logo
  • ঢাকা সোমবার, ৩০ নভেম্বর ২০২০, ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৭

জয়পুরহাট প্রতিনিধি, আরটিভি অনলাইন

  ১৮ নভেম্বর ২০১৯, ১৮:৩৬
আপডেট : ১৮ নভেম্বর ২০১৯, ১৮:৫৭

নবান্ন উৎসবে জমেছে মাছের মেলা

মাছ মেলা ক্রেতা
জয়পুরহাটে মাছের মেলায় ক্রেতারা
সুন্দর করে সাজানো রুই, কাতলা, চিতল, সিলভার কার্প, বোয়ালসহ হরেক রকমের মাছ। সারি সারি দোকান। চলছে হাঁকডাক, দরদাম। এক কেজি থেকে শুরু করে ২০ কেজি ওজনের মাছ। লোকজনও ব্যাপক উৎসাহের সঙ্গে কিনছেন এসব মাছ। আবার দেখতে এসেছেন অনেকেই।

সোমবার দিনব্যাপী জয়পুরহাটের কালাইয়ের পাঁচশিরা বাজারে নবান্ন উৎসবকে কেন্দ্র করে মাছের এ মেলা বসে।

নবান্ন উৎসবকে ঘিরেই প্রতি বছর এখানে বসে মাছের মেলা। মেলায় অংশ নেন উপজেলার মাত্রাই, হাতিয়র, খোশালিপুর, হাটশর, হারুঞ্জ, পুনট, বেগুনগ্রাম, পাঁচগ্রামসহ ২৫ থেকে ৩০ গ্রামের মানুষ। ঘরে ঘরে এ উৎসবকে ঘিরে প্রতিটি বাড়িতেই মেয়ে-জামাইসহ স্বজনদের আগে থেকেই দাওয়াত দেওয়া হয়। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার মানুষ উৎসব দেখতে আসেন।

এবারের মেলায় বিশালাকৃতির একটি মাছ মাথার ওপর তুলে ক্রেতা আকর্ষণের চেষ্টা করছিলেন কালাই উপজেলার হাতিয়র গ্রামের মাছ বিক্রেতা গোলাম রব্বানী। তিনি ১৫ কেজি ওজনের সিলভার কার্প মাছটির দাম হাঁকেন ১১ হাজার টাকা। ২০০ থেকে ৬০০ টাকা কেজি দরে বিগ্রেড ও সিলভার কার্প বিক্রি হচ্ছে। রুই ও কাতলা মাছ বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৬০০ টাকা কেজি দরে।

কথা হয় বেলাল হোসেন, অমিত মণ্ডল, মনোয়ার হেসেন নামের কয়েকজন ক্রেতার সঙ্গে। প্রত্যকেই জানান, এবারের মাছের মেলায় আমদানি যেমন বেশি দামও অনেকটা বেশি।

মাছ ব্যবসায়ী সাদ্দাম হোসেন, তাজুল ইসলাম, অনিল কুমার  জানান, মাছের মেলায় প্রচুর লোক সমাগম হলেও বেচাকেনা সে তুলনায় কম। তারপরও যেটুকু বেচাকেনা হয়েছে, সব খরচ বাদে তাতেই লাভ টিকবে।

মাছ চাষী মাহমুদ হাসান জানান, এ মেলাকে কেন্দ্র করে তারা প্রায় এক বছর ধরে পুকুরে বড় বড় মাছ বাছাই করে চাষ করেছি। সেজন্য এবার পাঁচশিরা বাজারের মাছের মেলায় বড় বড় মাছ বিক্রি করতে পারছি।

কালাই পৌর শহরের হাসপাতাল এলাকা থেকে শিখা রানি সাহা পরিবারের সদস্যদের নিয়ে মাছের মেলায় এসেছেন। প্রায় প্রতি বছর মেলায় আসেন তিনি। এবার তার সঙ্গে এসেছেন ধামইরহাট থেকে আসা বড় ভাইয়ের স্ত্রী অপর্ণা কর্মকার। তারা দুইজন মিলে দরদাম করে ৬৫০ টাকা কেজি দরে চার কেজি ৩০০ গ্রাম ওজনের একটি কাতলা কিনেছেন দুই হাজার ৮০০ টাকায়।

তিনি বলেন, অনেক ক্রেতা ও দর্শনার্থীদের দেখে ভালো লাগছে। আসলে আমাদের বাঙালি জীবন থেকে উৎসবগুলো হারিয়ে যাচ্ছে। এরকম উৎসবে অংশ নিতে পারলে ব্যস্ততম জীবনে কিছুটা প্রশান্তি আসে।

জেবি/পি

RTVPLUS