logo
  • ঢাকা বুধবার, ১৬ অক্টোবর ২০১৯, ১ কার্তিক ১৪২৬

মিন্নি একাই হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিল রক্তাক্ত রিফাতকে

বরগুনা প্রতিনিধি
|  ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২০:৫৪
রিফাত, মিন্নি, মৃত্যু
বরগুনার বহুল আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যাকাণ্ডের হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনের একটি ভিডিও নতুন করে ভাইরাল হয়েছে।

বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের সামনের একটি সিসি ক্যামেরায় রেকর্ড হওয়া ওই ভিডিওতে দেখা যায়, বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে রিফাত শরীফের ওপর  হামলার পর ওই দিন সকাল ১০টা  ২১ মিনিটের সময় মিন্নি একাই একটি রিকশায় করে গুরুতর জখম হওয়া অচেতন রিফাতকে হাসপাতালের  জরুরি বিভাগের সামনে নিয়ে আসেন। এ সময় সেখানে দাঁড়ানো মামুন নামের একজন রিফাত শরীফকে বহন করা রিকশার দিকে দৌড়ে আসেন।  রিফাতের অবস্থা দেখেই তিনি দৌড়ে হাসপাতালের ভেতরে গিয়ে একটি স্ট্রেচার নিয়ে ফের রিকশার পাশে আসেন। এর সঙ্গে সঙ্গেই সেখানে এগিয়ে আসেন উপস্থিত অনেকেই। এরপর রিকশা থেকে নামিয়ে অচেতন রিফাত শরীফকে স্ট্রেচারে করে হাসপাতালের ভেতরে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর রক্তমাখা হাতে মিন্নি হাসপাতালের সামনে উপস্থিত একজনের ফোন নিয়ে কল দিয়ে কারো সঙ্গে কথা বলে হাসপাতালের ভেতরে প্রবেশ করেন। এর কিছুসময় পরে মিন্নির বাবা মোয়াজ্জেম হোসেন কিশোর হাসপাতালে আসেন।

সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটের সময় বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্সটি হাসপাতালের সামনে এনে রিফাত শরীফকে বহন করে বরিশাল নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত করা হয়। এরপর ১০ টা ৪৪ মিনিটের সময় অক্সিজেন ও দুটি স্যালাইন লাগানো অবস্থায় রিফাত শরীফকে স্ট্রেচারে করে হাসপাতালের সামনে অপেক্ষমাণ অ্যাম্বুলেন্সে তোলা হয়। রিফাত শরীফকে বহন করা অ্যাম্বুলেন্সটি ১০ টা ৪৯ মিনিটের সময় বরগুনা জেনারেল হাসপাতাল প্রাঙ্গণ ত্যাগ করে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের দিকে রওনা হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের সামনে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের একটি ও বরগুনা জেলা পুলিশের একটি সিসি ক্যামেরা আছে। তবে এই ভিডিওটি কোন ক্যামেরায় ধারণ করা তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

রিফাত শরীফ হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত হওয়ার পর কারামুক্ত হয়ে বরগুনার মাইঠা এলাকার নয়াকাটা বাবার বাসায় অবস্থান করছেন মিন্নি। তবে আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকায় এ বিষয়ে মিন্নির কোনও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

মিন্নির বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোর আরটিভি অনলাইনকে বলেন, হাসপাতালের সামনের এই ভিডিওটি তিনি সংগ্রহ করেছেন। তার দাবি মিন্নি যে রিফাত শরীফকে বাঁচাতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে, তা কলেজের সামনের ভিডিও এবং হাসপাতাল প্রাঙ্গণের ভিডিওতে সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত। আমার মেয়ে রিফাত হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত নয়। আমার মেয়ের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, আমার মেয়ের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেই কলেজের সামনের ভিডিওটি এডিট করে কিছু অংশ প্রকাশ করা হয়েছে। কিন্তু হাসপাতালের সামনের এই ভিডিওটি গোপন করার চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু তা পারেনি। তিনি বলেন, এরকম আরও একটি ভিডিও আমার সন্ধানে আছে। আমি সেই ভিডিওটি উদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছি।

গুরুতর আহত রিফাতকে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসার পর চিকিৎসা দেয়ার সময়  উপস্থিত ছিলেন বরগুনার সিভিল সার্জন অফিসের সিনিয়র টেকনিশিয়ান সুভাষ চন্দ্র। তিনি আরটিভি অনলাইনকে বলেন, রিফাত শরীফকে যখন হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসা হয় তখন আমি সেখানে উপস্থিত ছিলাম। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে রিফাতের অবস্থা খুব খারাপ ছিল। বিশেষ করে তার বাম পাশের ফুসফুস ধারালো অস্ত্রের আঘাতে দ্বিখণ্ডিত হয়ে গিয়েছিলো। এ কারণে সব ব্যবস্থা করেও তার জীবন সংশয় হতে পারে ভেবে চিকিৎসকের পরামর্শে তাকে রক্ত দেওয়া হয়নি। তাই প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে রিফাতকে দ্রুত উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছিলো।

জেবি

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়