logo
  • ঢাকা রবিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৭ আশ্বিন ১৪২৬

রাজবাড়ীতে পদ্মায় বিলীন বসতভিটা ও ফসলি জমি

রাজবাড়ী প্রতিনিধি
|  ২৮ আগস্ট ২০১৯, ২০:৪৭
দৌলতদিয়া লঞ্চঘাট
ভাঙন কবলিত এলাকায় ট্রলারে করে জিও ব্যাগ ফেলছে পানি উন্নয়ন বোর্ড নিয়োজিত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান, ছবি: আরটিভি অনলাইন
পদ্মায় পানি কমার সাথে সাথে ফের তীব্র হয়েছে রাজবাড়ীর নদী ভাঙন। গত এক সপ্তাহে গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ইউনিয়নের ডল্লাপাড়া ও জলিল মন্ডলেরপাড়া এবং দেবগ্রাম ইউনিয়নের কাওয়াজানি গ্রামের নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে শতাধিক বসত বাড়ি ও শতশত বিঘা ফসলি জমি। অন্যত্র সরিয়ে নিতে হয়েছে অন্তত শতাধিক বসতবাড়ি। এখনও চরম ঝুঁকিতে রয়েছে দক্ষিণাঞ্চলের প্রবেশদ্বার দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটের দৌলতদিয়া লঞ্চঘাট, বসতবাড়িসহ বহু গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা।

বুধবার সকালে সরেজমিনে দৌলতদিয়া লঞ্চঘাটে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে উপচেপড়া মানুষের ভিড়। সবাই লঞ্চঘাট থেকে ২০০ মিটার দূরে ডল্লাপাড়া এলাকার নদী ভাঙন দেখছেন আর আহাজারি করছেন। এ সময় ভাঙন কবলিত এলাকায় ট্রলারে করে জিও ব্যাগ ফেলতে আসেন পানি উন্নয়ন বোর্ড নিয়োজিত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। জিও ব্যাগ ফেলা শুরু হলে কিছুটা স্বস্তি পান এলাকাবাসী। কিন্তু তারা যখন শুনতে পান দৌলতদিয়ায় ভাঙন এলাকার জন্য মাত্র ৬ হাজার ৪০০ বস্তা জিও ব্যাগ ফেলা হবে তখনই তাদের চোখে মুখে আবার চিন্তার ছাপ লক্ষ্য করা যায়।

এ সময় পানি উন্নয়ন বোর্ড নিয়োজিত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্বত্ত্বাধিকারী ও গোয়ালন্দ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম মন্ডল জানান, সম্প্রতি নদী ভাঙন মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। দৌলতদিয়ায় আর মাত্র ২০০ মিটার ভাঙলেই লঞ্চঘাট ক্ষতিগ্রস্ত হবে। জরুরি ভিত্তিতে পানি উন্নয়ন বোর্ড দৌলতদিয়ায় ৬ হাজার ও দেবগ্রাম ইউনিয়নের জন্য ৬ হাজার ৪০০ বস্তা জিও ব্যাগ ফেলা অনুমতি দিয়েছে, যা একেবারেই কম। এই সামান্য জিও ব্যাগ দিয়ে ভাঙন ঠেকানো সম্ভব হবে না। আরো অন্তত ২০ হাজার জিও ব্যাগ ফেলা প্রয়োজন।

এদিকে সরেজমিনে গোয়ালন্দ উপজেলার দেবগ্রাম ইউনিয়নের কাওয়াজানি গিয়ে দেখা যায়, সেখানে চোখের নিমিষেই বিলীন হচ্ছে ফসলি জমি।

এ সময় কাওয়াজানি গ্রামের বাসিন্দা ফরিদ শেখ বলেন, গত এক সপ্তাহ যাবৎ এই এলাকায় ভাঙন শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে কমপক্ষে একশত বিঘা ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। একসপ্তাহে কমপক্ষে শতাধিক বসতবাড়ি সরিয়ে নিতে হয়েছে। অনেকে জমিজমা না থাকায় অন্যের জমিতে বসবাস করছেন।

দেবগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আতর আলী সরদার আরটিভি অনলাইনকে বলেন, পদ্মার ভয়াল থাবায় ইউনিয়নটি ছোট হয়ে আসছে। এই ইউনিয়নের প্রতি কারো কোনো নেকনজর নেই। মানুষের হাহাকার দেখে স্থানীয় সংসদ সদস্যসহ প্রশাসনের কাছে বার বার গিয়েছি। আমাদের একটিই চাওয়া ছিল ত্রাণ নয়, নদীশাসন চাই। নদীতে ক্রসবাঁধ চাই। এখন প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) রাজবাড়ীর নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ সফিকুল ইসলাম আরটিভি অনলাইনকে বলেন, চলতি বছরের বর্ষা মৌসুমের শুরুতে রাজবাড়ী জেলার ১৯টি পয়েন্টে নদী ভাঙন দেখা দিয়েছিল। তখন পানি উন্নয়ন বোর্ড জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙনরোধে কাজ করেছে। নতুন করে গত এক সপ্তাহ ধরে আবার ভাঙন দেখা দিয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে জরুরিভিত্তিতে ওই দুটি ইউনিয়নের জন্য দুটি প্যাকেজে ১২ হাজার ৮০০ বস্তা জিও ব্যাগ ফেলার কাজ শুরু হয়েছে।

পি

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়