Mir cement
logo
  • ঢাকা মঙ্গলবার, ২৬ অক্টোবর ২০২১, ১১ কার্তিক ১৪২৮

গুলিবর্ষণের ঘটনা নিয়ে যা বললেন সিটি মেয়র সাদিক আব্দুল্লাহ

মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ

বরিশাল নগরের থানা কাউন্সিল (উপজেলা পরিষদ) কম্পাউন্ডে ব্যানার-ফেস্টুন অপসারণ করাকে কেন্দ্র করে সিটি করপোরেশনের মেয়রসহ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের লক্ষ্য করে আনসারদের গুলিবর্ষণ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বাসভবনে হামলার ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পুলিশের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টা-ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে স্থানীয় ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগ নেতাদের।

বুধবার (১৮ আগস্ট) রাত সাড়ে ১০টার দিকে এ ঘটনার পর থানা কাউন্সিলসহ আশপাশের এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

এদিকে, এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার (১৮ আগস্ট) মধ্যরাতে গণমাধ্যম কর্মীদের কাছে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেছেন বরিশাল সিটি করপোরেশনের মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ।

মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ জানান, যে কাজ করতে গিয়ে এই ঘটনা, ওই কাজটি আমাদের নিয়মিত কাজ। এর আগে আমি আমার সংবাদ সম্মেলনে ব্যানার নিয়ে বলেছি, পুরনো ব্যানার বা ভুঁইফোড় সংগঠনের ব্যানারগুলো সরিয়ে ফেলার জন্য। এতে করে শহর পরিষ্কার হবে। আমি আমার নিজের ব্যানারটিও খুলে ফেলেছি।

ধারাবাহিকতা অনুযায়ী পরিষ্কার করতে করতে কর্মীরা থানা কাউন্সিলে গেছে। থানা কাউন্সিলের ভেতরে বিভিন্ন লোকজন, বিভিন্ন ব্যানার দেয়। সিটি করপোরেশনের লোকজন যেখানে কাজ করছিলো সেটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা’র (ইউএনও) বাসা না। ওখানে পুকুর আছে, যেখানে সাধারণ মানুষ গোসল করে, মসজিদ আছে, এছাড়াও অনেক অফিস আছে। ওখান থেকে পেছনে বসবাসকারী মানুষদের যাতায়াতের জন্য রাস্তাও রয়েছে।

সিটি করপোরেশনের কর্মীরা আমাকে জানিয়েছেন, ওখানে কাজ প্রায় শেষের দিকে ছিল, পরিষ্কার করে চলে আসবে সেই সময় ইউএনও সাহেব বের হয়ে সিটি করপোরেশনের কর্মীদের বলেন, কার কাছে জিজ্ঞাসা করে সেখানে গিয়েছে তারা। কর্মীরা বলেছে, তাদের গালাগালি করা হয়েছে। এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ইউএনও সাহেবের বাসায় হামলার অভিযোগ তোলা হয়েছে। কিন্তু ইউএনও’র বাসার গেটের ভেতরে কি ঢুকেছে তারা?। সেখানে আমাদের ১ নম্বর যুগ্ম সম্পাদক ছিলেন, প্রচার সম্পাদকের সঙ্গে সিনিয়রদের ঘটনা জানার জন্য সেখানে পাঠালাম।

মেয়ের আরও বলেন, আমাকে যখন বললো যে গুলি হচ্ছে, তখন বাসায় আমি। সিটি করপোরেশনের সিও, মহানগর আ. লীগের অনেক নেতারা উপস্থিত ছিলেন। আমি তাৎক্ষণিক একাই ঘটনাস্থলে চলে যাই। সিও সাহেবও পেছনে পেছনে রওনা দিলেন। যখন ঘটনাস্থলে গিয়ে হেলমেট খুলে কর্মীদের বললাম, তোমরা গেটের বাইরে দাঁড়াও কেউ ভেতরে যেও না। এরপর আমি একা থানা কাউন্সিলের গেট দিয়ে যখন ভেতরে যাওয়ার চেষ্টা করলাম এবং বললাম আমি বরিশাল সিটি করপোরেশনের মেয়র। তারা সে কথা শুনে অনবরত গুলি করা শুরু করল। এরমধ্যে পেছনে যে নেতা-কর্মীরা ছিলো তারা সকলে এসে মানবপ্রাচীর বানিয়ে আমাকে বাহিরে নিয়ে আসলো। তারপর ওখানে থেকে আমার খুবই খারাপ লাগছে, খুবই লজ্জা লাগছে। তাই আমি ওখান থেকে চলে আসছি। চলে আসার পরে শুনলাম আবারো গুলি হয়েছে। আমাদের প্যানেল মেয়র গাজী নঈমুল হোসেন লিটুকে রেখে আসছিলাম যাতে ওখানে অপ্রীতিকর কিছু না ঘটে।

আমি গুলিবিদ্ধ হয়নি, তবে আমাকে গুলি করা হয়েছে, আর সেগুলো আমার জ্যাকেটের কারণে শরীরের ভেতরে লাগেনি কিন্তু গায়ে প্রচণ্ড ব্যথা পেয়েছি। আর গুলির সময় নেতা-কর্মীরা সামনে চলে আসায় তাদের গায়েই গুলিগুলো লেগেছে। কতজনের গায়ে লেগেছে তা আমি হিসেব করে বলতে পারবো না। কতজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন সে বিষয়েও এখন কিছু বলতে পারবো না।

ব্যানারকে কেন্দ্র করে এমন ঘটনা ঘটতে পারে কিনা এ প্রশ্নের উত্তরে মেয়র বলেন, কি বলব বলেন? গুলি করা হয়েছে ওখানে। মেয়রের গায়ে পর্যন্ত গুলি করা হয়েছে। আমি ওখানে যাওয়ার পর পুলিশ কমিশনার সাহেব, র‌্যাবের সিও, আনসাররা গুলি করায় আনসারদের প্রধানকেও ফোন করেছি। কিন্তু আমি চলে আসার পর পুলিশ বের হয়ে আসার পরও আবারও নাকি গুলি হয়েছে।

মেয়র বলেন, মহানগর আ. লীগের এক নম্বর যুগ্ম সম্পাদককে যেহেতু আটকে রাখা হয়েছে, তাই হয়তো প্যানেল মেয়র গাজী নঈমুল হোসেন লিটু আলোচনার জন্য ভেতরে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন। তাকে গুলি করা হয়েছে, ৩৫-৩৭টি শটগানের গুলির পিলেট তার গায়েও লেগেছে। আমাদের সিটি করপোরেশনের প্রশাসনিক কর্মকর্তা স্বপন কুমার দাস ব্যানার উচ্ছেদের সময় থেকেই ওখানে ছিলেন। তার গায়েও গুলি লাগছে।

তিনি বলেন, ঘটনার অবশ্যই জোড়ালো তদন্ত চাইব এবং অবশ্যই আমরা আইনের আশ্রয় নেব। মেয়র হিসেবে এভাবে দায়িত্ব পালন করা সম্ভব না। আমি মেয়র হিসেবে তাহলে ব্যর্থ। প্রধানমন্ত্রী আমাকে শপথ পড়িয়েছেন, আমার বাবা আছেন তারা সিদ্ধান্ত নেবেন। যদি আমার অপরাধ হয়ে থাকে, আমি আমার রেজিগনেশন লেটার দিয়ে দেব।

মেয়র আরও বলেন, আপনার সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়ে থাকলে আমাকে বলতে পারতেন। বরিশালে এতো বছরে এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি, যে এভাবে আমাদের গুলি করা লাগবে। আবার শুনলাম যারা আহত হয়েছে তাদের গ্রেপ্তার করার জন্য মেডিকেলে গেছে। তাহলে ঠিক আছে, অপরাধ হয়ে থাকলে তাদের হয়নি, আমি মেয়র মাথা পেতে নিলাম আমি রেজিগনেশন লেটার প্রধানমন্ত্রীর কাছে দিয়ে দেব।

সবশেষে মেয়র বলেন, কর্মর্কতা-কর্মচারী ও নেতা কর্মীদের চিকিৎসার খোঁজ নেয়া হচ্ছে, অনেককে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে আমার মন খারাপ হয়ে যাওয়ায় আমি বাসায় চলে আসি। তারপরও অনেকে বলে আমার মাথা গরম, মাথা গরম হলে তো ওই জায়গায় অনেক কিছু হতে পারতো।

এসআর/

মন্তব্য করুন

RTV Drama
RTVPLUS