logo
  • ঢাকা মঙ্গলবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ৫ ফাল্গুন ১৪২৬

মাওলানা রহিমের বিচার চান সাংবাদিকরা

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি, আরটিভি অনলাইন
|  ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০৯:১৪ | আপডেট : ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১১:৩৪
বিচার সাংবাদিক কাফের
ফাইল ছবি
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সাংবাদিকরা কাফের, জামায়াত-শিবিরের এজেন্ট এবং কাদিয়ানী (আহমদিয়া) বলে ওয়াজ মাহফিলে বক্তব্য দিয়েছেন আবদুর রহিম কাসেমী নামে এক মাওলানা। তার এই বক্তব্যের

নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাব। মাওলানা রহিমকে তার এ আপত্তিকর বক্তব্য অবিলম্বে প্রত্যাহার করতেও বলা হয়েছে প্রেসক্লাবের দেয়া এক বিবৃতিতে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কওমি মাদরাসা ও হেফাজতে ইসলাম সংগঠনের কোনও সংবাদ পরিবেশন না করার প্রেসক্লাবের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ১০ দিনপর  এক ফেব্রুয়ারি জেলা ঈদগাহ মাঠে জামিয়া ইসলামিয়া ইউনুছিয়া মাদরাসার এক ওয়াজ মাহফিলে মাওলানা আবদুর রহিম কাশেমী সাংবাদিকদের বিষোদগারে লিপ্ত হন।

এর আগে ‘এদারায়ে তালিমিয়া’র ব্যানারে ২০ জানুয়ারি কাদিয়ানীদের অমুসলিম ঘোষণার দাবিতে করা মানববন্ধনের খবর পত্রিকায় প্রকাশিত না হওয়ায়  দৈনিক ইনকিলাব প্রতিনিধি এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাব সভাপতি খ আ ম রশিদুল ইসলামকে চার্জ করেন জাকারিয়া নামের একজন মাওলানা। জেলার শীর্ষ আলেম হিসেব পরিচিত মাওলানা সাজিদুর রহমানকে বিষয়টি অবহিত করার পর তিনিও একইভাবে সংবাদ না আসার কৈফিয়ত চান।

 এ ঘটনায় পরদিন প্রেসক্লাবের সভায় সর্বসম্মতভাবে তাদের সংবাদ বর্জনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। ওই সভায় বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকরা মানববন্ধনের সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে মাদরাসার ছাত্র-শিক্ষকদের অশোভন আচরণের শিকার হয়েছেন বলে তাদের বক্তব্যে তুলে ধরেন। শুধু ওইদিনই নয় বিভিন্ন সময় তাদের হাতে অনেক সাংবাদিক নাজেহাল ও নিগৃহীত হয়েছেন বলেও অভিযোগ তুলে ধরা হয়।

 এরপর থেকে সাংবাদিকদের নিয়ে মাদরাসার শিক্ষক-ছাত্ররা ফেসবুকে নানা আপত্তিকর মন্তব্য করতে থাকে। জামিয়া ইসলামিয়া ইউনুছিয়া মাদরাসার বার্ষিক ওয়াজ মাহফিলের আগে বিষয়টি না মিটিয়ে ফেললে পরিণতি খারাপ হবে বলে হুমকি দেওয়া হয়। এরপরই মাওলানা আবদুর রহিম কাশেমী ওয়াজে হাদিস-কোরআনের কথা বলা বাদ দিয়ে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে বয়ান শুরু করেন।আপত্তিকর ভাষায় তিনি সাংবাদিকদের কাফের এবং জামায়াত-শিবিরের এজেন্ট বলে বক্তব্য দেন। শুধু তাই নয় সাংবাদিকরা কাদিয়ানী হয়ে গেছে এবং কাদিয়ানীদের টাকা খেয়েছে বলেও মন্তব্য করেন মাওলানা রহিম।

তিনি প্রেসক্লাব সভাপতির নাম নিয়ে তাকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করেন এবং আপত্তিকর মন্তব্য করেন। এরপরই গেল সোমবার প্রেসক্লাব ওই মাদরাসা শিক্ষকের ঘৃণ্য বক্তব্যের জবাব দেয়া হয় এক বিবৃতিতে।

বিবৃতিতে বলা হয় একজন মাদরাসার আলেম কোরাআন-হাদিসের কোন জায়গা থেকে অন্যকে কাফের বলার এই শিক্ষা পেলেন সেটি তাকে জানাতে হবে। সাংবাদিকরা কাদিয়ানীদের টাকা খেয়ে তাদের সংবাদ বর্জন করেছেন এমন প্রমাণও চাওয়া হয় তার কাছে।

 বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ঐতিহ্যবাহী জামিয়া ইসলামিয়া ইউনুছিয়া মাদরাসার মর্যাদা ও মাহফিলের আয়োজনকে খাটো করতে মাওলানা কাসেমী এ ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন।

বিবৃতিতে মাওলানা কাশেমীর বিষয়ে প্রশাসনকে খোঁজ-খবর নেয়ার এবং মাদরাসা কর্তৃপক্ষকে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের  দাবি জানানো হয়।

জেবি

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
  • দেশজুড়ে এর সর্বশেষ
  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়