logo
  • ঢাকা শনিবার, ১৯ অক্টোবর ২০১৯, ৩ কার্তিক ১৪২৬

প্রবাসী বাবার কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিতেই আশরাফুলকে অপহরণ

স্টাফ রিপোর্টার, মানিকগঞ্জ
|  ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১৩:৪২
অপহরণ, আটক, আশরাফুল
প্রবাসী বাবার কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিতেই আশরাফুলকে তুলে নিয়ে গিয়েছিল অপহরণকারীরা।

কিন্তু কোথায়ও লুকিয়ে রাখতে না পেরে অপহরণের এক ঘণ্টার মাথায় আশরাফুলকে শ্বাসরোধে হত্যা করে কালীগঙ্গা নদীতে মরদেহ ফেলে দেয়। ঘটনার ৪৫ দিন পর গতকাল শনিবার আটক দুই যুবক আশরাফুলকে অপহরণ ও হত্যার কথা স্বীকার করেছে। ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে আটক যুবকদের দেওয়া জবানবন্দি অনুযায়ী জেলার সিঙ্গাইর উপজেলার জামশা এলাকায় কালীগঙ্গা নদীতে মরদেহ উদ্ধারে চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়।

আটক দুই যুবক মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার কাফাটিয়া গ্রামের মনোয়ার হোসেনের ছেলে ইব্রাহিম হোসেন (২৪) ও সিঙ্গাইর উপজেলার উত্তর জামশা গ্রামের আবুল হাশেমের ছেলে আরিফ হোসেনকে (২৩) আজ রোববার আদালতে পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন মানিকগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রকিবুজ্জামান।

মানিকগঞ্জ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) হানিফ সরকার জানান, গেল ছয় আগস্ট বিকেলে স্কুলছাত্র আশরাফুল ইসলাম মোটরসাইকেল নিয়ে প্রাইভেট পড়তে গিয়ে নিখোঁজ হন। এ ঘটনায় পরের দিন আশরাফুলের দাদা নাজিম উদ্দিন মানিকগঞ্জ সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়রি করেন। পরে জিডিটি মামলা আকারের রেকর্ড করা হয়। 

তিনি বলেন, ২৫ আগস্ট আশরাফুলের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি পরিত্যক্ত অবস্থায় সিঙ্গাইর আজিজমপুর এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়। ওই মোবাইলের সূত্রে ধরে বৃহস্পতিবার ভোরে ইব্রাহিম হোসেন ও আরিফ হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। শুক্রবার তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নিখোঁজ আশরাফুলের মরদেহ উদ্ধারের জন্য সিঙ্গাইর উপজেলার উত্তর জামশা এলাকায় কালিগঙ্গা নদীতে ডুবুরি দিয়ে অভিযান চালানো হয়। কিন্তু মরদেহের সন্ধান মেলেনি।

গ্রেপ্তারকৃতরা পুলিশ ও আদালতকে জানিয়েছেন, ঘটনার দিন গেল ছয় আগস্ট স্কুলছাত্র আশরাফুলকে তার ব্যবহৃত সুজুকি মোটরসাইকেল নিয়ে আসামি ইব্রাহিম হোসেন সিঙ্গাইর উপজেলার উত্তর জামশা নিয়ে যায়। সেখানে আশরাফুলসহ চার আসামি উত্তর জামশা গ্রামে আলমের বাড়িতে মাদক সেবন করে। এরপর একটু রাত হলেই আশরাফুলকে ইউনুসের বাঁশঝাড়ে নিয়ে যাওয়া হয়। আসামিরা আশরাফুলকে গলায় গামছা পেঁচিয়ে হত্যা করে তার মরদেহ পার্শ্ববর্তী কালিগঙ্গা নদীতে ফেলে দেয়। ওই রাতেই আশরাফুলের মোবাইলের ইমু ব্যবহার করে আসামিরা তার প্রবাসী বাবা মোহাম্মদ আলীর কাছে ৫০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে ও বিভিন্ন বিকাশের নম্বর দেন টাকা পাঠানোর জন্য।

ঘটনার কয়েকদিন পর আশরাফুলের সুজকি মোটরসাইলটি রাজবাড়ি জেলার সাজ্জাদ হোসেনের কাছে ৪০ হাজার টাকা বিক্রি করে ওই টাকা আসামিরা ভাগ করে নেয়। আশরাফুলের ওই মোটরসাইকেলটি গেল শুক্রবার সিলেট থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। 

অপরদিকে চারজন আসামির মধ্যে একজন সম্প্রতি বিদেশে পাড়ি জমিয়েছেন। অন্যজনকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

শনিবার বিকেল চারটা থেকে রাত সাড়ে  আটটা পর্যন্ত মানিকগঞ্জ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মো. জাহাঙ্গীর হোসেনের কাছে দুই আসামি আশরাফুলকে হত্যার দায় স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন।

আশরাফুল ইসলাম স্থানীয় কাফাটয়িা উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র এবং ধল্লা-কাফাটিয়া গ্রামের সৌদি প্রবাসী মোহাম্মদ আলীর একমাত্র ছেলে। সে ছয় আগস্ট বিকেলে বাড়ি থেকে প্রাইভেট পড়ার কথা বলে মোটরসাইকেল নিয়ে বের হওয়ার পর সে অপহরণ হয় বলে জানায় আশরাফুলের পরিবার।

জেবি

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়