অবশেষে অত্যাচারী বানরটির ‘গণআদালতে মৃত্যুদণ্ড’ কার্যকর

প্রকাশ | ২১ নভেম্বর ২০১৯, ১৬:৫৯ | আপডেট: ২১ নভেম্বর ২০১৯, ১৭:৫৫

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি, আরটিভি অনলাইন
জনতার আদালতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বানরটি

মৃত্যুদণ্ড! বানরের আক্রমণ কিংবা কামড় থেকে রক্ষা পেতে একটি বানরকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে এলাকাবাসী। যা এখন সর্বত্র আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই মৃত্যুদণ্ডের পক্ষে-বিপক্ষে কথা বলছেন পরিবেশবাদী সংগঠন, ওয়াইল্ড লাইফ ও এলাকাবাসী। আর এই ঘটনাটি ঘটেছে মৌলভীবাজারের বড়লেখায়।

জানা যায়, দলছুট বা কোনও ব্যক্তির পালিত একটি বানর গেল এক মাস ধরে বড়লেখা উপজেলার দক্ষিণভাগ উত্তর ইউনিয়নের কাঁঠালতলী, রুকনপুর, বড়খলা, দক্ষিণ মুছেগুল, উত্তরভাগসহ আশপাশের গ্রামগুলোতে দাপিয়ে  তাণ্ডব চালায়।

বানরটি সেলিম আহমদ (৮), মারুফ আহমদ (১০), বিউটি বেগম (১১) ছাড়াও বেশ কয়েকজনের শরীরে আঁচড় এবং কামড় দিয়ে আহত করেছে। আহতদের বেশিরভাগের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় সিলেট ওসমানী হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে। এছাড়াও ১৫ জন শিশু এই বানরের কামড়ে গুরুতর আহত হয়েছে বলে দাবি করছেন স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান এনাম উদ্দিন। একই দাবি স্থানীয় ইউপি সদস্য আলতাফ হোসেন।

এই বানরের আতঙ্ক  এতটাই ছড়িয়েছিল যে গেল বৃহস্পতিবার (১৪ নভেম্বর) বড়লেখা উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় এ নিয়ে আলোচনা হয়েছে।  গেল সপ্তাহে বন ও পরিবেশ মন্ত্রী এলাকায় আসলে তাকেও জানানো হয়। মন্ত্রী বনবিভাগকে বিষয়টি দেখতে নির্দেশ দেন। মন্ত্রীর নির্দেশের পর মৌলভীবাজার ওয়াইল্ড লাইফ বিভাগ ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যায় এবং তাদের কাছে বানর ধরার যন্ত্র নেই জানিয়ে ঢাকা থেকে ক্রাইম কন্ট্রোল টিম আসবে সেই পর্যন্ত অপেক্ষা করতে বলেন।

এর আগে বড়লেখা রেঞ্জের সহযোগী কর্মকর্তা শেখর রঞ্জন দাস স্থানীয়ভাবে খবর পেয়ে এলাকা পরিদর্শন করে মৌলভীবাজার জেলা কর্মকর্তাদের জানান।  মৌলভীবাজার ওয়াইল্ড লাইফ বিভাগ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আসার পর এলাকাবাসী ঢাকার ওয়াইল্ড লাইফ ক্রাইম কন্ট্রোল ইউনিটের অপেক্ষা করতে থাকেন।  প্রতিদিনই ইউপি চেয়ারম্যান এক বা একাধিক বার বনবিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও দেখা মিলেনি।

এর মধ্যে মঙ্গলবার সকালে আরও একটি শিশুকে বানরটি কামড়িয়ে আহত করলে। এরপর উত্তেজিত গ্রামবাসী বানরটিকে মেরে ফেলার সিদ্ধান্ত নেয়।  ভাতের সঙ্গে অতিমাত্রায় ঘুমের ওষুধ খাইয়ে বিকেল তিনটার দিকে একটি ধানক্ষেত থেকে বানরটিকে আটক করা হয়। পরে কাঁঠালতলী বাজার সংলগ্ন স্থানে শত শত জনতার উপস্থিতি এবং সিদ্ধান্তে বানরটির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। পরে বানরটিকে মেরে মাটি চাপা দেওয়া হয়।

এদিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পরে টিম পাঠানোর কথা বলে কেন আর এলাকায় জাননি জানতে চাইলে ওয়াইল্ড লাইফ মৌলভীবাজারের রেঞ্জ কর্মকর্তা জৌলহাস উদ্দিন জানান, আমরা যে দিন পরিদর্শনে যাই সেদিন বানরটিকে অনেক খুঁজেও পাইনি এবং আমাদের কাছে সেই ধরনের সরঞ্জামও নেই। তাই আমরা ঢাকার ক্রাইম  কন্ট্রোল টিমকে খবর দেই। টিম আসবে আসবে করছিল এরই মধ্যে বানরটিকে হত্যা করা হয়েছে এমন খবর পেয়েছি ।

বাংলাদেশ বণ্যপ্রাণী ক্রাইম কন্ট্রোলের পরিচালক এস এম জহির আকন এই বিষয়ে জানান, আমরা খবর পেয়েছিলাম কিন্তু এরইমধ্যে বান্দরবনে একটি হাতি মারা যাওয়ায় আমাদের টিম সেদিকে চলে যায়। সেখান থেকে আসার পর যখন বড়লেখায় পাঠাব এরই মধ্যে খবর পেয়েছি বানরটিকে মেরে ফেলা হয়েছে ।

প্রসঙ্গত, বড়লেখার উপজেলার দক্ষিণভাগ উত্তর ইউনিয়নে কয়েকটি চা বাগান ও বনাঞ্চল রয়েছে। পাহাড় ও চা-বাগানে অনেক বানরের বাস। এরা অনেক সময় খাবারের সন্ধানে দলবলে লোকালয়ে এসে ক্ষেতের ফসল খেয়ে কিংবা নষ্ট করে চলে যায়। কিন্তু মানুষের ওপর কখনও আক্রমণ করেনি। গত এক মাস আগে গলায় লাল রঙের রশি বাঁধা অবস্থায় একটি বানর লোকালয়ে দেখা যায়। হঠাৎ করে বানরটি মানুষের ওপর আক্রমণ শুরু করে।

জেবি