logo
  • ঢাকা সোমবার, ১৯ আগস্ট ২০১৯, ৪ ভাদ্র ১৪২৬

ফের বাড়ছে ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি, নতুন করে বন্যার আশঙ্কা (ভিডিও)

কুড়িগ্রাম উত্তর প্রতিনিধি
|  ২৪ জুলাই ২০১৯, ১০:৩৫ | আপডেট : ২৪ জুলাই ২০১৯, ১২:২৯
কুড়িগ্রামের ধরলা ও দুধকুমারের পানি ফের বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে নতুন করে বন্যার আশংকা রয়েছে। গেল তিনদিন থেকে ধরলা, দুধকুমার, গংগাধরসহ ব্রহ্মপুত্র নদের পানি কমলেও গেল রাত থেকে আবার বাড়তে শুরু করেছে ধরলা ও দুধকুমারের পানি। 

bestelectronics
গেল ২৪ ঘণ্টায় ধরলা নদীর পানি ৪৮ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ৩৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ব্রহ্মপুত্র নদের পানি চিলমারি পয়েন্টে ৯ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ২০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া দুধকুমার, গংগাধর, সংকোষ নদীর পানি পাল্লা দিয়ে বাড়ছে।  
এতে নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চল আবার প্লাবিত হচ্ছে। 

চিলমারী পয়েন্টে পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় কয়েকটি উপজেলার উচুস্থান থেকে পানি নামলেও চিলমারী, রৌমারী এবং রাজিবপুর পুরোটাই পানিবন্দি হয়ে আছে। দুই দিনের বৃষ্টিপাতে দুর্ভোগ বেড়েছে বন্যাদুর্গতদের। মানবিক বিপর্যয়ের মুখে কুড়িগ্রাম।

জেলা প্রশাসনের কন্ট্রোল রুম তথ্যানুযায়ী, বন্যার ফলে ৩টি পৌরসভাসহ ৬০টি ইউনিয়নে ৮৯৪টি গ্রামের ২ লাখ ৩৮ হাজার ৬৭২টি পরিবার পানিবন্দি। পরিবার প্রতি ৪ জন হিসাবে বানভাসি মানুষের সংখ্যা দাঁড়ায় ৯ লাখ ৫৪ হাজার ৬৮৮ জন। প্রায় ১০ দিন ধরে এ মানুষগুলো বন্যায় আক্রান্ত হয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছে।

---------------------------------------------------------------------
আরও পড়ুন : রাজধানীতে ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হচ্ছে ৪৭১জন!
---------------------------------------------------------------------

ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৩৩ হাজার হেক্টর। বন্যায় এক হাজার ২৪৫ কিলোমিটার রাস্তা, ৪০ কিলোমিটার বাঁধ ও ৪১টি ব্রিজ/কার্লভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নলকূপ ক্ষতিগস্ত হয়েছে ৯ হাজার ৭৩৪ টি। প্রায় ২ লক্ষাধিক গবাদিপশু পানিবন্দি। বন্যার কারণে প্রাথমিক বিদ্যালয়, উচ্চ বিদ্যালয়, মাদরাসা ও কলেজ মিলে এক হাজার ২৬টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠদান কার্যক্রম বন্ধ।

জেলা প্রশাসক সুলতানা পারভীন জানান, সকল বন্যার্তদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য আমরা কাজ করে যাচ্ছি। এ পর্যন্ত জেলা প্রশাসন থেকে এখন পর্যন্ত ৮শ’ মেট্রিক টন জিআর চাল, ১৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা, ৭ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার ও ঈদুল আজহা উপলক্ষে ৬ হাজার ৪২৮ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এছাড়া বন্যায় নিহত ১৬টি পরিবারকে ২০ হাজার টাকা করে ৩ লাখ ২০ হাজার টাকা সহায়তা দেয়া হয়।

রাজনৈতিক দল ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বানভাসিদের পাশে দাঁড়িয়েছে। আওয়ামী লীগের উদ্যোগে জেলার ৫ হাজার পরিবারকে ১০ কেজি করে চাল, সোয়াবিন তেল, ডাল, চিনি, চিড়া, গুড়, মুড়ি, নুডুলস, বিস্কিট, পানি ও স্যালাইনসহ একটি করে ত্রাণের প্যাকেজ বিতরণ করা হয়। 

অপরদিকে জেলা পরিষদের উদ্যোগে ১০ লাখ টাকার শুকনো খাবার, রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি কর্তৃক চিলমারীতে ৫শ’ পরিবারকে সাড়ে ৪ হাজার টাকা করে ২২ লাখ ৫০ হাজার টাকা, ডব্লুউএফপি কর্তৃক সদর উপজেলায় ১ হাজার ২৫১টি, উলিপুরে ৮৫৫টি এবং চিলমারী উপজেলায় ২ হাজার ৩০৮টি পরিবারে সাড়ে ৪ হাজার টাকা করে ১ কোটি ৯৮ লাখ ৬৩ হাজার টাকা বিতরণ করা হয়।

এসএস

bestelectronics bestelectronics
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়