logo
  • ঢাকা শনিবার, ০৮ আগস্ট ২০২০, ২৪ শ্রাবণ ১৪২৭

করোনা আপডেট

  •     গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে মৃত্যু ২৭ জন, আক্রান্ত ২৮৫১ জন, সুস্থ হয়েছেন ১৭৬০ জন: স্বাস্থ্য অধিদপ্তর

আবরার হত্যা : দোষ প্রমাণিত হলে সন্তানের শাস্তি চান আসামি সাদাতের বাবা

রাশেদুজ্জামান, জয়পুরহাট
|  ১৬ অক্টোবর ২০১৯, ২১:৫১ | আপডেট : ১৭ অক্টোবর ২০১৯, ০৮:৩৫
নাজমুস সাদাত
আবরারকে ডেকে নিয়েছিল নাজমুস সাদাত ।। ছবি : সংগৃহীত
বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার হত্যা মামলার এজাহারে থাকা ১৭ নম্বর আসামি জয়পুরহাট সদর উপজেলার কড়ই উত্তরপাড়ার হাফিজুর রহমানের ছেলে নাজমুস সাদাতের পাঁচদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। 

এর আগে মঙ্গলবার (১৫ অক্টোবর) মধ্যরাত ৩টায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা শাখার একটি দল দিনাজপুর জেলার বিরামপুর উপজেলার কাটলা বাজার এলাকা থেকে সাদাতকে তার এক আত্মীয় বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার। জানা যায়, তার উদ্দেশ্য ছিল কাটলা সীমান্ত ব্যবহার করে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার।  

সাদাতের বাবা হাফিজুর ২০০৭ সাল থেকে রাজশাহীর বিভিন্ন স্কুলে চাকরি করছেন। বর্তমানে হাজী মহসীন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে তিনি শিক্ষকতা করছেন। এর আগে তিনি জয়পুরহাট রামদেও বাজলা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন। 

চাকরির কারণে হাফিজুর প্রথমে জয়পুরহাট শহরে এবং বর্তমানে রাজশাহী মহানগরের হেলেনাবাদে বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস করেন। গ্রামে হাফিজুরকে সবাই চিনলেও তার ছেলে সাদাতকে সেভাবে কেউ চেনে না, তবে বাবা-মা’র সঙ্গে ঈদ ও বিভিন্ন অনুষ্ঠানে গ্রামে আসতেন।

সাদাত বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) যন্ত্রকৌশল বিভাগের ১৭তম ব্যাচের শিক্ষার্থী। তার মা গৃহিণী। দুই সন্তানের মধ্যে সাদাত বড়।

জানা গেছে, ছোট বেলা থেকেই প্রচণ্ড মেধাবী সাদাত ৫ম ও ৮ম শ্রেণিতে বৃত্তিসহ ২০১৫ সালে রাজশাহী গভর্মেন্ট ল্যাবরেটরি হাইস্কুল থেকে গোল্ডেন প্লাসসহ রাজশাহী বোর্ডে ৩য় স্থান অর্জন করে। সবশেষ ২০১৭ সালে রাজশাহী কলেজে থেকে এইচএসসিতে গোল্ডেন জিপিএসহ রাজশাহী বোর্ডে ৪র্থ স্থান অর্জন করে। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট) ও রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (রুয়েট) ভর্তির সুযোগ পেলেও শেষ পর্যন্ত বুয়েটকেই বেছে নেন তিনি।

তার দাদা মওলানা আছির উদ্দিন স্থানীয় কড়ই নুরুল হুদা কামিল মাদরাসার অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক। দাদাসহ সাদাত এর দুই চাচা গ্রামে থাকেন। 

কড়ই নুরুল হুদা কামিল মাদরাসার ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষক আব্দুল মতিন জানান, সাদাতের বাবা হাফিজুর রহমান সম্পর্কে তার আপন চাচাতো ভাই। সাদাত তার দাদার বাড়ি খুব কম আসত। গ্রামের মানুষ তাকে চিনত সজিব নামে। গ্রেপ্তার হওয়ার পর বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর দেখে তারা আবরার হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সাদাতের জড়িত থাকার বিষয়টি জানতে পেরেছেন।  

সাদাতের বাবা হাফিজুর রহমান জানান, সাদাত পরিস্থিতির স্বীকার, তবে দোষ প্রমাণিত হলে অবশ্যই শাস্তি হওয়া উচিত।

---------------------------------------------------------------
আরো পড়ুন: বুয়েটে নির্যাতন ও র‌্যাগিং বন্ধে প্রশাসনের শক্ত অবস্থান চান শিক্ষার্থীরা
---------------------------------------------------------------

সাদাতের চাচা ওবাইদুর রহমান বলেন, সাদাত যদি অপরাধী হয় তাহলে আইন তার বিচার করবে, না হলে সে আমাদের মাঝে নির্দোষ প্রমাণিত হয়ে ফিরে আসুক।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন প্রতিবেশী জানান, সাদাত এর বাবা হাফিজুর রহমান অত্যন্ত মেধাবী ছিলেন। তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় শিবিরের রাজনীতি করতেন। পরবর্তীতে দলে সক্রিয় না হলেও কথাবার্তায় তিনি সবসময় আওয়ামী লীগের সমালোচনা করতেন। এলাকায় তাদের পরিবার আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত নয়। জয়পুরহাট জেলার মধ্যে কড়ই গ্রাম জামায়াত-শিবিরের জন্য উর্বর এলাকা বলেও তারা জানান।

বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে গেল ৬ অক্টোবর রাতে ডেকে নিয়ে যায় বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মী। এরপর রাত ৩টার দিকে শেরেবাংলা হলের নিচতলা ও দোতলার সিঁড়ির করিডোর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় আবরারের বাবা বরকত উল্লাহ বাদী হয়ে চকবাজার থানায় ১৯ জনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা করেন। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা ও অপরাধ তথ্য বিভাগ।

এসএস

RTVPLUS
corona
দেশ আক্রান্ত সুস্থ মৃত
বাংলাদেশ ২৫২৫০২ ১৪৫৫৮৪ ৩৩৩৩
বিশ্ব ১৯২৮১৯২৮ ১২৩৭৭১৩৩ ৭১৮০৬১
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
  • দেশজুড়ে এর সর্বশেষ
  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়