logo
  • ঢাকা শনিবার, ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১৬ ফাল্গুন ১৪২৬

কাগজের কলম বানিয়ে সাফল্য পাচ্ছেন যশোরের নাছিমা আক্তার

বি এম ফারুক, যশোর
|  ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১৩:২৩
কাগজের কলম বানিয়ে সাফল্য পাচ্ছেন যশোরের নাছিমা আক্তার
শখ থেকে সাফল্য পেয়েছেন যশোরের নাছিমা আক্তার। ছোট বেলার শখকে এখন বাস্তব জীবনে কাজে লাগিয়ে সাফল্য অর্জন করতে যাচ্ছেন তিনি। 

নাছিমা আক্তার কাগজ দিয়ে কলম তৈরি করে চারিদিকে হইচই ফেলে দিয়েছেন। কাগজের তৈরি কলম পরিবেশ বান্ধব হওয়ায় ইতোমধ্যে শিক্ষার্থীদের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে। দাম কম হওয়ার কারণে শিক্ষার্থীরা ব্যাপকভাবে ব্যবহার করছে। কিন্তু চাহিদার তুলনায় সরবরাহ করতে পারছেন নাছিমা আক্তার। পুঁজি স্বল্পতার কারণে বেশি বেশি তৈরি করতে পারছেন না বলে জানালেন তিনি। 

পরিবেশ বান্ধব এই কলম সম্পর্কে নাছিমা আক্তার জানান, ছোট বেলায় শখ করে কলম বানানো শেখেন। কিন্তু বাস্তব জীবনে এই শখ তার কাজে লাগবে এ কখনো ভাবেননি। 

তিনি বলেন, ‘প্রতিদিন হাতে করে ১০০ পিস কলম তৈরি করতে পারেন। ১০০ পিস কলম তৈরিতে তার খরচ হয় অন্তত ৩০০ টাকা। আর প্রতিটি কলম বিক্রি করেন পাঁচ টাকায়। অর্থাৎ ১০০ কলম বিক্রি হয় ৫০০ টাকা। আর এই আয় দিয়েই তার সংসার চলে। ছেলে-মেয়ের লেখাপড়ার খরচ বহন করেন।’  

নাছিমা আক্তার জানান, পরিবেশ বান্ধব এই কলমের এখনো বাজার তৈরি হয়নি। যে কারণে বাজারে পাওয়া যায় না। প্রাথমিকভাবে তিনি স্কুল-কলেজে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিক্রি করছেন। শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রচলন শুরু হলেই এক সময় বাজার তৈরি হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

তিনি আরও বলেন, ‘৩০০ কলম হলেই বাজারের ব্যাগে ভরে তা শহরের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চলে যান বিক্রি করতে।’ 

নাছিমা আক্তারের এই কাজে তাকে সহযোগিতা করে তার ছেলে মীর নাঈম আলম শুভ। স্কুল শেষে বাড়ি ফিরে শুভ তার মা’কে কলম তৈরিতে সহযোগিতা করে বলে জানালেন নাছিমা আক্তার।
 
যশোর সরকারি এম এম কলেজ, সরকারি সিটি কলেজ, মহিলা কলেজ, ক্যান্টনমেন্ট কলেজ, যশোর জিলা স্কুল, আব্দুস সামাদসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এই কলম বিক্রি করেছেন নাছিমা আক্তার। তিনি বলেন, ছয় মাস আগে বেকার স্বামীর সংসারে যখন চোখে-মুখে অন্ধকার দেখছেন, ঠিক তখনই তার মনে পড়ে সমাজের জন্য, নিজের জন্য ভালো কিছু করার। আর ঠিক সেই মুহূর্তে মনে পড়ে যায় কলম তৈরি করে বিক্রি করার বিষয়টি। পরিবেশ বান্ধব হওয়ায় কলমটি কলমটি মানুষের মধ্যে বেশ সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। চাহিদাও বেশি। তবে পুঁজি স্বল্পতার কারণে ব্যবসাটি তিনি এগিয়ে নিতে পারছেন না। পুঁজি পেলে ব্যবসাটি সম্প্রসারণ করবেন বলে জানান তিনি।

নাছিমা আক্তার আরও বলেন, ‘আমি এ ব্যবসা দিয়ে হাজার নারীর বেকারত্ব দূর করার স্বপ্ন দেখি। আমার মতো যাতে আরও অনেক নারীই এ ব্যবসায় এগিয়ে আসে সেই ব্যবস্থা করতে পারলে আমি খুশি হবো। এ জন্য সরকারের সহযোগিতা কামনা করছি।’

নাছিমা আক্তারে স্বামী মীর রবিউল আলম অবসরপ্রাপ্ত বিজিবি সৈনিক। তিনি একজন প্রতিবন্ধী। সংসারের একমাত্র আয়ের অবলম্বন নাছিমা আক্তার। নাছিমা আক্তার দুই সন্তানের জননী। বড় মেয়ে রেবেকা সুলতানা ঢাকা একটি কলেজে অনার্স পড়ছে। ছোট ছেলে মীর নাঈম আলম শুভ চলতি এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে।

এসএস

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
  • দেশজুড়ে এর সর্বশেষ
  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়