logo
  • ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২০, ২৯ শ্রাবণ ১৪২৭

পদ্মার ভাঙনে বিলীন শত শত ঘর-বাড়ি ও ফসলি জমি

এম,মনিরুজ্জামান,রাজবাড়ী
|  ০২ অক্টোবর ২০১৯, ০৮:৩২ | আপডেট : ০২ অক্টোবর ২০১৯, ১০:২২
পানিবন্দি, ভাঙন, জবানবন্দি
অসময়ে পদ্মায় অস্বাভাকিহারে পানি বৃদ্ধির ফলে রাজবাড়ী জেলার বেড়িবাঁধের বাইরের সাতটি ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকায় দ্বিতীয় দফায় পানিতে তলিয়ে ব্যাপক বন্যার সৃষ্টি হয়েছে। গেল এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে তিন উপজেলার প্রায় দেড় লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে হয়ে খাদ্য ও নিরাপদ পানি কষ্টে ভুগছে।

পানিবন্দি হয়ে পদ্মায় পানি বৃদ্ধি ও তীব্র স্রোতের ফলে রাজবাড়ী জেলার নদী তীরবর্তী এলাকার সদর, গোয়ালন্দ ও কালুখালী উপজেলার বিভিন্ন অংশে ভাঙন দেখা দিয়েছে।

এরই মধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে শত শত ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি এবং দুটি সরকারি প্রাথমিক স্কুলসহ বহু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। আর নদী ভাঙনের ঝাঁকিতে রয়েছে এ তিন উপজেলার সাতটি প্রাথমিক বিদ্যালয়, একাধিক মসজিদ-মাদরাসা, বাজার ও কমিউনিটি স্থাস্থ্যকেন্দ্র। ক্ষতিগ্রস্তরা বলছেন, ভাঙন প্রতিরোধে জিও ব্যাগ ফেলা হলেও প্রয়োজনের তুলনায় তা অনেক কম।

জানা গেছে, নদীর ভাঙন ঠেকাতে ২৫০ কেজি ওজনের বালিভর্তি জিও ব্যাগ ফেলছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। তবে নদীতে তীব্র স্রোত থাকায়ও মিলছে না সুফল এমন অভিযোগ নদী পাড়ের মানুষের। তারা জানিয়েছেন, এভাবে নদী ভাঙন চলতে থাকলে জেলার মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাবে অনেক গ্রাম ও ইউনিয়ন। ইতিমধ্যে গেল দুই বছরে গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ও দেবগ্রাম ইউনিয়নের অর্ধেকের বেশি এলাকায় নদীতে বিলীন হয়েছে।

তবে ভাঙন বৃদ্ধি পেলে প্রয়োজনে কাজের পরিধি বাড়ানোর কথা জানিয়েছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা। এবারের বর্ষা মৌসুমে রাজবাড়ী জেলার ১১কিলোমিটার বেড়ীবাঁধের মধ্যে ১৯টি পয়েন্টে দেখা দেয় ভাঙন। এই ভাঙন রোধে দ্রুত স্থায়ী পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি স্থানীয়দের।

সদরের পদ্মা পাড়ের  অন্তমোড় এলাকার গৃহবধূ মালেকা বেগম (৫০) জানান, এ পর্যন্ত চারবার তার বাড়ি নদীতে বিলীন হয়েছে। এখন অন্যের জমিতে আশ্রয় নিয়ে আছেন তিনি। প্রতি বছর নদী সবকিছু কেড়ে নেয়। এলাকার চেয়ারম্যান মেম্বাররা তাদের কোনও খবর নেন না।

কৃষক মো. আইনাল বলেন, নদীর পানিতে এই এলাকার সব ফসলি জমি তলিয়ে গেছে। অনেক জমি নদীতে চলে গেছে। ফুলকপি, টমেটো ও ধানের চারাও তলিয়ে গেছে।

গোয়ালন্দ ছোট ভাকলা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. আমজাদ হোসেন ও কালুখালি উপজেলার রতনদিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মেহেদী হাসিনা পারভিন বলেন, হঠাৎ করেই বৃদ্ধি পেয়েছে পদ্মা নদীর পানি। এতে করে গোয়ালন্দ উপজেলার ছোট ভাকলাসহ কয়েকটি গ্রামের অনেক ফসলি জমি ও বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা দেওয়ার চেষ্টা করছি। তবে পাউবো যে পরিমাণ জিও ব্যাগ ফেলছে তা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম।

রাজবাড়ী পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. আরিফুর রহমান অঙ্কুর আরটিভি অনলাইনকে বলেন, রাজবাড়ী জেলা সদরের সাত কিলোমিটার অংশে প্রকল্পের কাজ চলছে। পাশাপাশি ঝুঁকিতে আছে আরও সাড়ে চার কিলোমিটার। এসব ঝুঁকিতে থাকা অংশ প্রকল্পের আওতায় আনতে ডিপিপির কাজ চলছে। গোয়ালন্দ উপজেলার দেবগ্রাম ও দৌলতদিয়া ইউনিয়নের পাঁচ কিলোমিটার অংশে ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। এছাড়া জরুরি ভিত্তিতে জেলার বিভিন্ন পয়েন্টে চলছে জিও ব্যাগ ফেলার কাজ। সদরের মহাদেবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবকাঠামো রক্ষায় গত জুন মাসে ১২ হাজার ও বর্তমানে ছয় হাজার জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে। প্রয়োজনে কাজের পরিধি আরও বাড়ানো হবে।

জেবি

RTVPLUS
corona
দেশ আক্রান্ত সুস্থ মৃত
বাংলাদেশ ২০৬৬৪৯৮ ১৫৩০৮৯ ৩৫১৩
বিশ্ব ২০৫৫৩৩২৮ ১৩৪৬৫৬৪২ ৭৪৬৬৫২
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
  • দেশজুড়ে এর সর্বশেষ
  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়