logo
  • ঢাকা সোমবার, ০৬ এপ্রিল ২০২০, ২৩ চৈত্র ১৪২৬

করোনা আপডেট

  •     ভারতে গত ২৪ ঘণ্টায় ৪৭২ জনসহ মোট আক্রান্ত ৩৩৭৪, মৃত্যু ১১ জনসহ বেড়ে ৭৯: স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে একদিনে রেকর্ড সংখ্যক আক্রান্ত ১৮ জন, মৃত্যু ১, সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন ৫৫ জন: স্বাস্থ্যমন্ত্রী। আক্রান্তের সংখ্যায় সবার উপরে যুক্তরাষ্ট্র যার সংখ্যা ৩ লাখ ৮ হাজার ৬০৮ জন, মৃত্যু হয়েছে ৮ হাজার ৩৯৭ জনের, বিশ্বব্যাপী মোট মৃত্যু ৬৪ হাজার ৬৬৭ জনের, সাড়ে ১২ লাখেরও বেশি মানুষ আক্রান্ত: ওয়ার্ল্ডোমিটার। সবচেয়ে খারাপ অবস্থা নিউইয়র্কের, আক্রান্ত ১ লাখ ১৪১৭৪, মৃত্যু ২৬২৪ জন: সিএএএন।

বিলুপ্তির পথে দেশের দ্বিতীয় রেলস্টেশনটি

রাজবাড়ী প্রতিনিধি, আরটিভি অনলাইন
|  ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১৫:৩১ | আপডেট : ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১৭:১৯
স্টেশন শহর বাংলাদেশ
দুরবস্থায় দেশের দ্বিতীয় রেলস্টেশন, ছবি: আরটিভি অনলাইন
রাজবাড়ী বাংলাদেশের দ্বিতীয় রেলওয়ে স্টেশন। রাজবাড়ী মূলত রেলের শহর। ১৮৬১ সালে ব্রিটিশ আমলে তৈরি রেলস্টেশনটি এখন প্রায় বিলুপ্তির পথে। উন্নয়ন না হওয়ায় ও ট্রেনের সংখ্যা কমে যাওয়ায় স্টেশনটি স্থবির হয়ে পরেছে।

ত্রিশ বছর আগেও এ পথে ১২টি ট্রেন চলাচল করত। ওই সময় যাত্রী ও শ্রমিকদের কোলাহলে সারাক্ষণ রাজবাড়ী রেলস্টেশনটি প্রাণবন্ত ও মুখরিত থাকত। এখন তা চারদিকে শুধুই শুনশান নীরবতা। সংস্কারের অভাবে জরাজীর্ণ রেলস্টেশনে একটি মেইল, একটি আন্তঃনগর ও  একটি লোকাল ট্রেন ছাড়া আর কোনও ট্রেন থামে না।

ব্রিটিশ আমলে কলকাতা ও ঢাকার মধ্যে যোগাযোগ এবং পদ্মা পারে ব্যবসা বিস্তারের জন্য তৎকালীন রাজবাড়ীর জমিদার সূর্য কুমারের দেয়া কাচারি ঘিরেই রাজবাড়ী রেলস্টেশন ও পরে শহর গড়ে ওঠে।

৩০-৩২ বছর আগেও এ স্টেশন জুড়ে থাকত মানুষের ব্যস্ততা। জ্বলতো চকচকে আলো। সেখানে এখন ভুতুড়ে পরিবেশ। সকল ট্রেন না থামায় রাজবাড়ী স্টেশনে দিনের অধিকাংশ সময়ই থাকে নীরব। রাতে মাদকসেবী ও সন্ত্রসীদের আনাগোনা।

ব্রিটিশ আমলে তৈরি লাল স্টেশন ভবনটি এক সময়ের বিখ্যাত রাজবাড়ী রেলস্টেশন। ভবনে ফাটল ধরায় দুই বছর আগে পরিত্যক্ত ভবনটির ছাদ ভেঙে ফেলে নতুন করে ছাদ তৈরি করে কাজ চলছে। যাত্রীদের জন্য এ স্টেশনে নেই কোনও টয়লেটের ব্যবস্থা।

সবসময় বন্ধ থাকে ওয়েটিং রুম। সংস্কারের অভাবে ক্ষয়ে গর্ত গেছে প্লাটফর্ম।

১৯৮০ সালেও যেখানে ৩০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী ছিল এখন সেখানে এখন মাত্র ৭-৮ জন কর্মকর্তা দিয়ে কোনোরকমে চলছে স্টেশনটি। শ্রেণিগতভাবে স্টেশনটি প্রথম শ্রেণির হলেও মান্ধাতার আমলের অবকাঠামো আর জনবল সংকটের কারণে যাত্রীসেবা নেই বললেই চলে।

নিরাপদ ও সহজলভ্য ভ্রমণের জন্য এখানে দিন দিন যাত্রীর সংখ্যা বাড়লেও দূরের যাত্রীদের জন্য টয়লেট ব্যবস্থা ও বিশ্রামাগার না থাকায় কষ্ট পোহাতে হয় যাত্রীদের। সর্বোপরি রাজবাড়ী ও এর আশেপাশের রেলস্টেশনগুলোতে যাত্রীসেবার ন্যূনতম সুযোগ-সুবিধা বাড়েনি। প্রায় দুইশ বছরের পুরোনো ব্রিটিশদের গড়া ঐতিহ্যবাহী রাজবাড়ী রেলওয়ে স্টেশন। প্রথম শ্রেণির যাত্রীদের জন্য একটি মাত্র টয়লেট থাকলেও তা সব সময় বন্ধ থাকে। আর দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির যাত্রীর কোনও টয়লেট ব্যবস্থা নেই। তবে রেল কর্তৃপক্ষ  জানায়, ইচ্ছা থাকার পরেও জনবল সংকটের কারণে আশানুরূপ সেবা দেয়া সম্ভব হচ্ছে না।

বাংলাদেশে রেলওয়ের কার্যক্রম শুরু হয় ব্রিটিশ শাসনামলে। ১৮৬১ সালের ১৫ নভেম্বর বর্তমান বাংলাদেশ ভূখণ্ডে প্রথম রেলগাড়ি চলেছিল। এর এক বছর পর ইস্টার্ন বেঙ্গল রেলওয়ে কোম্পানির তৈরি সেই সময়ে ব্রডগেজ রেলপথ ধরে রানাঘাট থেকে দর্শনা ও জগতি হয়ে একটি ট্রেন এসে থেমেছিল রাজবাড়ীর এই রেলস্টেশনে। ঊনবিংশ শতাব্দিতে ইংল্যান্ডের বিভিন্ন রেল কোম্পানি ভারতবর্ষে শুধু অর্থনৈতিক কাজের জন্য রেলপথ চালু করে। তখন থেকে রেলকে ঘিরেই রাজবাড়ী শহর গড়ে উঠেছে।

ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য এ অঞ্চল বেশ গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় বর্তমান রাজবাড়ী জেলা শহরে রাজা সূর্যকুমারের কাচারির পাশে এই রাজবাড়ী রেলপথ ও স্টেশন নির্মিত হয়। পরবর্তীতে এখানে পদ্মার ইলিশ মাছ কলকাতায় পৌঁছানোর জন্য গোয়ালন্দ ঘাট পর্যন্ত এই রেল লাইন প্রসারিত করা হয়। ঢাকা থেকে স্টিমারের যাত্রী ও মাছ পরিবহনে এবং অর্থনৈতিক কাজে বেশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে এই  রেলস্টেশন।

প্রতিষ্ঠার শুরু থেকে ছয়টি রুটে প্রতিদিন ২০-২২টি ট্রেন রাজবাড়ী থেকে যশোর, রাজশাহী, দর্শনা, খুলনা, সৈয়দপুর, ভাটিয়াপাড়া, ফরিদপুর ও পার্বতীপুরসহ বিভিন্ন রুটে চলাচল করত। এসব ট্রেনের বেশির ভাগই ছিল যাত্রীবাহী ও মালবাহী। সে সময় এই স্টেশন দিয়ে দিনে এক হাজার থেকে ১৫০০০ লোক যাতায়াত করতো। বর্তমানে রাজবাড়ী স্টেশনের তিনটি প্লাটফর্মে প্রতিদিন যাত্রীবাহী তিনটি ট্রেন ও যমুনা সেতুর নির্মাণ কাজের পাথরবাহী আরও একটিসহ মোট চারটি ট্রেন দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আসা-যাওয়া করে। ট্রেন যাত্রা আরামদায়ক ও স্বাচ্ছন্দ্য ভেবে দিনে আড়াই হাজার থেকে তিন হাজার যাত্রী এসব ট্রেনে চড়ে বিভিন্ন রুটে যাতায়াত করে থাকে। এরপরও পরিবহন ট্রেনে মালামাল ওঠানামা করে থাকে।

রাজবাড়ী স্টেশনে অপেক্ষমাণ যাত্রীরা মনে করেন, এই অচলাবস্থার জন্য এখানে ট্রেনের সংখ্যা কমিয়ে দেয়াই মূল কারণ। আর ট্রেনের অপরিকল্পিত সময়সূচি ও ট্রেন কমিয়ে দেয়াকে রাজবাড়ী স্টেশন কানা হয়ে গেছে।

আর শ্রমিক নেতারা ও রেল কর্মকর্তা বলছেন, ট্রেনের সংখ্যা বাড়িয়ে দৌলতদিয়া ঘাট থেকে দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলার যাত্রী ও মালামাল পরিবহন করে রেলের আয় বৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়ানো দরকার। তারা মনে করেন, পৃথিবীর অন্য দেশ হলে, তবে ইতিহাসের অংশ হিসেবে যত্ন নেয়া হতো রাজবাড়ী রেলস্টেশনের।

রাজবাড়ী রেলস্টেশনের মাস্টার তন্ময় কুমার বলছেন, স্টেশনটি আধুনিকায়ন করতে ও ট্রেনের সংখ্যা বাড়াতে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের নজরে আনা হবে। 

জেবি/পি

corona
দেশ আক্রান্ত সুস্থ মৃত
বাংলাদেশ ৮৮ ৩৩
বিশ্ব ১২৩৭৪২০ ২৫২৯৪৪ ৬৭২৬০
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
  • দেশজুড়ে এর সর্বশেষ
  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়