logo
  • ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৯, ১ কার্তিক ১৪২৬

১৮ বছরেও বিচার মিলেনি, মারা গেলেন বাদী

নেত্রকোনা প্রতিনিধি
|  ০৮ অক্টোবর ২০১৯, ২০:০৪
১৮ বছরেও বিচার মিলেনি, মারা গেলেন বাদী
ফাইল ছবি
দেড়যুগ আগে বিএনপি জামায়াত জোট সরকারের আমলে গুলিতে নিহত জেলা যুবলীগ সভাপতি স্বপন জোয়ারদার হত্যা মামলার বাদী তার ভাই রঞ্জিত জোয়ারদার মারা গেছেন।

মঙ্গলবার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে পূর্বধলা  উপজেলার  কালডোয়ার গ্রামের  নিজ বাড়িতে মারা যান তিনি।

সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য হাবিবা রহমান খান শেফালী ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান প্রশান্ত কুমার রায়   মৃত্যুর খবর পেয়ে রঞ্জিত জোয়ারদারকে শেষ বারের মত দেখতে তার বাড়িতে যান। এসময় তারা শোক প্রকাশ করে রঞ্জিত জোয়ারদারের পরিবারের সদস্যদের শান্তনা দেন।

জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান প্রশান্ত কুমার রায় জানান, ১৮ বছর পেরিয়ে গেল। এখনও মামলার বিচার হয়নি। বাদী বিচার দেখে যেতে পারলেন না। রাজনৈতিক কারণেই স্বপন জোয়ারদারকে তৎকালীন বিএনপি জামায়াত জোট সরকারের লোকজন তাকে শহরের প্রাণকেন্দ্র তেরীবাজার মোড়ে গুলি করে হত্যা করে। মামলাটির দ্রুত বিচার শেষ করে ঘাতকদের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবি জানান।

হত্যার এক দশক পর ২০১২ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি  স্বপন জোয়ারদার হত্যা মামলায় পাঁচজন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয়  সিআইডি পুলিশ।  মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ইন্সপেক্টর খন্দকার ফজলে রহিম জেলার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

এতে পাঁচজনকে অভিযুক্ত করা হয় বলে জানান সি আইডি ইন্সপেক্টর খন্দকার ফজলে রহিম।

সেসময় তিনি সাংবাদিকদের বলেছিলেন, অভিযুক্তরা হলেন আটপাড়া উপজেলার মোরশেদ হাবিব ভূইয়া জুয়েল, মো. মাজহারুল ইসলাম মামুন, মো. সাইফুল আলম সোহেল, দেলোয়ার জাহান মোহাম্মদ হাসান বিন শফিক ওরফে সোহাগ ও সদর উপজেলার বালি গ্রামের মাসুদ রানা লিটন।

মামলার নথি থেকে জানা যায়, ২০০১ সালের ২৮ নভেম্বর শহরের তেরীবাজার মোড়ে সৈয়দ ম্যানসনের কাছে জেলা যুবলীগ সভাপতি স্বপন জোয়ারদারকে সন্ত্রাসীরা গুলি করে হত্যা করে।

এ ঘটনায় বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের জুয়েল, সুহেল, মামুন, লিটন ও এটিএম মোস্তফা চুন্নুসহ অজ্ঞাত পরিচয় আরও সাত জনকে আসামি করে নেত্রকোণা থানায় মামলা করেন স্বপনের বড় ভাই রঞ্জিত জোয়ারদার।

বাদির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে থানা থেকে মামলাটি প্রথমে সিআইডি ও পরে ডিবিতে স্থানান্তরিত হয়। তদন্ত শেষে দুইটি সংস্থাই মামলাটির চূড়ান্ত রিপোর্ট দিলে বাদী তার বিরুদ্ধে নারাজি দেন।

পরে আদালত মামলাটি তদন্তের  জন্য আবারও সিআইডিতে পাঠানোর নির্দেশ দেয়।

মামলাটির অগ্রগতি জানতে চাইলে নেত্রকোণা জেলা আদালদের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি)ইফতেখার উদ্দিন মাসুদ জানান, বর্তমানে চাঞ্চল্যকর এই মামলাটি ঢাকায় স্পেশাল ট্রাইব্যূনালে বিচারাধীন আছে।

এমকে

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়