Mir cement
logo
  • ঢাকা শনিবার, ২৮ মে ২০২২, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯

কক্সবাজারে পর্যটক আগমনে ভাটা, হতাশ ব্যবসায়ীরা

কক্সবাজারে পর্যটক আগমনে ভাটা, হতাশ ব্যবসায়ীরা

কোভিড ১৯ সংক্রমণের প্রভাব পড়েছে কক্সবাজার পর্যটন শিল্পে। অনেকটা অপ্রত্যাশিতভাবেই পর্যটক আগমনে ভাটা পড়েছে। এতে হতাশায় দিন পার করছে ব্যবসায়ীরা।

এর আগে অনেক অগ্রিম বুকিং বাতিল হওয়ায় ফাঁকা রয়েছে অধিকাংশ আবাসিক হোটেল-মোটেল। ৫০ শতাংশ ছাড় দিয়েও পর্যটকদের টানতে পারছেন না বলে আক্ষেপ করেছেন কলাতলী মেরিন ড্রাইভ হোটেল রিসোর্ট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুকিম খান।

তিনি জানান, বর্তমানে কক্সবাজার শহরের আবাসিক হোটেল-মোটেল ও গেস্ট হাউজগুলোতে ২০ শতাংশ পর্যটক রয়েছে। ৮০ শতাংশ খালি। সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোতে স্বাভাবিকভাবে সমুদ্র সৈকতে লক্ষাধিক পর্যটকের আগমন ঘটে। কিন্তু আজকের চিত্র উল্টো। খুব কম সংখ্যক পর্যটক আজ শুক্রবার সৈকতে ঘুরতে এসেছেন বলে জানান বিচ কর্মী মাহাবুবুর রহমান।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, কোভিড ১৯ সংক্রমণ বাড়ায় সৈকতে পর্যটকদের আনাগোনা কমে গেছে। এই অবস্থা বিরাজ করলে ফের বড় ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।

শুক্রবার (২৮ জানুয়ারি) সকালে সেখানে গিয়ে দেখা গেছে, কিছু পর্যটকের আগমন ঘটলেও তারা স্বাস্থ্যবিধি মানছেন না। প্রায় পর্যটকের মুখেই মাস্ক নেই। কারণ জিজ্ঞেস করলে নানান অজুহাত দেখান।

তবে, আগত পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিতে টুরিস্ট পুলিশের পক্ষ থেকে সৈকত এলাকায় মাইকিং করতে দেখা গেছে। ঢাকা থেকে আসা জসিম উদ্দিন নামের এক পর্যটক বলেন, বন্ধুদের সঙ্গে কক্সবাজারে গতকাল সন্ধ্যায় বেড়াতে এসেছি। আজ এবং কাল থাকব। বন্ধুদের সঙ্গে বেড়ানোর মজা আলাদা। মাস্ক এবং সামাজিক দূরত্ব কেন মানছেন না জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখন আর মাস্ক পরি না। অ্যাজমা সমস্যা রয়েছে। মাস্ক ব্যবহার করলে দম বন্ধ হয়ে আসে।

মৌলভীবাজার থেকে আসা পর্যটক রাজিব হাসান বলেন, কক্সবাজারের পরিবেশটা বেশ ভালোই লেগেছে। তবে খাবারের দাম বেশি মনে হচ্ছে। কেন মাস্ক পরেননি এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, করোনার ৩টি ডোজ নিয়েছি। এখন মাস্ক না পরলেও সমস্যা নেই বলে মনে করি।

কক্সবাজার ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশনের (টুয়াক) সভাপতি আনোয়ার কামাল বলেন, আজ পর্যটকের সংখ্যা অনেকটা কম। দিনে দিনে এভাবে পর্যটকের সংখ্যা কমে গেলে ফের বড় লোকসানের মুখে পড়বেন ব্যবসায়ীরা।

কক্সবাজার হোটেল-মোটেল মালিক সমিতির নবাগত সভাপতি আবুল কাশেম শিকদার জানান, সাপ্তাহিক ছুটির দিনে সৈকতে লক্ষাধিক পর্যটকের আগমন ঘটে। কিন্তু আজ চিত্র পুরো উল্টো। পর্যটকরা খুব কম সংখ্যকই আসছেন। অধিকাংশ হোটেল পর্যটক শূন্য। তাই আমরা হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়ছি।

কক্সবাজার টুরিস্ট পুলিশ জোনের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মহিউদ্দিন আহমেদ মুকুল জানান, পর্যটকদের নিরাপত্তায় টুরিস্ট পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মাঠে কাজ করছে। পর্যটকদের স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিতে সৈকত এলাকায় টুরিস্ট পুলিশের পক্ষ থেকে মাইকিং করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবু সুফিয়ান জানান, কক্সবাজারের পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে কোভিড-১৯ সচেতনতার লক্ষ্যে প্রচার-প্রচারণা ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি পর্যটকসহ সাধারণ জনগণের মাঝে মাস্কও বিতরণ করা হচ্ছে। স্বাস্থ্যবিধি না মানায় মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে জরিমানা করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

এমএন/এসকে

মন্তব্য করুন

RTV Drama
RTVPLUS