Mir cement
logo
  • ঢাকা মঙ্গলবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৩ আশ্বিন ১৪২৮

টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

  ০৩ আগস্ট ২০২১, ১৩:১১
আপডেট : ০৩ আগস্ট ২০২১, ১৩:১৮

রোহিঙ্গা শিবিরে আরসা-আরএসও’র দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে

রোহিঙ্গা শিবিরে আরসা-আরএসও’র দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে
ফাইল ছবি

বাংলাদেশে বসবাসরত রোহিঙ্গা শিবিরগুলোতে ধীরে ধীরে নানা অপরাধের কারণে বাড়ছে অস্থিরতা। টেকনাফ আর উখিয়ায় ৩৪টি ক্যাম্পে প্রতিদিনই কোন না কোন শিবিরে গুলাগুলি, খুন, অপহরণ, মাদকসহ নানা অপরাধের ঘটনা ঘটছে। এদের কারণে স্থানীয়রাও অসহায় হয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছে।

রোহিঙ্গা শিবিরে রোহিঙ্গা সশস্ত্র সংগঠন আরকান রোহিঙ্গা সালভেশন আর্মি (আরসা) ও রোহিঙ্গা সলিডারিটি অর্গানাইজেশনের (আরএসও) বিরোধ চরম আকার হওয়ায় প্রকাশ্যে এসেছে এই দু’সংগঠন। শিবিরে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে রোহিঙ্গাদের সংগঠন দুটির সদস্যদের মাঝে উত্তেজনা চলে আসছিল।

এরই প্রেক্ষিতে রোববার (১ আগস্ট) রাত সাড়ে ৮ টার দিকে উখিয়ার কুতুপালং নৌকার মাঠ রোহিঙ্গা ৭ নম্বর শিবিরের ডি-ব্লকের আরএসও নেতা আবু সৈয়দ প্রকাশ আব্দুল্লাহকে অপহরণ করে আরসা নেতারা। এ সময় বাধা দিতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন রোহিঙ্গা এনামুল হাসান (৩৭)। পরে শিবিরে রোহিঙ্গাদের সহযোগিতায় পুলিশ ব্লক রেইড অভিযান চালিয়ে ৪ ঘণ্টা পর অপহৃতকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে। আহত দু রোহিঙ্গাকে পার্শ্ববর্তী শিবিরের তুর্কী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

কক্সবাজার ১৪ এপিবিএন অধিনায়ক এসপি মো. নাইমুল হক জানান, রোববার রাত সাড়ে ৮ টার দিকে ওই শিবিরের রোহিঙ্গা আবু সৈয়দ প্রকাশ আব্দুল্লাহ এর বাড়িতে আরসা নামধারী আল-ইয়াকীন নেতা জোবায়ের (৩০) প্রকাশ কালা জোবায়েরের নেতৃত্বে ৫০ থেকে ৬০ জন অজ্ঞাতনামা রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীরা একই শিবিরের আলী আহাম্মদের ছেলে আবু সৈয়দ প্রকাশ আব্দুল্লাহ’র ঘরে হানা দেয়।

পরে আরসা সন্ত্রাসীরা আরএসও নেতা আব্দুল্লাহকে অপহরণ করে নিয়ে যাওয়ার সময় পাশর্বর্তী রোহিঙ্গা তোফায়েল আহমেদের ছেলে এনামুল হাসান বাধা দিলে সন্ত্রাসীরা তাকে গুলি করে আব্দুল্লাহকে নিয়ে সটকে পড়ে। অপহৃত রোহিঙ্গা আব্দুল্লাহ আরএসও নেতা এবং এনামুল হাসান তার সমর্থক বলে জানানা তিনি।

পরিস্থিতি উত্তেজনা বিরাজ করলে নৌকার মাঠ ক্যাম্প কমান্ডার (অতিরিক্ত পুলিশ সুপার) মো. শরিফুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ওই এলাকায় রেইড অভিযান জোরদার করেন। চার ঘণ্টা ধরে শ্বাসরুদ্ধর অভিযান চালালে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীরা ভীত হয়ে (২ আগস্ট) মধ্যরাতে রোহিঙ্গা শিবিরের ৮ ইষ্টের সংযোগ স্থলে খালের পাড়ে অপহৃতকে রেখে পালিয়ে যায়। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় অপহৃত আবু সৈয়দকে উদ্ধার করে ওই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। একজনের বাম ও অপহৃতের ডান পায়ে গুলির আঘাত রয়েছে। ৩-৪টি গুলির আওয়াজে সাধারণ রোহিঙ্গারা ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়েন।

এসপি মো. নাইমুল হক আরটিভি নিউজকে আরও জানান, প্রাথমিকভাবে জানা যায় কথিত আরসা নামধারী আল-ইয়াকীন এবং নতুনভাবে সংগঠিত হতে যাওয়া আরএরও’র মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটে। অস্ত্রধারীদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এর আগে, ৩০ জুলাই টেকনাফের নয়াপাড়া নিবন্ধিত রোহিঙ্গা শিবিরের সহকারী মাঝি সৈয়দ আহম্মদকে গুলি করে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। পরে তাকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করেছে ১৬ এপিবিএন সদস্যরা। এ ঘটনায় পরের দিন ৭ রোহিঙ্গা দুষ্কৃতকারীদের আটক করে টেকনাফ থানায় হয়ে কারাগারে প্রেরণ করা হয়।

ক্যাম্পে বসবাসরত রোহিঙ্গারা জানান, ৩৪টি রোহিঙ্গা শিবিরে ওইসব নেতারা নেতৃত্বে দিচ্ছে। সাধারণ রোহিঙ্গাদের বিচার-সালিশ তারাই করে। তাদের অনুমতি ব্যতীত শিবিরে কিছুই করতে পারেন না। অন্যথায় রাতে আধাঁরে গুম করে ফেলা হয়।

এসজে

মন্তব্য করুন

RTV Drama
RTVPLUS