logo
  • ঢাকা শুক্রবার, ১৬ এপ্রিল ২০২১, ৩ বৈশাখ ১৪২৮

জোয়ারের পানিতে প্লাবিত ৮৮ হেক্টর সবজি ক্ষেত

লোনা পানিতে ভেসে গেলো কৃষকের ভাগ্য!

The fate of the farmer was washed away in the salt water!, rtv
লোনা পানিতে ভেসে গেলো কৃষকের ভাগ্য!

পূর্ণিমার অস্বাভাবিক জোয়ারের পানিতে গত ৬ দিন ধরে দফায় দফায় প্লাবিত হচ্ছে নোয়াখালী দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার দুটি ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল। ফলে নলচিরা ও হরনী ইউনিয়নের কিছু জায়গায় বেড়িবাঁধ না থাকায় বিস্তীর্ণ এলাকা তিন-চার ফুট পানির নিচে তলিয়ে যাচ্ছে। কোথাও কোথাও পানির উচ্চতা আরও বাড়ছে। এতে তরমুজসহ রবিশস্যের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। জোয়ারের পানি লবণাক্ত হওয়ায় ক্ষতির পরিমাণ অনেক বেশী হয়েছে।

উপজেলা কৃষি বিভাগ থেকে আর্থিক সহায়তার জন্য ক্ষতিগ্রস্ত রবিশস্য কৃষকদের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে তারা ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও ক্ষতির পরিমাণ উল্লেখ করে একটি বিবরণ জেলা অফিসে পাঠিয়েছে। তাতে নলচিরা ইউনিয়নের তুফানিয়াগ্রাম, পঞ্চায়েত, লামছড়ি, কলাপাড়া, গচিঙ্গা ও হরণী ইউনিয়নের ইসলামপুর গ্রামসহ ৬টি গ্রামের ৮৮ হেক্টর জমির রবিশস্য লোনা পানিতে প্লাবিত হয়ে ব্যাপক ক্ষতির বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে। রোববার (২৮ মার্চ) থেকে উপজেলায় পূর্ণিমার প্রভাবে জোয়ারে পানির উচ্চতা বাড়ছে। প্রতিদিন চব্বিশ ঘণ্টায় দুবার জোয়ার হচ্ছে। প্রতিবার জোয়ারে অন্তত ৮-১০ ঘন্টা নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হচ্ছে।

নলচিরা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হুমায়ন কবির বাবলু জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ড প্রতিবছর হাতিয়ার নদীর তীরবর্তী এলাকায় বেড়িবাঁধ তৈরি করে। কিন্তু নলচিরা ও হরণী ইউনিয়নের কিছু এলাকায় দরপত্র আহ্বান করতে একটু দেরি হওয়ায় ঠিকাদার এখনো কাজ শুরু করতে পারেনি। এতে এসব এলাকা দিয়ে সহজে জোয়ারের পানি লোকালয়ে প্রবেশ করছে।

হরণী ইউনিয়নের চতলা ঘাট পানি ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি মো. আরিফ বলেন, জোয়ারে পানিতে প্লাবিত এসব এলাকার বহু কৃষক আদৌ কোনো ফসল ঘরে তুলতে পারবে কিনা, এনিয়ে আশঙ্কা রয়েছে। এরমধ্যে তরমুজের ক্ষতি হয়েছে সবচেয়ে বেশি। অনেক জায়গায় তরমুজ চাষিদের ডুবে যাওয়া খেত থেকে ফসল বাঁচানোর ব্যর্থ চেষ্টা করতে দেখা গেছে। আবার অনেক কৃষকদের লোকসান গুনে হা-হুতাশ করতে দেখা গেছে।

তুফানিয়া গ্রামের সবজি চাষী মো. খোকন (৬০) বলেন, এ বছর ৩ একর জমিতে তরমুজ, বাদাম ও মরিচের চাষ করেছে সে। কিন্তু যে সময় ফসল বিক্রি করার কথা ঠিক তার পূর্ব মুহূর্তে জোয়ারের পানিতে ভেসে গেছে সব। ৩ একর জমির মধ্যে সামান্য কিছু তরমুজ বিক্রি করতে পারলেও বাদাম ও মরিচ বিক্রির সময় এখনো হয়নি। জোয়ারের পানি আর না আসলেও লবণাক্ততা থাকায় পানি চলে যাবার পর সবজি গাছ মরে যাবে।

এ বিষয়ে হাতিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. নুরুল ইসলাম জানান, জোয়ারের পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের আর্থিকসহ অন্যান্য সহায়তা করার জন্য তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। যা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছানো হবে। এছাড়াও আগামী তিন-চারদিনের মধ্যে জোয়ারে পানির চাপ কমে আসবে বলেও জানান তিনি।

এসআর/

RTV Drama
RTVPLUS