logo
  • ঢাকা শুক্রবার, ১৬ এপ্রিল ২০২১, ৩ বৈশাখ ১৪২৮

‘সুইট বেবি তরমুজ’ চাষে ভাগ্য খুললো যুবকের

‘সুইট বেবি তরমুজ’ চাষে ভাগ্য খুললো যুবকের
‘সুইট বেবি তরমুজ’ চাষে ভাগ্য খুললো যুবকের

কক্সবাজার জেলায় সর্বপ্রথম ভিন্ন আকারে ও ব্যতিক্রম পদ্ধতিতে বারোমাস জাতের তরমুজের চাষ করে রীতিমতো আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন এক যুবক। সীমান্ত উপজেলা টেকনাফে প্রথমবারের মতো বারোমাসি ‘সুইট বেবি’ জাতের এই তরমুজের চাষ করায় আকর্ষণ বেড়ে গেছে সকলের। কেননা, মোবাইলের ইউটিউব থেকে চাষ পদ্ধতি দেখে শখের বসে এ চাষ শুরু করেন মো. রুহুল কাদের রুবেল (৩৪) নামের এক যুবক। কতুবদিয়া মো. বড়কূপ চাঁদমিয়াপাড়া এলাকার নুরুজ্জামানের ছেলে সে।

প্রায় চার বছর আগে দ্বীপ উপজেলা কুতুবদিয়া থেকে ১৬০ কিলোমিটার দূরে কাজের সুবাদে টেকনাফে চলে যান রুহুল। তখন থেকে লেদা বাজারে এফএনএফ মেডিকো নামের একটি ফার্মেসী দেয়। স্ত্রী ও দুই মেয়ে আর এক ছেলেকে নিয়ে লেদা বাজারের পাশের জাদিমুরা এলাকায় ভাড়া বাসায় অবস্থান করেন। ফার্মেসীর পাশাপাশি অবসরে মোবাইলে ইউটিউব দেখেন। ক্ষেত খামারের ভিডিওগুলো বেশি দেখতেন। বাদ যায়নি তরমুজের ভিডিওগুলোও। ‘সুইট বেবি’ জাতের তরমুজ চাষ তার বেশ পছন্দ হয়। শখের বসে নিজেই চাষ করতে আগ্রহী হয়ে উঠেন। যুবকের যেমন ইচ্ছে তেমন কাজ। জানুয়ারি মাসে জমির মালিকদের সঙ্গে কথাবার্তা শুরু করে ১৬০ শতক জমি বর্গা নেয়। ফেব্রুয়ারি মাস থেকে মাঠে কাজ শুরু করেন। ‘সুইট বেবি’ নামের এই তরমুজ ধীরে ধীরে বড় হতে থাকে। এই মাস অর্থাৎ এপ্রিলের শেষে তরমুজ বিক্রির সম্ভাবনা খুব বেশি।

সরেজমিনে দেখা যায়, সীমান্ত উপজেলা টেকনাফ। রুহুল নামের এই যুবক শখের বসে উপজেলায় প্রথম সুইট বেবি জাতের তরমুজ চাষ করে স্বাবলম্বী হচ্ছেন। পাশাপাশি দেশের অর্থনীতি সমৃদ্ধ করছেন। হ্নীলা ইউনিয়নের দমিদমিয়া এলাকায় বর্গা জমিতে এ তরমুজ চাষ করে রুহুল। মঙ্গলবার (৬ এপ্রিল) দুপুরে তার সঙ্গে তরমুজ ক্ষেতে কথা হয়। পেশাগত কারণে তার পৈত্রিক নিবাস কুতুবদিয়া থেকে টেকনাফে চলে এসেছেন। জানান, এ-চাষে পরিশ্রম হলেও সুবিধা রয়েছে। ভালো দাম পাওয়া যায়। বারোমাস এ ফলগুলো বাজারে পাওয়া যায় বিধায় এর কদর খুব বেশি। অন্যান্য প্রজাতির তরমুজগুলো মৌসুম ভিত্তিক হলেও সুইট বেবি ভিন্ন। বছরের ৩৬৫ দিনই এই তরমুজগুলো বাজারে পাওয়া যাবে। তবে অন্যান্য তরমুজের চেয়ে এর দাম বেশি।

মাঠেও ভিন্নতা দেখা মেলে। অন্যান্য তরমুজ মাটির সঙ্গে লাগানো হলেও সুইট বেবি জাতের তরমুজ চাষ ভিন্ন। এটি মাটি থেকে উপরে মাচার সঙ্গে ঝুলে থাকে। মাটির সঙ্গে কোনো সংস্পর্শ নেই। সঙ্গে মালছিং পেপার ব্যবহার করতে হয়। মালছিং পেপারের কারণে প্রতিদিন পানি দেয়া লাগেনা। এ যেন আধুনিক পদ্ধতির চাষ। ওই যুবক লাভ লোকসানের কথা চিন্তা না করে শখের বসে কাজ শুরু করলেও আশানুরূপ লাভজনক হবার আশাবাদ ব্যক্ত করেন। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে আগামীতে আরও বিশালাকারের এই চাষ করার কথাও জানান তিনি। উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পর্যটন শহর কক্সবাজার জেলায় এরকম অর্থাৎ সুইট বেবি জাতের তরমুজ কোথাও চাষ করা হয়নি।

এ বিষয়ে উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. আনোয়ার হোসেন জানান, এই চাষটি কক্সবাজার জেলায় প্রথম। এ পর্যন্ত জেলার কোথাও চাষ হয়েছে বলে জানা নেই। এই চাষে নিয়মিত কারিগরি সাপোর্ট দেয়া হচ্ছে। উপজেলায় অনেক জায়গা খালি রয়েছে। এসব জায়গায় যুবকরা চাষ বা ক্ষেত খামার করলে অর্থনীতিভাবে স্বাবলম্বী হওয়া কোনো ব্যাপার না।

টেকনাফ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ড. ভবসিন্ধু রায় জানান, জেলার কোথাও সুইট বেবি জাতের তরমুজ চাষ করা হয়েছে কিনা তার জানা নেই। তবে উত্তরবঙ্গের দিকে হয়ে থাকে। যেহেতু এইখানে প্রথম। এই ক্ষেতকে গুরুত্ব-সহকারে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি নিয়মিত ভালো-মন্দ নজরে রেখে কারিগরি সাপোর্ট দেয়া অব্যাহত রয়েছে। এরকম যারা করবেন তাদেরকেও কারিগরি সহায়তা দেয়া হবে।

এসআর/

RTV Drama
RTVPLUS