logo
  • ঢাকা সোমবার, ১৮ নভেম্বর ২০১৯, ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

হাত-পা নেই, মুখ দিয়ে ছবি আঁকেন ইব্রাহীম (ভিডিও)

নওগাঁ প্রতিনিধি, আরটিভি অনলাইন
|  ২২ অক্টোবর ২০১৯, ১৩:৩০ | আপডেট : ২২ অক্টোবর ২০১৯, ১৪:০৫
দুই হাত নেই। অবশ হয়েছে দুই পা। তাতে কি?  মুখ দিয়ে এঁকে চলেছেন এমদাদুল মল্লিক ইব্রাহিম। পল্লী বিদ্যুতের লাইনম্যান হিসেবে কাজ করতে গিয়ে খুঁটি থেকে পড়ে হারিয়েছেন দুই হাত আর পুঙ্গু হয়েছে তার পা। ঢাকার সাভারে অবস্থিত সি আর পি তে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিন মাসের প্রশিক্ষণে ছবি আঁকার প্রতি তার ভালোবাসার জন্ম হয়। বর্তমানে তিনি নিজ বাড়ির পুকুর পাড়ে বসে মুখের সাহায্যে পেন্সিল ও রঙ তুলি দিয়ে ছবি আঁকেন।

নওগাঁ জেলার মান্দা উপজেলার পরানপুর ইউনিয়নের চককেশব বালুবাজার নিজ গ্রামে এক বৃদ্ধা মাকে নিয়ে বসবাস করছেন মাউত পেইন্টার ( Mouth Painter ) এমদাদুল মল্লিক ইব্রাহিম। সরকারের  প্রতিবন্ধী ভাতা ও মায়ের বিধবা ভাতা দিয়ে কোনোরকমে চলছে তার জীবন-সংসার। যদি কখনও সুযোগ হয় তবে প্রতিভাকে প্রদর্শনী আকারে তুলে ধরতে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি। পাশাপাশি ছবি থেকে যা আয় হবে তা দিয়ে নিজের ও মায়ের দেখাশুনা চালিয়ে যেতে চান।

২০০৫ সালের ১৫ই ডিসেম্বর দিনাজপুরের পল্লী বিদ্যুতের লাইনম্যান হিসেবে কাজ করতে গিয়ে এই পঙ্গুত্ব বরণ করতে হয় তাকে। চিকিৎসার খরচ পল্লী বিদ্যুৎ নিলেও, নেয়নি তার ভবিষ্যৎকে। তাই নিজ চেষ্টায় তিনি ছবি আঁকা শিখেছেন। বর্তমান সময়ে সমাজের অবহেলার পাত্র না হয়ে সি আর পি তে থাকা অবস্থায় মুখ দিয়ে ছবি এঁকে তা বিক্রি করে কিছু টাকা আয় করেছেন তিনি।

গেল চার বছর যাবত তিনি বৃদ্ধা মাকে নিয়ে নিজ বাড়ি চককেশব বালুবাজারে আছেন। তিনি ভালোবাসেন গ্রাম, বাংলা ও প্রকৃতির ছবি আঁকতে।

---------------------------------------------------------------------
আরও পড়ুন : রাত-বিরাতে ছাত্রী হোস্টেলটিতে ছাত্রলীগের হরহামেশা যাতায়াত
---------------------------------------------------------------------

নিজ বাড়িতে থেকে তার মুখ দিয়ে অঙ্কনকৃত ছবি প্রদর্শনী অসম্ভব হয়ে পড়েছে। তাই তিনি যদি সুযোগ পান তবে তার প্রতিভাকে কাজে লাগিয়ে পরিবারের সচ্ছলতা ফিরিয়ে আনতে চান।

মান্দা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা বলেন, দুই হাত নেই তবুও তিনি মুখের সাহায্যে এঁকে চলেছেন বিভিন্ন রকমের ছবি।

তিনি বলেন, মান্দা উপজেলা প্রশাসন থেকে তার ছবি প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করা হবে এবং তাকে সরকার থেকে সার্বিক সহযোগিতা করা হবে।

তার কথা শুনে পরানপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান তাৎক্ষণিক প্রতিবন্ধী ভাতাভোগী কার্ড এবং মায়ের জন্য বিধবা ভাতাভোগী কার্ডের ব্যাবস্থা করে দেন।

তিনি বলেন, উপজেলাভিত্তিক ফটো প্রদর্শনী ব্যবস্থা না থাকায় ইব্রাহিমের প্রতিভাকে সে বিকশিত করতে সক্ষম হচ্ছে না। যদি বড় পর্যায়ে কখনও তার প্রতিভাকে দেখানোর সুযোগ পান তবে তিনি একদিন দেশের সম্পদ হয়ে উঠবেন।

তার প্রতিবেশী ও আত্মীয়-স্বজনরা তার প্রতিভাকে দেখে মুগ্ধ। তিনি যখন ছবি আঁকেন তখন তার প্রতিবেশী ও আত্মীয়স্বজনরা তা মুগ্ধ হয়ে দেখেন। আর তার প্রতিভাকে সম্মান জানান তারা। মুখ দিয়ে ছবি আঁকা যে তার একটি বিশেষ গুণ তা তার ছবিগুলোর দিকে লক্ষ্য করলে বোঝা যায়। তিনি জানেন তার প্রতিভাকে গ্রাম থেকে বিকশিত করা সম্ভব না। তাই মাউথ পেইন্টার ইব্রাহীমের স্বপ্ন একদিন তিনি মুখ দিয়ে ছবি এঁকে পুরো বিশ্বের কাছে পরিচিতি লাভ করবেন।

আরও পড়ুন 

জেবি

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
  • দেশজুড়ে এর সর্বশেষ
  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়