logo
  • ঢাকা সোমবার, ১৮ নভেম্বর ২০১৯, ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

সাউথইস্ট ব্যাংকের ১১৫ কোটি টাকা নিয়ে ভারতে পালালেন দম্পতি

নওগাঁ প্রতিনিধি, আরটিভি অনলাইন
|  ২৩ অক্টোবর ২০১৯, ১১:৫৭ | আপডেট : ২৩ অক্টোবর ২০১৯, ১৪:১০
ব্যাংক টাকা উপজেলা
জেএন ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক গোপাল আগরওয়ালা
নওগাঁয় সাউথইস্ট ব্যাংক শাখার ১১৫ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে আগরওয়ালা দম্পতি ভারতে পালিয়ে গেছে বলে গুঞ্জন উঠেছে। ঘটনায় সাউথইস্ট ব্যাংক লিমিটেড নওগাঁ শাখা প্রধান কামারুজ্জামান সদর থানায় গেল নয় অক্টোবর একটি অভিযোগ করেছেন ওই দম্পতির বিরুদ্ধে।

তারা হলেন, জেএন ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক গোপাল আগরওয়ালা (৫৬) এবং তার স্ত্রী মেসার্স শুভ ফিড প্রোসেসিং এর সত্ত্বাধিকারী দীপা আগরওয়ালা (৪৮)। তারা নওগাঁ শহরের লিটন ব্রিজ মোড়ের বাসিন্দা। ঘটনার পর থেকে অন্য ব্যাংকগুলো নড়েচড়ে বসেছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, জেএন ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক গোপাল আগরওয়ালা এবং মেসার্স শুভ ফিড প্রোসেসিং এর সত্ত্বাধিকারী দীপা আগরওয়ালা ব্যাংকের নিকট থেকে বিভিন্ন তারিখ ও সময়ে বিভিন্ন ধরনের ঋণ সুবিধার জন্য আবেদন করলে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ গ্রাহকের নামে বিভিন্ন ধরনের ঋণ সুবিধা মঞ্জুর করে। এরপর গোপাল আগরওয়ালাকে ৮৪ কোটি ১৩ লাখ ৮৮ হাজার টাকা এবং তার স্ত্রী দীপা আগরওয়ালাকে ৩০ কোটি ৮০ লাখ ১৪ হাজারসহ মোট ১১৪ কোটি ৯৪ লাখ দুই হাজার টাকা ওই দম্পতিকে প্রদান করা হয়।

পরবর্তীতে তারা ব্যাংকের নিকট থেকে গৃহীত ঋণের টাকা পরিশোধ না করে বিভিন্ন অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করতে থাকে। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ গ্রাহকের মৌখিক আশ্বাসে এবং ব্যবসায়িক দিক বিবেচনা করে তাদের বিরুদ্ধে কোনোরকম আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে বিরত থাকে এবং গৃহীত ঋণের টাকা পরিশোধের জন্য সময় দেয়।এরপর তারা ব্যাংকের সঙ্গে সকল প্রকার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে এবং সম্পূর্ণরূপে আত্মগোপন করে। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ খোঁজ  নিয়ে জানতে পারেন ওই দম্পতি ব্যাংকের ঋণের টাকা পরিশোধ না করে দেশের বাহিরে অবস্থান করছেন।

---------------------------------------------------------------------
আরও পড়ুন : দাদিকে বিদায় করে নিজ বাসায় ছাত্রীকে ধর্ষণ করলেন শিক্ষক
---------------------------------------------------------------------

সরেজমিনে জানা গেছে, জেএন ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলা জগন্নাথ নগর এলাকার বগুড়া-নওগাঁ আঞ্চলিক মহাসড়কের উত্তর পাশে অবস্থিত। গেল ১৫ অক্টোবর ইন্ডাস্ট্রিতে সাউথইস্ট ব্যাংক লিমিটেড নওগাঁ শাখার পক্ষ থেকে সম্পত্তির তফশিল উল্লেখ করে নোটিশ ঝোলানো হয়েছে। তফসিলে উল্লেখ করা হয়েছে মোট ৪৩৪ শতক জমি (১৩ দশমিক ১৫১ বিঘা)। গেল ১৬ অক্টোবর মূল গেটটি তালাবদ্ধ ছিল। পাশে একটি ছোট পকেট গেট রয়েছে সেটা দিয়ে আসা-যাওয়া করা হচ্ছে। এছাড়া নিরাপত্তার জন্য ব্যাংকের পক্ষ থেকে চারজনসহ মোট ১৪ জন সিকিউরিটিকে রাখা হয়েছে। ইন্ডাস্ট্রির সকল কার্যক্রম বন্ধ এবং গুদাম ঘরগুলো ফাঁকা রয়েছে। প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে তিনজন কর্মচারীকে দেখভালের জন্য রাখা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানে যে ৪৫ জন কর্মচারী ছিল তাদের গেল দুইমাস থেকে বেতন দেয়া হয়নি। কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গেল তিন মাস থেকে ইন্ডাস্ট্রির সকল কার্যক্রম একদম বন্ধ রয়েছে। তবে তিন মাসের আগ থেকে কর্মচারীদের পর্যায়ক্রমে ছাটাই করা হয়। যেসব সরঞ্জাম রয়েছে সেগুলোতে মাকড়াশার জাল ধরেছে এবং মরিচা ধরা শুরু করেছে।

জেএন ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ভেতরে পূর্ব দিকে প্রায়  এক বিঘা পরিমাণ জায়গার ওপর রয়েছে মেসার্স শুভ ফিড প্রোসেসিং যা একটি ‘গুদাম ঘর’। গুদাম ঘরটি সম্পূর্ণ ফাঁকা ও মেঝেতে কয়েকটি পলিথিন পড়ে থাকলেও কোনও সরঞ্জাম নেই। এর সত্ত্বাধিকারী দীপা আগরওয়ালাকে ব্যাংক থেকে ৩০ কোটি ৮০ লাখ ১৪ হাজার টাকা ঋণ দেওয়া হয়েছে। বলা যায় ‘কাজীর গরু কাগজে আছে, গোয়ালে নেই’ এমন অবস্থা। বাস্তবে মেসার্স শুভ ফিড প্রোসেসিং থাকলেও এর কোনও কার্যক্রম নেই। সেখানে প্রয়োজনে জেএন ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ধান রাখার কাজে ব্যবহৃত হতো বলে জানা গেছে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ওই এলাকার জমির বর্তমান মূল্য প্রায় তিন লাখ টাকা শতাংশ। সে হিসেবে ১৩ দশমিক ১৫১ বিঘা জমির দাম প্রায় ১৩ কোটি ২ লাখ টাকা। এছাড়া স্থাপনাসহ আনুষঙ্গিক সরঞ্জামের মূল্য প্রায় ৪০ কোটি টাকা। মোট দাম প্রায় ৫৩ কোটি ২ লাখ টাকা। গেল কয়েক মাস থেকে ইন্ডাস্ট্রিজটি পড়ে থাকায় মরিচাধরাসহ যন্ত্রপাতি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে জমিসহ ওই ইন্ডাস্ট্রিজটি বিক্রি করা হলে ২৫-৩০ কোটি টাকা মূল্য হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

স্থানীদের অভিযোগ, ব্যাংক কর্তৃপক্ষ যোগসাজশ করে মোটা অংকের টাকা ঘুষ খেয়ে ওই প্রতিষ্ঠানের নামে প্রায় দেড়গুণ পরিমাণ টাকা ঋণ দেয়া হয়েছে। সরকার ও জনসাধারণের টাকা তারা আত্মসাতের জন্য এখন তারা দেশের বাইরে অবস্থান করছেন।

---------------------------------------------------------------------
আরও পড়ুন : পাহাড়ে অপহরণের পর বিএনপি নেতাকে গুলি করে হত্যা
---------------------------------------------------------------------

জেএন ইন্ডাস্ট্রিজ এর এক কর্মচারী বলেন, এটার জন্য সম্পূর্ণ ব্যাংক দায়ী। ব্যাংক যদি এতো টাকা না দিতো তাহলে মালিক পেতেন না। গেল দুই মাস থেকে আমরা বেতন পাচ্ছি না। পরিবার নিয়ে কষ্টে দিনাতিপাত করছি। আমার মতো আরও ৪৫ জন কর্মচারী বেতন না পেয়ে কান্নাকাটি করে কয়েকদিন হলো বাড়ি চলে গেছে।

শুভ ফিডের নামে যে (৩০ কোটি ৮০ লাখ ১৪ হাজার) টাকা দেয়া হয়েছে তা যুক্তিহীন। কারণ- নামে শুভ ফিড, কিন্তু কাজে কিছুই না। তার কোনও কার্যক্রমই নেই।

বিমান নামে এক কর্মচারী বলেন, গেল ১২ বছর থেকে এ প্রতিষ্ঠানে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন। হঠাৎ করে গেল তিন মাস আগ থেকে প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম আস্তে আস্তে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এরপর থেকে মালিক এখানে আর আসেন না। পরে জানলাম মালিক দেশের বাইরে চলে গেছে। ব্যাংকের লোকজন এসে এখন দখল করে নিয়েছে।

এ ব্যাপারে ওই দম্পতির সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলেও তা বন্ধ থাকায় কোনও মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি নওগাঁ জেলা শাখার সভাপতি অ্যাডভোকেট মহসিন রেজা বলেন, ব্যবসায়ীদের সঙ্গে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ যোগসাজশ করে জামানতের চেয়ে অনেক বেশি টাকা তাদেরকে ঋণ দিয়েছে। আর সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়েছেন ওই দম্পতি। তাদের যে পরিমাণ ঋণ দেওয়া হয়েছে তা উদ্ধার করা সম্ভব হবে বলে মনে হয় না। আমাদের দাবি অবিলম্বে দুদকসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিষয়টি আমলে নিক।

সাউথইস্ট ব্যাংক লিমিটেড নওগাঁ শাখা প্রধান কামারুজ্জামান এ ব্যাপারে কোনও তথ্য দিতে এবং মন্তব্য করতে চান না। তবে তিনি ব্যাংকের প্রধান শাখায় মিডিয়া সেল বিভাগে যোগাযোগ করতে বলেন।

আরও পড়ুন 

জেবি

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
  • দেশজুড়ে এর সর্বশেষ
  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়