logo
  • ঢাকা শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২০, ১৪ চৈত্র ১৪২৬

সিলগালা গুদাম খোলার অপরাধে খাদ্য গুদামের পরিদর্শকসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে মামলা

ভৈরব প্রতিনিধি, আরটিভি অনলাইন
|  ২৩ মার্চ ২০২০, ১৫:২৫
সিলগালা গুদাম খোলার অপরাধে খাদ্য গুদামের পরিদর্শকসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে মামলা
ছবি: সংগ্রহীত

কিশোরগঞ্জে সিলগালা করা গুদাম খোলার অভিযোগে ভৈরব সরকারি খাদ্য গুদামের পরিদর্শক কামরুল হাসান ও ঠিকাদার ফারদুল্লাহসহ ১০ শ্রমিককে আটক করা হয়েছে।

মহাপরিচালকের নির্দেশে ভৈরব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লুবনা ফারজানা তাদের খাদ্য গুদাম থেকে পুলিশের সহায়তায় আটক করেন। এ সময় খাদ্য বিভাগের কিশোরগঞ্জ জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ তানভীর হোসেন তার সঙ্গে ছিলেন।

আটককৃত শ্রমিকরা হলেন- গুদামের সরদার আবদুস সালাম, শ্রমিক আ. হান্নান, ফরিদ মিয়া, সোহরাব হোসেন, তাজুল ইসলাম, মিটন, মহন মিয়া, লোকমান হোসেন, বরজু মিয়া ও রউফ মিয়া। তাদেরকে আটক করার পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পুনরায় গুদামটি সিলগালা করে দেন।

এছাড়াও ইউএনও লুবনা ফারজানার উপস্থিতি টের পেয়ে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা মো. শরীফ মোল্লা পালিয়ে যায়।

এ ঘটনায় ৩ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সারোয়ার মাহমুদ। খাদ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক ড. এস এম মহসিনকে প্রধান করে এই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সারোয়ার মাহমুদ (২১ মার্চ) গত শনিবার সকালে আশুগঞ্জ সাইলো পরিদর্শনে আসেন। সেখান থেকে দুপুরের দিকে পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই ভৈরব বাজারে সরকারি খাদ্য গুদাম পরিদর্শনে এসে ২ নম্বর ও ৩ নম্বর গুদামের ভেতরে চাল মজুতে ঘাটতিসহ বস্তায় নতুন চালের বদলে পুরনো চাল দেখতে পান। পরে তিনি মই দিয়ে খামালের উপড়ে ওঠেন এবং ভেতরে ফাঁকা বা বস্তার ঘাটতির রয়েছে দেখেন। ফলে গুদামের এই অবস্থা দেখে দু’টি গুদামই সিলগালা করে দেন।

এছাড়াও গুদামের সীমানা প্রাচীর ভেঙ্গে ঠিকাদারের নামে একটি অটো রাইচ মিলে অবাধ চলাচলের জন্য রাস্তা দেখতে পান তিনি। পরে রাস্তাটি দ্রুত বন্ধের জন্য কিশোরগঞ্জ জেলা খাদ্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ তানভীর হোসেনকে নির্দেশ দেন মহাপরিচালক সারোয়ার মামুদ। এসময় উপস্থিত ছিলেন খাদ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক (প্রশাসন) জহিরুল ইসলাম খান।

পরের দিন (২২ মার্চ) রোববার জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা মোহাম্মদ তানভীর হোসেন গুদামে বিকেলে এসে সিলগালা করা গুদামের তালা ভেঙ্গে ভেতরে শ্রমিকরা কাজ করছে এমন দৃশ্য তার নজরে পড়ে। এ বিষয়ে তিনি জানতে চাইলে গুদামের ঠিকাদার ফারদুল্লাহ এবং গুদামের (ভারপ্রাপ্ত) কর্মকর্তা কামরুল হাসান তারা কোন সঠিক উত্তর দিতে পারেনি। পরে বিষয়টি জেলা খাদ্য কর্মকর্তা মুঠোফোনে মহাপরিচালক সারোয়ার মাহমুদকে অবহিত করেন। পরে খাদ্য অধিদপ্তরের নির্দেশে পুলিশ সদস্য নিয়ে গুদামে হাজির হয় ইউএনও লুবনা ফারজানা।

এসময় সিলগালা করা গুদামের তালা ভেঙ্গে ভেতরে শ্রমিক দিয়ে ঘাটতি পূরণের সময় ১০জন শ্রমিকসহ ঠিকাদার ফারদুল্লাহ ও গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কামরুল হাসান আটক করেন। সেই সঙ্গে পুনরায় গুদামটি সিলগালা করে দেন ইউএনও। এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিমাদ্রি খ্রিশা। এছাড়াও খবর পেয়ে ঢাকা বিভাগীয় আঞ্চলিক খাদ্য কর্মকর্তা তপন কুমার দাস রাতেই গুদাম পরিদর্শনে আসেন।
 
এ ব্যাপারে ইউএনও লুবনা ফারজানা জানান, অধিদপ্তরের নির্দেশে সিলগালা করা গুদামের তালা ভাঙ্গার দায়ে ঘটনাস্থল থেকে ১০জন শ্রমিকসহ ঠিকাদার ও গুদামের (ভারপ্রাপ্ত) কর্মকর্তাকে আটক করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, আটককৃতদের বিরুদ্ধে পরবর্তী পদক্ষেপ নিবেন খাদ্য অধিদপ্তর।

সরকারের বিশ্বাস ভঙ্গ এবং সিলগালা করা গুদামের তালা ভেঙ্গে নয়ছয়ের দায়ে গুদাম কর্মকর্তা ও ঠিকাদারসহ ১২জনকে আসামী করে দুদকসহ পৃথক দু’টি মামলা দায়ের করেছে খাদ্য অধিদপ্তর বলে জানিয়েছেন ভৈরব থানার ওসি মোহাম্মদ শাহীন। তিনি আরও বলেন, আটক হওয়া গুদাম কর্মকর্তা ও ঠিকাদারসহ ১২জনকেই সোমবার সকালে কিশোরগঞ্জ কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

এজে

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
  • দেশজুড়ে এর সর্বশেষ
  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়