logo
  • ঢাকা মঙ্গলবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২০, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৭

গরু চুরির অপবাদ দিয়ে স্কুলছাত্রকে হাত-পা বেঁধে নির্যাতন, আটক ২

মারধর স্কুল অপবাদ
গরু চুরির অপবাদ দিয়ে এভাবেই স্কুলছাত্রকে মারধর করা হয়
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় মধ্যযুগীয় কায়দায় অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রকে গরু চুরির অপবাদে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে হাত-পা বেঁধে নির্যাতন করার ছবি ভাইরাল হয়েছে।

এ ঘটনায় রানা মিয়া ও আব্বাস মিয়া নামের দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

সোমবার তাদের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

গতকাল রোববার রাতে সুন্দরগঞ্জ থানায় এ ঘটনায় অভিযোগ দায়ের করা হলে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

 এর আগে গেল শুক্রবার এই নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। নির্যাতনের শিকার ওই কিশোরের নাম রফিকুল ইসলাম (১৩)। সে উপজেলার দহবন্দ ইউনিয়নের ধুমাইটারী গ্রামের সিরাজুল ইসলামের ছেলে এবং সুন্দরগঞ্জ উপজেলার হাবলুর মোড় কারিগরি স্কুলের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, উপজেলার দহবন্দ ইউনিয়নের ধুমাইটারী গ্রামের রাজা মিয়ার গোয়াল ঘর থেকে একটি গরু চুরি হয়। গরু চোর সন্দেহে পাশের বাড়ির রফিকুলকে ওই রাতেই ধরে নিয়ে যায় একই গ্রামের ফজলু, ইয়াজুল ও নাজমুল। তারপর তাকে সারা রাত গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখে তারা। পরদিন শনিবার সকাল নয়টায় রফিকুলকে স্থানীয় আফসার প্রামাণিকের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে হাত-পা বেঁধে তার ওপর অমানবিক নির্যাতন চালায় তনু প্রামাণিক, তাজু প্রামাণিক, তুহিন প্রামাণিক, লেলিন প্রামাণিক, সাবু প্রামাণিক ও মুসা প্রামাণিক।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে রফিকুলকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে। পরে তাকে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

রফিকুলের ওপর নির্যাতনের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি সবার নজরে আসে।

সুন্দরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহিল জামান আরটিভি অনলাইনকে জানান, এ ঘটনায় রফিকুলের বড় ভাই শফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে রানা মিয়া ও আব্বাস মিয়াসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে সুন্দরগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর দুজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

জেবি

RTVPLUS