logo
  • ঢাকা মঙ্গলবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৯, ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

দৌলতদিয়া ঘাটে ঢাকামুখী মানুষের ঢল

রাজবাড়ী প্রতিনিধি
|  ১৭ আগস্ট ২০১৯, ২০:১৪ | আপডেট : ১৭ আগস্ট ২০১৯, ২০:২৩
দৌলতদিয়া, ফেরি, ঘাট
প্রিয়জনের সঙ্গে ঈদের আনন্দ উপভোগ করে জীবিকার তাগিদে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার কর্মজীবী মানুষ ঢাকায় ফিরতে শুরু করেছে গত তিনদিন ধরে। দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা থেকে আগামীকাল রোববার প্রথম কর্মদিবসে অফিসে হাজির থাকার জন্য শত শত মানুষ কর্মস্থলমুখী হচ্ছেন। ফলে আজ শনিবার সকাল থেকেই দৌলতদিয়া ঘাটে মানুষের ঢল নামে।

এ সময় তাদের বহন করে আনা শত শত গাড়ি যানজটে আটকে চরম দুর্ভোগে পড়েন যাত্রীরা। তবে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগের শিকার হয় নারী, শিশু ও বৃদ্ধরা। এদিকে দীর্ঘ যানজটে আটকে থেকে দীর্ঘপথ পায়ে হাঁটার পর অনেক শিশু ও বয়স্করা অসুস্থ হয়ে পড়েন। অনেককে গুনতে হয় অতিরিক্ত ভাড়া।

গাড়ির চাপ বেড়ে গিয়ে শনিবার দুপুর থেকে দৌলতদিয়া ঘাট এলাকায় নদী পারের অপেক্ষায় পাঁচ শতাধিক বাস, মাইক্রোবাস, প্রাইভেটকারের সারি দীর্ঘ হতে থাকে। অতিরিক্ত যানবাহনের চাপে শনিবার সকাল নাগাদ দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের জিরো পয়েন্ট থেকে মহাসড়কের গোয়ালন্দ পৌরসভা এলাকা পর্যন্ত সাত কিলোমিটারজুড়ে সৃষ্টি হয় দীর্ঘ যানজট। সিরিয়ালে আটকে থাকা সাধারণ বাসযাত্রীরা এ সময় চরম দুর্ভোগে পড়েন।

ফেরিঘাটে গিয়ে  দেখা যায়, ফেরিঘাটের জিরো পয়েন্ট থেকে মহাসড়কের গোয়ালন্দ পৌরসভা এলাকা পর্যন্ত প্রায় সাত কিলোমিটার মহাসড়কের এক পাশে যাত্রীবাহী পরিবহনের দীর্ঘ সারি। অপরদিকে দৌলতদিয়া বাইপাস সড়কের এক কিলোমিটারজুড়ে নদীপারের অপেক্ষায় সিরিয়ালে আটকে আছে প্রাইভেটকার ও মাইক্রোবাস। সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে লম্বা হচ্ছে যানবাহনের লাইন। এদিকে ঘাট থেকে মহাসড়কের ছয় কিলোমিটার দূরে গোয়ালন্দ পৌরসভার পদ্মার মোড় এলাকা থেকে ব্যক্তিগত গাড়িগুলো বিকল্প সড়ক দিয়ে অন্তত আট কিলোমিটার ঘুরিয়ে ঘাটে পাঠাচ্ছে পুলিশ। গ্রামের সরু সড়ক দিয়ে বৃষ্টির মধ্যে ঘাটে পৌঁছতে এসব গাড়িকে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।

যদিও শনিবার সকাল থেকে দৌলতদিয়া ঘাটে নদী পারাপার হতে আসা সব যানবাহন সরাসরি ফেরিতে উঠতে পারছে না। এ সময় কর্মস্থলগামী অতিরিক্ত মানুষের চাপ। কিন্তু সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যানবাহন ও যাত্রীর চাপ যানজটে রূপ নেয়।

ঈগল পরিবহনের যাত্রী রোকনুজ্জামান আরটিভি অনলাইনকে বলেন, ‘প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদ করতে গ্রামের বাড়ি গিয়েছিলাম। ছুটি শেষ হয়ে যাওয়ায় গতকাল রাতে বাড়ি থেকে বের হই। কিন্তু ঘাটে এসে দেখি প্রচুর বাস নদী পারের জন্য অপেক্ষা করছে। সারারাত আমাদের রাস্তাতেই অপেক্ষা করতে হয়েছে।কিছুক্ষণের মধ্যে ফেরিতে উঠবো।

দৌলতদিয়া ঘাটে কর্মরত বিআইডব্লিউটিসির ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) আবু আবদুল্লাহ রনি জানান, দুপুরের পর থেকে স্রোতের মতো বিপুলসংখ্যক যানবাহন নদী পার হতে আসায় মহাসড়কে দীর্ঘলাইন সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমান দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ১৯টি ফেরি চলাচল করছে।

দৌলতদিয়া ঘাটে কর্মরত বিআইডব্লিউটিসির ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) আবু আব্দুল্লাহ রনি জানান, ঈদের ছুটি শেষে কর্মব্যস্ত মানুষ একযোগে রাজধানীতে ফিরতে শুরু করায় এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। গেল  দুইদিন পর্যন্ত যানবাহনগুলো অপেক্ষা ছাড়াই সরাসরি ফেরিতে ওঠে। কিন্তু শনিবার সকালের পর থেকে স্রোতের মতো বিপুলসংখ্যক যানবাহন নদী পার হতে আসায় মহাসড়কে দীর্ঘ সারির সৃষ্টি হয়। বর্তমানে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ১৭টি ফেরি চলাচল করছে। ব্যস্ততম এ সময় ইউটিলিটি ফেরি কুসুম-কলি যান্ত্রিক ত্রুটিতে বিকল হয়ে পাটুরিয়ার ভাসমান কারখানায় মেরামতে রয়েছে। বিকল থাকা ফেরিটি দ্রুততম সময়ের মধ্যে চলাচল শুরু করবে।

দৌলতদিয়া ঘাট ট্রাফিক পুলিশের ইন্সপেক্টর আবুল বাসার বলেন, ‘ঘাটে আগত যাত্রীদের জানমালের নিরাপত্তা দেওয়া আমাদের নৈতিক কর্তব্য। আমরা চেষ্টা করছি নিয়মের মধ্যে থেকে বাসগুলোকে পার করতে।’

জেবি/পি

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
  • দেশজুড়ে এর সর্বশেষ
  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়