ঢাকা মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩

রাজশাহী স্টেশন আধুনিক হলেও লোকবলের সংকট রয়েছে পশ্চিমাঞ্চল রেলে (ভিডিও)

আমির ফয়সাল, রাজশাহী

প্রকাশ : ০৪ মার্চ ২০২০, ১২:৪০ পিএম
রাজশাহী রেলস্টেশন

ভৌগলিক অবস্থান ও যুগের চাহিদায় রাজশাহীর রেলপথ ও স্টেশন স্থাপিত হয় ১৯৩০ সালে। বাংলাদেশ রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চল হেড কোয়ার্টার রাজশাহীতে হওয়ায় সবসময় গুরুত্ব পায় রাজশাহী রেলস্টেশন। এ স্টেশনের যাত্রী সেবার মান, টিকিটিং সিস্টেম, সময়মতো ট্রেন ছাড়াসহ স্টেশনের পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা থাকলেও আরও আধুনিকতার ছোঁয়া আগামীতে লাগতে যাচ্ছে বলে জানান রেলের কর্তা ব্যক্তিরা। তবে পশ্চিমাঞ্চল রেলে লোকবলের সংকটের কারণে প্রায় ৫০টি স্টেশনে যাত্রী সেবায় ঘাটতি রয়েছে। আর রেলের শিডিউল বিপর্যয় ও কিছুদূর পরপর ক্রসিংয়ের কারণে ট্রেন থেমে যাওয়ায় সময়মত গন্তব্যে পৌঁছতে পারছেন না রেল ভ্রমণকারী যাত্রীরা।

রাজশাহীর ঐতিহ্য ও কৃষ্টি কালচার নিয়ে গবেষণারত মাহাবুব আলম সিদ্দিক্কী জানান, ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটাতে রাজশাহী অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগের কারণে ব্রিটিশ সরকারের নর্দান বেঙ্গল অ্যাস্টেট রেলওয়ে তৈরি করে আব্দুলপুর থেকে আমনুরা পর্যন্ত ব্রডগেজ রেললাইন ও রাজশাহী রেলস্টেশন। একই সময়ে নন্দনগাছী, আড়ানী ও সরদাহ রোড স্টেশন তৈরি হয়। রাজশাহী স্টেশন থেকে সে সময়ে যাত্রীবাহী ট্রেনের চেয়ে মাল আনা নেয়ার গুরুত্ব ছিল বেশি। সে আমল থেকেই এ অঞ্চলে সবজিসহ অন্যান্য ফসল এখান থেকে কলকাতাসহ বিভিন্ন অঞ্চলে যেত আর সেখান থেকে খুব সহজেই এ অঞ্চলের মানুষের প্রয়োজনীয় জিনিষ রেল যোগাযোগের মাধ্যমে এ অঞ্চলের মানুষের কাছে পৌঁছতো। ফলে খুব তাড়াতাড়ি রাজশাহীর বাণিজ্যিক ও সাস্কৃতিক উন্নয়ন ঘটতে থাকলো। এ ছাড়াও সে সময় থেকেই রাজশাহী শিক্ষা নগরী হওয়ায় দূর-দূরান্ত থেকে খুব সহজেই আসতে পারতো শিক্ষার্থীরা। প্রথম দিকে রাজশাহী স্টেশন থেকে লোকাল ও মেইল মিলে চারটি ট্রেন চলাচল করতো। রাজশাহী স্টেশনের প্রথম স্টেশন মাস্টার হিসেবে ছিলেন জ্ঞনতাপস ইবনে গোলাম সামাদের পিতা ইয়াসিন।

ষাটের দশকের শুরুতে ঢাকা থেকে রাজশাহী রেল স্টেশনে জনসভায় অংশ নিতে আসেন বঙ্গবন্ধু।

তিনি জানান, আশির দশকে শুরুতে রাজশাহীতে গড়ে ওঠে পশ্চিমাঞ্চল রেলের হেড কোয়ার্টার তার পর থেকেই দৃশ্যপট পাল্টাতে থাকে রাজশাহী রেলের এবং ২০০৩-৪ সালে স্টেশনটি রিমডেলিং এর কাজ সম্পূর্ণ হলে নতুন রূপ পায় রাজশাহী রেল স্টেশনটি। এরপর কলেবর বৃদ্ধি হয়, বৃদ্ধি হয় লোকবল। আস্তে আস্তে বিভিন্ন সময়ের বিভিন্ন সমস্য দূর হতে থাকে এবং বর্তমানে রাজশাহী রেল স্টেশনটি বাংলাদেশের মধ্যে একটি মডেল রেলস্টেশন।

রেলের যাত্রীরা সেবার মানে খুশি হলেও যাত্রীরা জানান, রেল যাত্রা এখন মানুষ বেশি পছন্দ করে কিন্তু শিডিউল বিপর্যয়ের কারণে যাত্রীদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়। এছাড়াও বনলতা নন-স্টপ ট্রেন হওয়ার পরও অনেকগুলো স্টেশনে থেমে যায় ফলে সময় মতো গন্তব্যে পৌঁছে না সেদিকে কর্তৃপক্ষের নজর দেয়া দরকার।

রাজশাহী রেলের সাবেক প্রধান পার্সেল সহকারী রাব্বীল আলী জানান, আমি এই স্টেশনে ২৮ বছর চাকরি করেছি যত দিন গেছে ততই এই স্টেশনের পরিবর্তন দেখেছি। আগে এই স্টেশনের প্লাটফর্ম নিচু ছিল। ট্রেনে উঠতে হলে ক্লাইম্বিং করে অনেক কষ্ট করে ট্রেনে উঠতে হতো। বর্তমানে স্টেশনটি রিমডেলিং হওয়ার পর এক কদম ফেললেই যে কেউই ট্রেনে উঠতে পারে। অতীতের সেই দুই রুমওয়ালা স্টেশন বদলে এখন রাজশাহী স্টেশনের বর্তমানকে অনুকরণ করা যায় বলে মনে করেন তিনি।

এখানে রয়েছে ডিজিটাল বোর্ডে বর্ণমালার ক্রমানুসারে বগি নাম্বার, মাতৃদুগ্ধ কর্নার, নামাজ ঘর, বিভিন্ন শ্রেণির যাত্রীদের বিশ্রামাগারসহ প্লাটফর্মে বসার চেয়ার রয়েছে। পরিষ্কারর পরিছন্নতার দিক দিয়েও রয়েছে এ স্টেশনের সুনাম। অন লাইনসহ কাউন্টারের মাধ্যমে টিকিট প্রাপ্তির ব্যবস্থা। বর্তমানে রাজশাহী রেল স্টেশন থেকে ১০ থেকে ১২ হাজার যাত্রী প্রতিদিন বিভিন্ন গন্তব্যে যাতায়াত করেন। এ স্টেশন থেকে মোট ২৪ জোরা আন্তঃনগর ট্রেন চলাচল করে। এছাড়াও এ রেল স্টেশনে কমিউটার ও লোকাল ট্রেনও চলাচল করে বিভিন্ন রুটে। ৮০ দশকের চেয়ে প্রায় তিনগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে রাজশাহী স্টেশন থেকে ছেড়ে যাওয়া আন্তঃনগর ট্রেনের সংখ্যা। এ কারণে রেললাইন বৃদ্ধির কাজও চলছে এ রেলস্টেশনে বলে জানান বাংলাদেশ রেলওয়ের রাজশাহী স্টেশনের প্রথম স্টেশন ম্যানেজার আব্দুল করিম।

এদিকে রাজশাহী স্টেশনসহ পশ্চিমাঞ্চল রেলের আরও আধুনিকায়ন হতে যাচ্ছে। কিন্তু যেভাবে কোচ আনা হচ্ছে, লোকমোটিভ আনা হচ্ছে, ট্রেনের সংখ্যা আরও বাড়ানো হচ্ছে, নতুন নতুন স্টেশন বাড়ছে কিন্তু জনবল সেভাবে বাড়ানো হচ্ছে না। তাই খুব অল্প সময়ের মধ্যে জনবল বৃদ্ধি করে ৫০টির অধিক স্টেশনের যাত্রী সেবার মান বৃদ্ধি, হাইস্পিড ট্রেন চলাচল করতে পারবে এমন লাইন স্থাপনসহ রাজশাহী-কলকাতা সরাসরি ট্রেন চালুর সম্ভাবনার কথা রয়েছে।

পশ্চিমাঞ্চল রেলের সমস্ত লাইন ও ব্রিজ সংস্কার ও নতুনভাবে তৈরির প্রস্তাবনা তৈরি হচ্ছে। পদ্মা সেতুতে গাড়ি চলাচল শুরু হলে ট্রেন কানেকশন চালু হবে বলে জানান বাংলাদেশ রেলেওয়ে পশ্চিমাঞ্চলের জিএম মিহির কান্তি গুহ।

তিনি বলেন, পণ্য পরিবহনের জন্য শিগগিরিই ১০টি ইঞ্জিন আনা হচ্ছে। ফলে ভারতীয় পণ্য আরও বেশি পরিমাণে আমদানি করা যাবে। তিনি জানান বঙ্গবন্ধু সেতুরে ওপর দিয়ে যেখানে ২৪টি ট্রেন যাতায়াতের ক্যাপাসিটি রয়েছে সেখানে এখন চলাচল করে ৪২টি ট্রেন। অর্থাৎ দ্বিগুণের বেশি ট্রেন চলাচলের কারণে শিডিউল বিপর্যয় ঘটছে। এই অবস্থায় সরকার দ্বিতীয় বঙ্গবন্ধু সেতুর প্রথম পিলার আগামী ১৭ মার্চের পূর্বে উদ্বোধন করবেন ফলে আগামীতে এ সেতুটি নির্মাণ হলে পশ্চিমাঞ্চল রেলের গতিশীলতা ও পরিধি আরও বৃদ্ধি পাবে।

জেবি

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
শিক্ষকের পরিবারের নারী সদস্যকে গালিগালাজ, এলাকাবাসীর মানববন্ধন
মাদারীপুরে একেডি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বাবুল চন্দ্র নাগ ও তার পরিবারের নারী সদস্যকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও হত্যার হুমকি দেয়ার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে শিক্ষার্থী-শিক্ষক, অভিভাবক ও এলাকাবাসী।  বৃহস্পতিবার কালকিনি উপজেলার ডাসার থানাধীন দর্শনা বাজারে এই মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করা হয়। ব্যানার-ফেস্টুন হাতে ঘণ্টাব্যাপী চলা মানববন্ধনে প্রধান শিক্ষক ও তার পরিবারকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও হত্যার হুমকি দেয়ার প্রতিবাদ জানানো হয়।  এ সময় বক্তারা দ্রুত এই ঘটনার সাথে জড়িত ও অভিযুক্ত ডাসার ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান কাজী সবুজের বিচার দাবী করেন। গত ২৮ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৭টার দিকে বিদ্যালয়ের কমিটি করাকে কেন্দ্র করে কালকিনি উপজেলার ডাসার ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান কাজী সবুজ একেডি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বাবুল চন্দ্র নাগের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের নারী সদস্যসহ প্রধান শিক্ষককে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও হত্যার হুমকি দেন বলে অভিযোগ ওঠে। এরই প্রতিবাদ ও দোষীর বিচারের দাবীতে অনুষ্ঠিত হয় এই মানববন্ধন। উল্লেখ, ২০১৭ সালের ১৭ অক্টোবর ইয়াবাসহ ডাসার থানা পুলিশের হাতে আটক হয় ইউপি চেয়ারম্যান কাজী সবুজ। পরে পুলিশের দায়ের করা মামলায় তাকে পাঠানো হয় কারাগারে। এর আগে ২০১১ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর চুরি, ডাকাতি ও অস্ত্র মামলায় তাকে গ্রেফতার করে জেলার  গোয়েন্দা পুলিশ। এছাড়া তার বিরুদ্ধে মাদক সেবন ও বিক্রিসহ নানা অভিযোগে এনে পদত্যাগ দাবী করে একাধিকবার বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেন এলাকাবাসী। তবুও টনক নড়েনি প্রশাসনের। জিএ
শিক্ষকের পরিবারের নারী সদস্যকে গালিগালাজ, এলাকাবাসীর মানববন্ধন
দেশের প্রথম বঙ্গবন্ধু নৌকা জাদুঘরের উদ্বোধন
দেশের প্রথম বঙ্গবন্ধু নৌকা জাদুঘরের উদ্বোধন করা হয়েছ। মুজিববর্ষ উপলক্ষ্যে উপকূলীয় জেলা বরগুনায় নির্মাণ করা হয়েছে এ জাদুঘরের। দেশ-বিদেশের বিভিন্ন নকশার একশ’টি নৌকার অনুকরণে শুরু হল এই জাদুঘরের। বরগুনা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সংলগ্ন ৭৮ শতাংশ জমির ওপর স্থাপন করা হয়েছে জাদুঘরটি। বিশাল নৌকার আদলে তৈরি এ জাদুঘরটির দৈর্ঘ্য ১৬৫ ফিট এবং প্রস্থ ৩০ ফিট। এখানে থাকবে নৌকা গবেষণা কেন্দ্র, আধুনিক পাঠাগার, বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ কর্নার, শিশু বিনোদন কেন্দ্র এবং ফুড কর্নারসহ নানা আয়োজন। জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহর পরিকল্পনা ও প্রচেষ্টায় মহামারি করোনা প্রতিকূলতার মাঝেও মাত্র ৮১ দিনে সম্পন্ন হয় দেশের প্রথম নৌকা জাদুঘর নির্মাণের কাজ। বৃহস্পতিবার (৩১ ডিসেম্বর) বিকালে জাদুঘরটির উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক। এসময় জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ স্থানীয় সামাজিক সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দরা উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ। নদীমাতৃক দেশের প্রধান বাহক হিসেবে হাজার হাজার বছর ধরে ব্যবহার হয়ে আসছে এই নৌকা। মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়ও পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে দুঃসাহসিক বিভিন্ন অভিযানে নৌকা ব্যবহার করেছেন মুক্তিযোদ্ধারা। দেশের ইতিহাস-ঐতিহ্যের সাথে মিশে আছে এই নৌকা। বঙ্গবন্ধু জাদুঘরটির মাধ্যমে বিলুপ্তপ্রায় বিভিন্ন অনুকরণের নৌকার দেখা পাবে দেশের নতুন প্রজন্মরা- এমনটাই ভাবছেন স্থানীয় সচেতন মহল। জিএ 
দেশের প্রথম বঙ্গবন্ধু নৌকা জাদুঘরের উদ্বোধন
ছুরিকাঘাতে কয়লা শ্রমিকের মৃত্যু, ছিনতাইকারী আটক
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতে এহসানুল হক নামে এক কয়লা শ্রমিক হত্যকান্ডে জড়িত এক ছিনতাইকারীকে আটক করেছে পুলিশ।  বুধবার (৩০ ডিসেম্বর) রাতে শহরের চন্ডিবের খাঁ বাড়ি এলাকা থেকে স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাকে আটক করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের প্রায় ৪৮ঘন্টা পর পুলিশ ঘটনার মুলহোতা এবং শহরের চিহ্নিত ছিনতাইকারী ইমনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে। ইমন পৌর শহরের ভৈরবপুর মধ্যপাড়ার আড়াই বেপারীর বাড়ির মৃত মাসুদ মিয়ার ছেলে।  আজ বৃহস্পতিবার এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন ভৈরব থানার ওসি মো. শাহিন।  জানা গেছে, শহরের দুর্জয় মোড়ের পূর্ব পাশে গত সোমবার রাত সাড়ে দশটার দিকে এহসানুল হক নামে এক কয়লা শ্রমিক ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। নিহত শ্রমিক সুনামগঞ্জের বিশম্ভপুর উপজেলার বাঘগাঁও গ্রামের হিরু মিয়ার ছেলে। বিয়ের মাত্র দুই মাস পর নিহত এহসানুল তার এক চাচাসহ তারা দু’জন গত দু’সপ্তাহ আগে ভৈরবে কাজের সন্ধানে এসে ছিলেন। পরে কয়েক দিন শ্রমিকের কাজ করে কিছু টাকা জমান। পরে জমানো টাকা নিয়ে গত সোমবার রাতে তারা দুর্জয় মোড় থেকে বাড়ী যাবার সময় বাসে উঠার আগে ছিনতাইকারীদের কবলে পড়ে। একই সাথে ছিনতাইকারীদের ধারালো ছুরির আঘাতে এহসানুল গুরুতর আহত হয়। পরে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে চিকিৎসক মৃত বলে ঘোষণা করেন।  এ ঘটনায় পরের দিন মঙ্গলবার দুপুরে উত্তেজিত শত শত কয়লা শ্রমিকরা হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল বের করে। ফেরিঘাট থেকে মিছিল নিয়ে শ্রমিকরা ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের দুর্জয় মোড় প্রদক্ষিণ করে ভৈরব থানায় প্রবেশ করে। পরে পুলিশ হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করার আশ্বাস দিলে তারা ফিরে যায় এবং কাজে যোগ দেয়।  এছাড়াও এদিন (মঙ্গলবার) রাতেই নিহতের চাচা আজিজুল হক বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা দু’জনকে আসামি করে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মুঠোফোনে ভৈরব থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শাহিন জানান, ঘটনার পর থেকেই পুলিশ মাঠে নামে এবং প্রকৃত অপরাধীকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে। জিএ
ছুরিকাঘাতে কয়লা শ্রমিকের মৃত্যু, ছিনতাইকারী আটক
পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় ১১ জন আটক
চট্টগ্রামের আকবরশাহ এলাকায় পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় শীর্ষ সন্ত্রাসী নুরুর ১১ সহযোগীকে দেশীয় অস্ত্রসহ আটক করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (৩১ ডিসেম্বর) ভোর ৫টার দিকে ঝিল এলাকার গহীন পাহাড়ে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে ইয়াবা, ছুরি, চাপাতি সহ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করে পুলিশ। গত শনিবার শীর্ষ সন্ত্রাসী ও ১৭ মামলার আসামি নুরুকে খুঁজতে গেলে পুলিশের উপর হামলা চালায় তার সহযোগীরা। এ সময় ৪ পুলিশ সদস্য আহত হয়। এসময় আটক করা হয় নুরুর সেকেন্ড ইন আজমকে।  আটককৃতদের মধ্যে হামলার ঘটনায় কয়েকজন জড়িত বলে জানিয়েছেন আকবরশাহ থানার ওসি জহির হোসেন।   পুলিশের উপর হামলার ঘটনায় শনিবার রাতে আকবর শাহ থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঝিল এলাকায় সরকারী পাহাড়া কেটে আলিশান বাড়ী, সেমিপাকা ঘর, মসজিদ, এতিমখানা ও গরু-ছাগলের খামার তৈরি ও মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ রয়েছে নুরুর বিরুদ্ধে। জিএ
পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় ১১ জন আটক
নারায়ণগঞ্জে মসজিদে বিস্ফোরণ: সিআইডির চার্জশিট, নাম নেই তিতাস কর্মকর্তাদের
নারায়ণগঞ্জে মসজিদে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় প্রায় চার মাস তদন্ত শেষে পুলিশের দায়ের করা মামলায় ২৯ জনকে আসামি করে আদালতে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দিয়েছে তদন্তকারী সংস্থা সিআইডি পুলিশ। তবে চার্জশিট থেকে বাদ দেয়া হয়েছে তিতাস গ্যাসের অভিযুক্ত ৮ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে। বৃহস্পতিবার (৩১ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জের আদালতে চার্জশিট দাখিল করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ-সিআইডির নারায়ণগঞ্জ শাখার তদন্ত দল। চার্জশিটে প্রধান আসামি করা হয়েছে ওই মসজিদের পরিচালনা কমিটির সভাপতি আবদুল গফুর মিয়াকে (৬০)।  মামলায় প্রধান আসামি আবদুল গফুর মিয়া ছাড়াও অন্যান্য আসামিরা হলেন- সামসুদ্দিন সরদার (৬০), শামসু সরদার (৫৭), শওকত আলী (৫০), অসিম উদ্দিন (৫০), জাহাঙ্গীর আলম (৪০), শফিকুল ইসলাম উজ্জ্বল (৪৫), নাঈম সরদার (২৭), কাইয়ুম (৩৮), মামুন মিয়া (৩৮), আলমগীর সিকদার (৩৫), মাওলানা আল আমিন (৪৫), সিরাজ হাওলাদার (৫৫), নেওয়াজ মিয়া (৫৫), নাজির হোসেন (৫৬), আবুল কাশেম (৪৫), দেলোয়ার হোসেন, বশির আহমেদ (হৃদয়) (২৮), তানভীর আহমেদ (৪৫), আল আমিন (৩৫), আবদুল মালেক (৫৫), মনিরুল (৫৫), স্বপন মিয়া (৩৮), আসলাম আলী (৪২), আলী তাজম (মিল্কী) (৫৫), রিমেল (৩২), আরিফুর রহমান (৩০), মোবারক হোসেন (৪০) ও রায়হানুল ইসলাম (৩৬)।  তবে তাদের বিস্তারিত পরিচয় এখন পর্যন্ত প্রকাশ করা হয়নি। সিআইডি পুলিশের নারায়ণগঞ্জ জেলার বিশেষ পুলিশ সুপার নাসির উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সরকারি বিধিনিষেধ থাকায় তিতাসের অভিযুক্ত আট কর্মকর্তা-কর্মচারিকে আপাতত চার্জশীটে লিপিবদ্ধ করা না হলেও তাদেরকে মামলায় রাখা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে  অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অনুমোদন পেলেই তাদেরকে আসামি হিসেবে চার্জশীটে সম্পৃক্ত করা হবে। তবে ক্যামেরার সামনে কথা বলতে রাজি হননি তিনি। নারায়ণগঞ্জ কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক আসাদুজ্জামান জানান, সিআইডি আদালত পুলিশের কাছে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় চার্জশিট জমা দিয়েছে। রোববার তা আদালতে পেশ করা হবে। উল্লেখ্য, গত ৪ সেপ্টেম্বর রাতে এশার নামাজ চলাকালে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লা থানার পশ্চিম তল্লা এলাকার বাইতুস সালাত জামে মসজিদে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। মসজিদের অভ্যন্তরে বিদ্যুতের অবৈধ সংযোগ থেকে স্পার্ক ও অবৈধ গ্যাস পাইপ লাইনের লিকেজ থেকে জমে থাকা গ্যাসের মিশ্রনে এই বিস্ফোরণ হয়েছে বলে জানিয়েছে তদন্ত সংস্থা সিআইডি পুলিশ। এই বিস্ফোরণে ৩৭ জন গুরুতর দ্বগ্ধ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হলে তাদের মধ্যে ৩৪ জন মারা যান। জিএ
নারায়ণগঞ্জে মসজিদে বিস্ফোরণ: সিআইডির চার্জশিট, নাম নেই তিতাস কর্মকর্তাদের
আরও পড়ুন
অবশেষে রাবি রেজিস্ট্রারের পদত্যাগ
সামনে বসা নিয়ে বিএনপির সমাবেশে হাতাহাতি
ইমোতে প্রেম-বিয়ে, ১১ লাখ টাকা নিয়ে লাপাত্তা
রাবির বিদেশি শিক্ষার্থীরা ক্লাসে ফিরতে চায়