logo
  • ঢাকা শনিবার, ১৬ জানুয়ারি ২০২১, ২ মাঘ ১৪২৭

ধর্ষণের শিকার গৃহবধূকেই ১ লাখ টাকা জরিমানা করলো ইউপি চেয়ারম্যান 

নাটোরে ধর্ষণের শিকার এক গৃহবধূকে এক লাখ টাকা জরিমানা করলো ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান এবং স্থানীয় প্রধানরা। 

মঙ্গলবার (৯ জুন) রাতে নাটোর সদর উপজেলার তেবাড়িয়া ইউনিয়নের বালিয়াডাঙ্গা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এসময় সালিশে আসতে দেরি করায় ধর্ষিত গৃহবধূর বাবাকে ১ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

নাটোর সদর থানার অফিসার ইনচার্জ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের এক গৃহবধূকে গত ২৯ মে শুক্রবার রাতে ধর্ষণের সময় তার চিৎকারে অভিযুক্ত অমর কুমারকে হাতেনাতে আটক করে এলাকাবাসী। পরে অভিযুক্ত অমরকে পুলিশে সোপর্দ করলে ৩০ মে শনিবার নাটোর সদর থানায় অমর কুমারকে আসামী করে ধর্ষণ মামলা করেন ভুক্তভোগী গৃহবধূ। পরে পুলিশ অমরকে জেল হাজতে পাঠায়। এরপর গতকাল মঙ্গলবার রাতে গ্রামে সালিশ ডেকে ভুক্তভোগী গৃহবধূকে অন্য ধর্মের ছেলে অমরের সাথে শারীরিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ার অপবাদ দিয়ে এক লাখ টাকা জরিমানা করে। এ সময় গৃহবধূর বাবা সালিশে আসতে দেরি করার অপরাধে এক হাজার টাকা জরিমানা করে চেয়ারম্যান ওমর আলী প্রধান এবং অন্যান্য প্রধানগণ।

খবর পেয়ে রাত ১১টার দিকে বালিয়াডাঙ্গা গ্রামে অভিযান চালিয়ে রুহুল আমিন এবং সোবহান আলী নামে দুই প্রধানকে আটক করে নিয়ে আসে পুলিশ। তবে তেবাড়িয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ওমর আলী প্রধান এবং বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের বড় প্রধান আব্দুল হাকিম পালিয়ে যান।

নাটোরের পুলিশ সুপার লিটন কুমার সাহা বলেন, রাতে খবর পেয়ে অভিযুক্ত প্রধানদের আটক করে আনা হয়। ধর্ষণ মামলার কোনও শালিস করার এখতিয়ার কারো নেই। এ ব্যাপারে ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন পুলিশ সুপার।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত চেয়ারম্যান ও নাটোর জেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য এবং তেবাড়িয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ওমর আলী প্রধান মোবাইল ফোনে বলেন, ‘সেই নারীর অপরাধে তার দুবাই প্রবাসী স্বামী এক লাখ টাকা জরিমানা দিতে চান। সেই টাকার কথাই সালিশে বলা হয়েছে।

এসএস

RTV Drama
RTVPLUS