা নিয়ে যে দুর্ভোগ আমরা চেষ্টা করব জনগণকে এটা থেকে রক্ষার জন্য।

তিনি বলেন, খালের দুই পাশ অবৈধভাবে দখল হয়ে গেছে। আমরা খালগুলো উদ্ধার করব। খালগুলো আরো গভীর করাসহ দুই পারে সাইকেল লেন, ওয়াকওয়ে ও গাছ দিয়ে দৃষ্টিনন্দন পার্ক করবো। এটি অবশ্যই একটি কঠিন কাজ। যদি সদিচ্ছা থাকে আমাদের নদীগুলো যেভাবে উদ্ধার হয়েছে সেভাবে খালগুলো প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে উদ্ধার করতে পারব। সরকারি জমি অন্য কেউ দখল করে নিয়ে যাবে, আমরা চেয়ে চেয়ে দেখবো সেদিন শেষ।

ঢাকা দক্ষিণের মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস বলেন, আজকে আমরা দীর্ঘ দিনের পুঞ্জীভূত সমস্যা নিরসনে একটি যুগান্তকারী সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছি। ১৯৮৮ সালে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের দায়িত্ব সিটি কর্পোরেশনকে দেয়ার কথা থাকলেও সেটা না দিয়ে ওয়াসাকে দেয়া হয়। ফলে এসব জলাশয়, পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থাসহ নর্দমার দায়িত্ব ওয়াসা পায়। সেই থেকে আজ অবধি প্রায় ৩০ বছরের বেশি সময় ঢাকাবাসী দুর্ভোগে নির্মজ্জিত ছিল। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে আমরা একটি নবসূচনা করতে পারছি। আমি আশাবাদী সবাই মিলে ঐক্যবদ্ধভাবে আমাদের কাজের মাধ্যমে অচিরেই ঢাকাবাসীকে এর সুফল দিতে পারবো।

আরেক প্রশ্নের জবাবে তাপস বলেন, ঢাকাবাসী নির্বাচনের মাধ্যমে দুই জন নেতা নির্বাচিত করেছে। সেই ম্যানডেটের কারণে আমরা সাহস করেছি ঢাকাবাসীকে আমরা এই সমস্যা থেকে সমাধান দেবো। সব প্রতিকূলতা নিয়েই আমরা এই বিশাল কর্মযজ্ঞ হাতে নিয়েছি।

ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) প্রকৌশলী তাকসিম এ খান বলেন, ১৯৮৮ সালে রাষ্ট্রপতির একটি সিদ্ধান্ত ছিল ওয়াসাকে দিয়ে দেয়া। আমরা যখন ২০০৯-১০ সালে দায়িত্বে আসার পর ২০১২ সাল থেকে অনেক বার বলেছি এটা যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সিটি কর্পোরেশনকে হস্তান্তর করা হোক। আজকে সেটার নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে।

ওয়াসা ব্যর্থ কিনা জানতে চাইলে ওয়াসার এমডি বলেন, প্রশ্নই আসে না। যে কাজ আমাদের না সেটা আমরা এতদিন করেছি। এজন্য আমাদের ধন্যবাদ দেয়া উচিত। কারণ কাজটা ঢাকা ওয়াসার ছিল না। এর ফলে ঢাকা ওয়াসা ওয়াটার সাপ্লাই ও সুয়ারেজে আরও বেশি মনোযোগ দেওয়ার সুযোগ পাবে। ২০১২ সাল থেকে আমরা চিঠি দিয়ে আসছি হন্তান্তর করা হোক। এতদিন হয়নি, আজকে সেটা হলো।

RTV Drama
RTVPLUS