logo
  • ঢাকা শনিবার, ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১৬ ফাল্গুন ১৪২৬

ভৌতিক বিদ্যুৎ বিলে দিশেহারা সেচ পাম্প মালিকরা

মো. আল আমিন টিটু, ভৈরব থেকে
|  ১২ জানুয়ারি ২০২০, ১৬:৩৬ | আপডেট : ১২ জানুয়ারি ২০২০, ১৬:৪৮
ভৌতিক বিদ্যুৎ বিলে দিশেহারা সেচ পাম্প মালিকরা

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ভৌতিক বিদ্যুৎ বিলে দিশেহারা হয়ে পড়েছে সেচ পাম্প মালিকরা। সেচ পাম্প মালিকদের দাবি, শিমুলকান্দি বিদ্যুৎ অফিসের গাফিলতি ও দায়িত্বে অবহেলার কারণে এই ভৌতিক বিল প্রস্তুতের ঘটনা ঘটেছে। আবার কয়েকজন সেচ পাম্প মালিকের ধারণা, তাদের হয়রানি করতেই বিদ্যুৎ অফিসের কর্মকর্তারা গড় বিলের নামে ইচ্ছা করে এই ভৌতিক বিল তৈরি করেছেন।

এদিকে এই অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ না করায় নতুন করে বিদ্যুৎ সংযোগ দিচ্ছে না বিদ্যুৎ বিভাগ। ফলে কৃষকরা বোরো জমিতে একমাত্র ফসল আবাদ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছে। তাই, বিদ্যুতের এই ভৌতিক বিল সংশোধনের দাবিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, নির্বাহী প্রকৌশলী ও শিমুলকান্দি বিদ্যুৎ অফিসের সহকারী কর্মকর্তা বরাবরে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন ভুক্তভোগী সেচ পাম্প মালিকরা।

জানা গেছে, কয়েক বছর ধরে শিমুলকান্দি বিদ্যুৎ সরবরাহ অফিস থেকে উপজেলার আগানগর, শ্রীনগর ও শিমুলকান্দিসহ গজারিয়া এবং সাদেকপুর ইউনিয়নের প্রায় দুই শতাধিক সেচ পাম্পে মিটারবিহীন বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়ে আসছে বিদ্যুৎ বিভাগ। তাদের এই সংযোগ দেওয়া হয় চুক্তিভিত্তিক। তাই তাদের বিল প্রস্তুত করা হতো চুক্তি ভিত্তিক হিসেবে কিংবা গড় বিল নামে। প্রথম দিকে সঠিকভাবে বিল হলেও পরে কিছুটা বাড়ে। কিন্তু গেল বছর অধিকাংশ সেচ পাম্পের ভৌতিক বিদ্যুৎ বিল করা হয়েছে বলে দাবি করেন পাম্প মালিকরা।

ভুক্তভোগী কয়েকজন সেচ পাম্প মালিক জানান, তাদের কারও বিল ৫০ শতাংশ বেশি আবার কারও ১০০ ভাগ অতিরিক্ত বা দ্বিগুণ করা হয়েছে। পরে বিলের কপি নিয়ে শিমুলকান্দি বিদ্যুৎ অফিসে বার বার যোগাযোগ করেও বিষয়টির কোনও সমাধান হচ্ছে না। এদিকে জমিতে আবাদের সময় হলেও সেচের অভাবে ধানের চারা রোপণ করতে পারছেন না কৃষকরা।

এদিকে বিদ্যুৎ বিলে অসঙ্গতির কথা স্বীকার করে শিমুলকান্দি বিদ্যুৎ সরবরাহ অফিসের সহকারী প্রকৌশলী মো. ইমরান হোসেন তালুকদার আরটিভি অনলাইনকে বলেন, ‘আমি মাত্র কয়েকদিন আগে এই অফিসে যোগদান করেছি। বিলগুলো আমার আগের কর্মকর্তা করে গেছেন। তাই আমি কিছু করতে পারছি না। তবে, আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবগত করেছি। তারা আমাকে জানিয়েছেন, নতুন বিলের সময় বিবেচনা করা হবে।’ তিনি আরও জানান, যাদের পাম্পে মিটার রয়েছে, তারা অবশ্য মিটার অনুযায়ী রিডিং পাবেন।

এ প্রসঙ্গে ভৈরব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লুবনা ফারজানা বলেন, বিদ্যুৎ অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ করে দেখবো বিল সংশোধনের কোনো সুযোগ আছে কিনা। যদি থাকে তাহলে অবশ্য বিল সংশোধন করা হবে।

এজে/পি

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
  • দেশজুড়ে এর সর্বশেষ
  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়