logo
  • ঢাকা বুধবার, ১১ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

লবণের লঙ্কাকাণ্ড ঠেকাতে মাঠে নেমেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি, আরটিভি অনলাইন
|  ১৯ নভেম্বর ২০১৯, ১৫:২৩ | আপডেট : ১৯ নভেম্বর ২০১৯, ১৫:৪২
লবণ ভ্রাম্যমাণ আদালত
ছবি: সংগৃহীত
দেশের বিভিন্ন জায়গার মতো মঙ্গলবার সকাল থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়ও লবণের কেজি প্রতি মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে বলে গুজব ছড়িয়ে পড়ে।

এমন খবরের ভিত্তিতে বাজার মনিটরিংয়ে নামেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

ভ্রাম্যমাণ আদালত জগৎবাজার, আনন্দবাজারসহ শহরের বিভিন্ন বাজার মনিটরিং করেন।

এ সময় লবণ প্রতিকেজি ৩০ থেকে ৩৫ টাকা এবং পেঁয়াজ ১০০ থেকে ১৬০ টাকার মধ্যে বিক্রি হতে দেখা গেছে।

ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা পঙ্কজ বড়ুয়া বলেন, লবণের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ার খবরে আমরা বাজার মনিটরিং করে এ রকম কিছু পাইনি। তিনি জনগণকে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য  আহ্বান জানান।

এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলার সহকারী কিমশনার (ভূমি) এস, এম মশিউজ্জামান, ক্যাব ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সাধারণ সম্পাদক এস.এম শাহিন প্রমুখ।

এদিকে সিলেটে গতকাল সোমবার সন্ধ্যা হতেই শুরু হয় লবণ নিয়ে লঙ্কাকাণ্ড। সিলেট নগর ও সিলেট জেলার বিভিন্ন উপজেলায় সন্ধ্যা থেকে লবণের দাম বেড়ে যাচ্ছে এমন খবরে ক্রেতারা হুমড়ি খেয়ে পড়েন জেলা ও মহানগরসহ উপজেলাগুলোর ভোগ্যপণ্যের দোকানে।

বাড়তি চাপে নিমিষেই ফুরিয়ে যায় বিভিন্ন দোকানের লবণ। আবার অনেক ব্যবসায়ী বেশি দামে বিক্রির জন্য লবণ মজুদ করে রাখেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। অপরদিকে সিলেটের বিভিন্ন উপজেলায় এ নিয়ে সচেতনতা সৃষ্টি করার জন্য পুলিশের পক্ষ থেকে মাইকিং করা হচ্ছে।

এ ব্যাপারে সিলেটের জকিগঞ্জ থানার ওসি আব্দুন নাসের আরটিভি অনলাইনকে জানান, সন্ধ্যা থেকে কোনো এক পক্ষ বাজারে গুজব ছড়িয়েছে যে লবণের কেজি ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা। সত্যি বলতে কী লবণের দাম বৃদ্ধির খবর পুরোটাই গুজব। কেউ উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে এই গুজব ছড়াতে পারে।

জকিগঞ্জ বিয়ানিবাজার পুলিশের সার্কেল এএসপি সুদীপ জানান, আমরা মানুষদের সচেতন করতে প্রচারণা চালিয়েছি। যদি কোনো ব্যবসায়ী তারপরও অতিরিক্ত দামে লবণ বিক্রি করে, তাহলে আমরা আইনগত ব্যবস্থা নেব।

এদিকে সিলেট নগরীরর অনেক ব্যবসায়ীরাও জানিয়েছেন, লবণের চাহিদামাফিক সরবরাহ আছে। শিগগিরই দাম বাড়ার শঙ্কা নেই। তবে ব্যবসায়ীরা এমনটি দাবি করলেও সোমবার রাতেই অনেক দোকানে বাড়তি দামে লবণ বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেছে।

অপরদিকে গুজবকে কেন্দ্র করে এই হুলস্থুলের পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার সন্ধ্যায় জনগণকে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানান সিলেটের পুলিশ সুপার ফরিদ উদ্দিন।
নিজের ফেসবুকে পুলিশ সুপার লিখেছেন- ‘প্রিয় সিলেটবাসী, বাজারে নিত্য-প্রয়োজনীয় সামগ্রীর পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে। কোনো নিত্য-প্রয়োজনীয় সামগ্রীর দাম বাড়তে পারে এমন গুজবে কান না দেয়ার জন্য সকলকে বিশেষভাবে অনুরোধ জানাচ্ছি।’

এ ব্যাপারে সিলেটের শাহী ঈদগাহের সামনে আরটিভি অনলাইন এর সাথে কথা হয় আরিফ নামে এক ক্রেতার। তিনি জানান, আজ শুনছি লবণের দাম ১৪০ টাকা। আগামীকাল দাম আরো কয়েকগুণ বাড়তে পারে- এই আশঙ্কায় আজকে অনেকে লবণ কিনে রাখছেন। কারণ আগামীকাল অনেক দোকানে লবণের সংকট দেখা দিতে পারে।

সোমবার রাতে নগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, লবণ কেনার জন্য হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন ক্রেতারা। বেশিরভাগ মুদির দোকানেই মজুদ ফুরিয়ে গেছে। দোকানে লবণ না পেয়ে দোকানিদের সঙ্গে ক্রেতাদের আক্রমণাত্মক আচরণ করতেও দেখা গেছে। সব ক্রেতাদেরই দাবি, লবণের দাম বাড়তে যাচ্ছে এমন খবর শুনেছেন। তাই লবণ কিনতে এসেছেন তারা।

তবে কোথায় এমন সংবাদ শুনেছেন এ কথা কেউ বলতে পারেননি। সিলেটের শাহী ঈদগাহ’র সামনের মুদি দোকানি ফোরকান উদ্দিন আরটিভি অনলাইনকে বলেন, সন্ধ্যার পর থেকে আচমকা কেবল লবণ কেনার জন্য ক্রেতারা এসে দোকানে ভিড় করতে থাকেন। অল্প সময়ের মধ্যেই আমার দোকানের সব লবণ শেষ হয়ে গেছে।

জেবি  

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
  • দেশজুড়ে এর সর্বশেষ
  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়