logo
  • ঢাকা শুক্রবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২০, ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৭

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হত্যা মামলায় চারজনের মৃত্যুদণ্ড

হত্যা মৃত্যুদণ্ড আসামি
ফাইল ছবি
রাজধানীর চকবাজারের ব্যবসায়ী আব্দুল হান্নান বাহারকে (৪৫) পাওনা টাকা পরিশোধের কথা বলে ডেকে এনে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় চারজনকে মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়েছেন আদালত।

সোমবার দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ সফিউল আজম এ রায় দেন। এর মধ্যে তিন আসামি পলাতক রয়েছেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন, মো. নুর মিয়া, মো. জিয়াউল হক, লোকমান খান ও মো. কাদির হোসেন।

এদের মধ্যে জিয়াউল হক রায় ঘোষণার সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

মামলার বিবরণে জানা যায়, নোয়াখালীর সোনাইমুড়ি উপজেলার অম্বরনগর গ্রামের আব্দুল লতিফের ছেলে আব্দুল হান্নান বাহার ঢাকার চকবাজারে কসমেটিকের ব্যবসা করতেন।২০১৪ সালের  চার আগস্ট বিকেল তিনটার দিকে বাহার কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর উপজেলার বাঙ্গরা বাজারে পাইকার লোকমান খানের কাছে বকেয়া আদায় করতে যান। বাহারকে তার পাওনা টাকা পরিশোধ করবেন বলে বাঙ্গরা বাজারে ডেকে নেন লোকমান।

বাহার বাঙ্গরা বাজারে যাওয়ার পর লোকমান তার শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে যাওয়ার নাম করে তাকে ইঞ্জিনচালিত নৌকায় তুলে নিয়ে যান। এরপর নৌকায় আটকে রেখে মুক্তিপণ আদায়ের জন্য বাহারের আত্মীয়-স্বজনদের কাছে টাকা দাবি করেন। আসামিরা চার আগস্ট থেকে ছয় আগস্ট পর্যন্ত বাহারের হাত-পা বেঁধে তাকে নির্যাতন করে। কিছু টাকা আদায়েরর পর আরও টাকার জন্য বাহারকে হত্যার হুমকি দেয় আসামিরা। ছয় আগস্ট রাত আনুমানিক সাড়ে নয়টায় আসামিরা বাহারকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার উজানচর লঞ্চ ঘাটের বিপরীত দিকে তিতাস নদীতে ফেলে মৃত্যু নিশ্চিত করে। এরপর  আট আগস্ট বিকেল তিনটার দিকে নদী থেকে বাহারের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

পরদিন নয় আগস্ট বাহার হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বাঞ্ছারামপুর মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন বাহারের ছোট ভাই বেলাল হোসেন। হত্যার ঘটনা প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আসামিদের বিরুদ্ধে ওই বছরের ১০ নভেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দেয় তদন্তকারী কর্মকর্তা।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এস.এম ইউসুফ এ মামলার রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।তবে আসামিপক্ষের আইনজীবী জসিম উদ্দিন আহমেদ বলেন, আমার কাছে মনে হয় রায়টি সঠিক হয়নি। আমরা উচ্চ আদালতে আপিল করব।

জেবি

RTVPLUS