logo
  • ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১৪ ফাল্গুন ১৪২৬

তারা একে অপরের বন্ধু!

ভোলা প্রতিনিধি, আরটিভি অনলাইন
|  ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০৯:২৪ | আপডেট : ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১১:০১
কুকুর হোটেল বন্ধু
ছবি: সংগৃহীত
কুকুর প্রভুভক্ত। প্রভুর বাড়ির পাহারাদার। গ্রাম-বাংলায় এমন প্রভুভক্ত পাহারাদার কুকুর প্রায়ই দেখা যায়। ডাস্টবিনের খাবার খেয়েই এদের বেড়ে ওঠা। তবুও এরা প্রভুর বাড়ির দায়িত্ব পালন করে। বাড়ির কুকুর আর বাজারের বেওয়ারিশ কুকুরের মধ্যে কিছুটা পার্থক্য দেখা যায়। বাজারের কুকুরের নির্দিষ্ট আস্তানা নেই। কিন্তু এইসব কুকুরের সঙ্গে যখন মানুষের বন্ধুত্ব হয়। তখন তা আলোচনায় ওঠে আসে। তা যদি হয় শিশুদের সঙ্গে।  তখন এ নিয়ে আলোচনার শেষ নেই।

এমন একদল কুকুরের সঙ্গে তিন শিশুর নিবিড় বন্ধুত্ব গড়ে ওঠা নিয়ে অবাক বিস্ময় প্রকাশ করেন স্থানীয়রা।

ভোলা জেলার উপ-শহর বাংলাবাজার। সেখানেই দেখা যায় এমন ঘটনা। বন্ধুদের সঙ্গে খেলাধুলা করতে ছুটে যায় কুকুরগুলো।  আট বছর বয়সী শিশু নুর হোসেন, পাঁচ বছরের  রহিমা বেগম, চার বছরের জহুরা বেগম । এরা ভাই-বোন। এদের খেলার সঙ্গী ১২টি কুকুর।  কখনও কুকুরের পিঠে চড়ে বেড়ানো। কখনও দৌঁড়ের পাল্লা, কখনও গলা জড়িয়ে কথা বলা। কালু, ভুলু,  লালু,  সোহাগী, গোলাপী  এমন নাম ডাকতেই এক একটি কুকুর ছুটে এসে লুটিয়ে পড়ে।

শিশু নূর হোসেন জানায়, এক বছর আগে বাজারের একটি কুকুরের সঙ্গে প্রথম তার বন্ধুত্ব হয়। বাড়ি এলে খেতে দেয়। ডাকলে কাছে আসে। ওই থেকেই আস্তে আস্তে ১২টি কুকুরের সঙ্গে তাদের সখ্যতা গড়ে ওঠে।

পুলিশ ফাঁড়ির পেছনে হানিফ খন্দকারের বাড়ি। হানিফের সন্তান নুর হোসেন, রহিমা ও জহুরা। হানিফের বাড়িতে জিন-ভূতের প্রভাব আছে।স্থানীয়দের কারো কারো এমনই মন্তব্য।  তাই অলৌকিক অনেক ঘটনার মধ্যে তিন শিশু’র সঙ্গে কুকুরের বন্ধুত্ব। এমনটাও মনে করেন কেউ কেউ। 

তবে সমাজ বিজ্ঞানের শিক্ষক বিল্লাল হোসেন ও পরিবেশ গবেষক মো. জাকির হোসেন জানান, কুকুরের বাচ্চার ছুটাছুটি ও খেলা করার অভ্যাস থেকেই শিশুদের সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে ওঠতে পারে। জিন ভূতের প্রভাব নয়। আদর পেলে কুকুর প্রজাতি পোষ্য হয়ে ওঠে।

স্থানীয়রা জানান, হোটেল রেস্তোরাঁর ফেলে দেওয়া খাবার খেয়ে বেড়ে ওঠা কুকুরগুলো নির্দিষ্ট সময়ে খেলার জন্য ছুটে যায় ওই শিশুদের কাছে। কখন বাড়ির উঠুনে আবার কখনও স্কুল-কলেজের খেলার মাঠে।

এলাকার কলেজ শিক্ষক আবুল বাশার আরটিভি অনলাইনকে  জানান, বেশ বড় আকারের এক ঝাঁক কুকুরকে ছোট ছোট শিশুদের সঙ্গে খেলা করতে দেখে প্রথম প্রথম ভয় পেতাম। কখন কামড়ে দেয়। কিন্তু দেখা যায়, শিশুদের সঙ্গে নতজানু হয়ে কুকুরগুলো খেলা করছে। ওদের পিঠে নিয়ে ঘুরে বেড়ায়। যা অবাক করার মতো একটি বিষয়।

 স্থানীয় মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে দায়িত্বরত ডাক্তাররা জানান, পালিত কুকুর না হলে, ওই সব কুকুর থেকে বিভিন্ন রোগ ছড়াতে পারে। এক্ষেত্রে অভিভাবকদের সর্তক হতে হবে। 

পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের উপ-পরিচালক মাহামুদুল হক আজাদ বলেন, কুকুরগুলোকে ভ্যাকসিন টিকার আওতায় আনার পরামর্শ দেন।

জেবি

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
  • দেশজুড়ে এর সর্বশেষ
  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়