logo
  • ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১৪ ফাল্গুন ১৪২৬

দুই ভাইয়ের দ্বন্দ্বের বলি সাত গ্রামের কৃষক

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি, আরটিভি অনলাইন
|  ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ২৩:৫০
সেচ কৃষক জমি
ছবি: সংগৃহীত
হবিগঞ্জে এলাকার আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই ভাইয়ের দ্বন্দ্বের জেরে সেচ প্রকল্প চালু না হওয়ায় গুঙ্গিয়া জুড়ি হাওরের তিন হাজার বিঘা জমি অনাবাদি অবস্থায় রয়েছে। পানির অভাবে নিজেদের জমি চাষ করতে পারছেন না রামপুর, গোবিন্দপুর, আওরা মজলিসপুর, লামাপইলসহ আশপাশের সাত গ্রামের হাজারো কৃষক।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হবিগঞ্জ সদর উপজেলার তেঘরিয়া ইউনিয়নের রামপুর গ্রামের ইংল্যান্ড প্রবাসী জয়নাল আবেদীন সালেক দীর্ঘদিন ধরে ব্যক্তি মালিকানায় স্থানীয় হাওরে সেচ প্রকল্প চালিয়ে আসছিলেন। এ নিয়ে তার ভাইয়ের সঙ্গে দ্বন্দ্বের জেরে বিদ্যুৎ বিল আটকে যায় প্রায় ১৩ লাখ টাকার মতো। ফলে কর্তৃপক্ষ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। আর এতে করে সেচের পানির অভাবে প্রায় তিন হাজার বিঘা  জমি অনাবাদি অবস্থায় পড়ে রয়েছে।

গুঙ্গিয়াজুরি হাওরের হবিগঞ্জ সদর উপজেলা অংশের কৃষকরা চাষ করেন তিন হাজার বিঘা জমি। এখান থেকে প্রতি বছর উৎপাদন হয় অন্তত ৫০ হাজার মণ ধান। এ বছর দুই ভাইয়ের দ্বন্দ্বের কারণে সেচ প্রকল্প বন্ধ থাকায় বোরো চাষাবাদের সময় প্রায় পেড়িয়ে গেলেও মাঠে নামতে পারেননি কৃষকরা। গরু দিয়ে খাওয়ানো হচ্ছে বীজতলা। দুই ব্যক্তির ভয়ে আবারো স্থানীয় কৃষকরা কোনও ধরনের প্রতিবাদ করতেও সাহস পাচ্ছে না।

স্থানীয় কৃষক আরজত আলী জানান, দুই ভাইয়ের দ্বন্দ্বের কারণে আমাদের পথে বসতে হচ্ছে। অনেক কষ্ট করে মহাজনের নিকট থেকে ঋণ গ্রহণ করে বীজতলা তৈরি করেছি। এখন জমিতে পানি দিতে না পারায় বিপাকে পড়েছি।

কৃষক সুরত আলী জানান, আমরা গরিব কৃষক। আমাদের পক্ষে বিদ্যুতের বকেয়া টাকা পরিশোধ করে নতুন করে বিদ্যুৎ সংযোগ আনা সম্ভব হবে না। ফলে এ বছর ধান উৎপাদন করতে পারব না।

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য টেনু মিয়া আরটিভি অনলাইনকে বলেন, দুই ভাইয়ের মধ্যে পারিবারিক দ্বন্দ্বের জন্য সাত গ্রামের মানুষকে না খেয়ে থাকতে হবে। এটা হতে পারে না।

তেঘরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আনু মিয়া আরটিভি অনলাইনকে বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যের মাধ্যমে আমি এলাকার লোকজনকে ডাকিয়েছি। কিন্তু সেচ প্রকল্প লিজ আনার জন্য কেউ সম্মত হননি।

তিনি আরও বলেন, দুই ভাইয়ের দ্বন্দ্বের বিষয়টি সমাধান করতে আপ্রাণ চেষ্টা করেছি। কিন্তু কোনও সমাধান হয়নি।

হবিগঞ্জ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী স্বাগত সরকার আরটিভি অনলাইনকে বলেন, জয়নাল আবেদীনের দু’টি সেচ সংযোগ রয়েছে। তার প্রায় ১৩ লাখ টাকা বিল বকেয়া রয়েছে। নোটিশ প্রদানের পর তিনি বিলের একটি অভিযোগ দেন। পরবর্তীতে অভিযুক্তের বাইরের বিলগুলো পরিশোধের কথা বললে তিনি তা করেননি। যে কারণে ওই এলাকায় সেচ সংযোগ চালু হয়নি।

হবিগঞ্জ বিএডিসি’র নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুল হক আরটিভি অনলাইনকে বলেন, প্রকল্পটি ব্যক্তি মালিকানাধীন হওয়ায় তারা কিছু করতে পারছে না।

হবিগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাখাওয়াত হোসেন রুলেল আরটিভি অনলাইনকে জানান, বিষয়টি পারিবারিক। তবে এলাকার কেউ প্রশাসনের নিকট কোনও আবেদন করেনি। যদি কোনও কৃষক আমাদের কাছে সেচ প্রকল্পের জন্য আবেদন করে তাহলে আমরা বিষয়টি বিবেচনা করে দেখব। আমি বিষয়টি শুনে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের সঙ্গে আলাপ করেছি।

জেবি

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
  • দেশজুড়ে এর সর্বশেষ
  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়