logo
  • ঢাকা শুক্রবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৫ আশ্বিন ১৪২৬

হামলার ভয়ে অর্ধশত পরিবার এলাকা ছাড়া

বাগেরহাট প্রতিনিধি
|  ২৪ আগস্ট ২০১৯, ১৯:২১ | আপডেট : ২৪ আগস্ট ২০১৯, ১৯:৩৭
ভাংচুর, বাড়ি, ঘর
বাগেরহাটের মোল্লাহাট উপজেলার চুনখোলা ইউনিয়নে দুই দল গ্রামবাসীর সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে চিকিৎসাধীন অবস্থায় একজন নিহতের ঘটনার জের ধরে গেল এক সপ্তাহ ধরে ‘দাড়িয়ালা ও  ছোট কাচনা’ গ্রামে চলছে বাড়ি-ঘর-দোকানপাট ভাংচুর ও  লুটপাট। দফায়-দফায় চলমান হামলায় প্রতিপক্ষের অর্ধশত বাড়ি ভাংচুর ও  লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। মামলা ও হামলার ভয়ে শুধু পুরুষ নয় নারীরাও গ্রাম ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছে। এই ঘটনায় এলাকায় ভীতিকর পরিবেশ বিরাজ করছে।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও ক্ষোভ প্রকাশ করে এলাকার সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন। তবে পুলিশ বলছে পরিস্থিতি তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

পুলিশ জানায়, বাগেরহাটের মোল্লাহাট উপজেলার ‘দাড়িয়ালা ও  ছোট কাচনা’ গ্রামে ‘মোল্লা ও হালদার’ নামের দুই দল গ্রামবাসীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা বিরোধের জেরে গেল তিন আগস্ট বিকেলে দাড়িয়ালা বাজারে সংঘর্ষ শুরু হয়। পরে মোল্লা গ্রুপের প্রধান সবুজ মেম্বার ও হালদার গ্রুপের প্রধান রজু হালদার গ্রুপের সদস্যরা দেশীয় অস্ত্রসহ পরস্পর সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। ওই সংঘর্ষে দুই পুলিশসহ উভয় গ্রুপের অর্ধশতাধিক লোক আহত হয়। আহতদের মধ্যে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গেল আট আগস্ট মোল্লা গ্রুপের সদস্য দোলোয়ার হোসেন মারা যান।

এই মৃত্যুর ঘটনার পর ১৫ আগস্ট থেকে মোল্লা গ্রুপের সদস্যরা মৃত্যুর প্রতিশোধ নিতে হালদার গ্রুপের সদস্যদের বাড়ি-ঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে দফায়-দফায় ভাংচুর ও লুটপাট শুরু করে। গত এক সপ্তাহ ধরে ‘দারিয়ালা ও ছোট কাচনা’ গ্রামে হালদার গ্রুপের অর্ধশত বাড়ি-ঘর-ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। ক্ষতিগ্রস্ত এসব বাড়ির কয়েক কোটি টাকার মালামাল ও পশু লুটের পাশাপাশি অনেক আসবাবপত্র আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। এমনকি শিক্ষার্থীদের বই-খাতাও লুটে নেয়া হয়েছে। এসব পরিবারের নারী সদস্যদের গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখা ও শিশুদেরও মারপিট করার অভিযোগ রয়েছে। তাদের এ রকম হামলায় শিশু ও নারীদের মধ্যে ভীতি কাজ করছে।

সরেজমিনে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা গেছে, হালদার গ্রুপের বাড়ি-ঘর কুপিয়ে ও হ্যামার দিয়ে বসবাসের অনুপযোগী করে দেয়া হয়েছে। বাড়ির ফলজবৃক্ষ কেটে ফেলা, বিদ্যুতের মিটার ভেঙে ফেলা, সরকারি গভীর নলকূপের মাথা খুলে নেয়া হয়েছে। ভাংচুরের হাত থেকে রেহাই পায়নি টয়লেট ও রান্নাঘরও।

হত্যা মামলা ও হামলায় নারী-পুরুষ শূন্য এসব বাড়ি-ঘর এখন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।

গৃহবধূ নাজমা বেগম জানান, রাতের বেলায় প্রতিপক্ষরা তার বাড়িতে হামলা চালায়। তাকে সন্তানসহ ঘর থেকে বের করে দেয়া হয়। পরে তার ঘরে থাকা সবকিছু লুটে নিয়েছে। বাচ্চাদের একমুঠো ভাত খাওয়ানোর ব্যবস্থাও নেই। বাড়ি ছেড়ে খেয়ে না খেয়ে দিন কাটছে তাদের।

মোল্লাহাট উপজেলার চুনখোলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুন্সি তানজিলুর রহমান বলেন, পূর্ব শত্রুতার জের ধরে সংঘর্ষে আহত একজন নিহতের ঘটনার জের ধরে মামলা হয়। কিন্তু একটি পক্ষ লুটপাট ভাংচুর শুরু করে এলাকার পরিবেশ নষ্ট করছে। এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া জরুরি।

মোল্লাহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী গোলাম কবীর জানান, আহত ব্যক্তি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়ায় একটি পক্ষ লুটপাট ভাংচুর শুরু করে। বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

জেবি/পি

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়