logo
  • ঢাকা শুক্রবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১৫ ফাল্গুন ১৪২৬

বাইশ মাসে ২০৩ বাল্যবিবাহ বন্ধ করলেন সিরাজগঞ্জের এসিল্যান্ড

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি, আরটিভি অনলাইন
|  ২৫ জানুয়ারি ২০২০, ১৩:৪৯
ভূমি সহকারী আনিসুর
সিরাজগঞ্জের সহকারী কমিশনার (ভূমি) আনিসুর রহমান
সিরাজগঞ্জে দায়িত্ব পালনের ২২ মাসে ২০৩ বাল্য বিয়ে বন্ধ করেছেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) আনিসুর রহমান।

এসডিজি’র লক্ষ্যমাত্রার টার্গেটগুলোর অন্যতম বাল্যবিয়ে বন্ধে তার এ অর্জন ইতিবাচকভাবে দেখছে জেলা প্রশাসনসহ সিরাজগঞ্জবাসী।

এজন্য গেলো বছরের ২৩ জুন আন্তর্জাতিক পাবলিক সার্ভিস দিবসে সদরের এই সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) বাল্যবিবাহ বন্ধে অবদান রাখায় বিশেষ সম্মাননা প্রদান করেন তৎকালীন জেলা প্রশাসক কামরুন নাহার সিদ্দীকা।

দক্ষ কর্মঠ ও পরিশ্রমী কর্মকর্তা আনিসুর রহমান যেখানেই দায়িত্বে ছিলেন সেখানেই নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করেছেন।

২০১৪ সালের আগস্ট থেকে ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত যশোরে সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় তার ভেজালবিরোধী অভিযানে সমগ্র দক্ষিণ বঙ্গে সাড়া পড়ে যায়। ভেজাল ব্যবসায়ীরা দুর্নীতি বাদ দিয়ে নিয়ম মানতে বাধ্য হন। এজন্য যশোরের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মুখে এখনও ম্যাজিস্ট্রেট আনিসুর রহমানের প্রশংসা।

২০১৭ সালের শেষ দিকে তিনি বদলি হন সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলায়। তিনি সেখানে সহকারী কমিশনার (ভূমি) এর পাশাপাশি ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী অফিসার হিসেবেও দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেন।

এরপর এখানে অনিয়মের বিরুদ্ধে মাঠে নামেন তিনি। দুটি ইলিশ প্রজনন মৌসুমে নিয়ম ভঙ্গকারী ১২৪ জন জেলেকে কারাদণ্ড দেন। এছাড়া এ বছর মা ইলিশ রক্ষা অভিযানে সিরাজগঞ্জ সদরে ১১৬ জেলেকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়ে ইলিশ রক্ষায় অবদান রাখেন।  চৌহালী উপজেলা থেকে সকল পাবলিক পরীক্ষায় নকল একেবারে দূর করেছিলেন তিনি। শুধু তাই নয় চৌহালী উপজেলায় কর্মকালীন ৩৩ সপ্তাহে ৩৪টি বাল্যবিবাহ বন্ধ করেন। এরপর বদলি হয়ে আসেন সদর উপজেলায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে।

এখানে সাড়ে ১২ মাসে ১৬৯ টি বাল্যবিয়ে বন্ধ করেন। এরইমধ্যে একদিনে সাতটি বাল্যবিবাহ বন্ধ করেন। এরমধ্যে পৌরসভায় ৩২টি, ইউনিয়ন পর্যায়ে খোকশাবাড়ীতে ১১টি, সায়দাবাদে ১৬টি, কালিয়া হরিপুরে ১৯টি, বাগবাটিতে ২৬টি, রতনকান্দিতে ২৯টি, বাহুলীতে ১৩টি, শিয়ালকোলে ১০টি, ছোনগাছায় ১০টি, কাওয়াখোলায় তিনটি বাল্যবিবাহ বন্ধ করেন তিনি। এদের মধ্যে তৃতীয় শ্রেণির চার জন, চতুর্থ শ্রেণির দুইজন, পঞ্চম শ্রেণির ছয়জন, ষষ্ঠ শ্রেণির ১০ জন, সপ্তম শ্রেণির  ২১ জন, অষ্টম শ্রেণির ৫৮ জন, নবম শ্রেণির  ৩৭ জন, দশম শ্রেণির ২৭ জন, একাদশ শ্রেণির ছাত্রী চারজন।

সিরাজগঞ্জ সদরে ২০১৯ সালের জানুয়ারি মাসে দুটি, ফেব্রুয়ারি মাসে দুটি, মার্চ মাসে ১০টি, এপ্রিল মাসে ২২টি, মে মাসে আটটি, জুন মাসে ১৫টি, জুলাই মাসে ১৭টি, আগস্ট মাসে ২৭টি, সেপ্টেম্বর মাসে ২৩টি, অক্টোবর মাসে ১৭ টি, নভেম্বর মাসে ১৬টি, ডিসেম্বর মাসে পাঁচটি বাল্যবিবাহ বন্ধ করেন। এদিকে এ বছরের প্রথম মাসে পাঁচটি বাল্যবিবাহ বন্ধ করেন এসিল্যান্ড আনিসুর রহমান। এ সময়ে বাল্যবিবাহ বন্ধে সদর উপজেলায় বার লাখ সাতচল্লিশ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং ছয়জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেন। অনেক ক্ষেত্রে বর ও কনের বাবার মুচলেকা নেয়া হয়।

তিনি চৌহালী উপজেলায় ৩৪টি ও সদর উপজেলায় ১৬৯টি সহ মোট ২০৩টি বাল্যবিবাহ নিজে উপস্থিত হয়ে বন্ধ করেছেন। তিনি বাল্যবিবাহ বন্ধে বিভিন্ন গ্রামে গিয়ে উঠান বৈঠকের মাধ্যমে মা-বাবাদের বাল্য বিবাহের কুফল সম্পর্কে সচেতন করেন। সিরাজগঞ্জ সদরের প্রায় সকল উচ্চ বিদ্যালয় ও মাদরাসার ছাত্র-ছাত্রীদের বাল্যবিবাহ, ইভটিজিং, মাদক ও জুয়া সম্পর্কে সচেতন করেন এবং সামাজিক এ ব্যাধিগুলো দূর করার জন্য কার্যকর ভূমিকা রাখতে সহযোগিতা চান। উপজেলা প্রশাসন মোবাইল নম্বর সরবরাহ করে সামাজিক এ ব্যাধিগুলো সম্পর্কে তথ্য চান। এছাড়া বাল্যবিবাহ থেকে রক্ষা পাওয়া অসহায় গরিব তিন ছাত্রীর পড়াশুনার দায়িত্ব নিয়েছেন আনিসুর রহমান। বিশিষ্টজনদের প্রত্যাশা এসিল্যান্ড আনিসুর রহমানের মতো যদি সবাই যার যার অবস্থান থেকে এগিয়ে আসেন তবে বাল্যবিবাহের অভিশাপ মুক্ত হবে অনেক মেয়ে।

জেবি 

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
  • দেশজুড়ে এর সর্বশেষ
  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়