logo
  • ঢাকা শনিবার, ২৪ আগস্ট ২০১৯, ৯ ভাদ্র ১৪২৬

ত্রিমোহিনী রেললাইনে পানি, লোকাল ও মেইল ট্রেন বন্ধ

গাইবান্ধা প্রতিনিধি
|  ১৭ জুলাই ২০১৯, ২০:৪৮ | আপডেট : ১৭ জুলাই ২০১৯, ২০:৫৭
পানি, গাইবান্ধা, বন্যা, রেললাইন
গাইবান্ধার ত্রিমোহিনী রেলজংসনের আশপাশের রেললাইনের ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে।
গাইবান্ধায় ব্রহ্মপুত্র ও ঘাঘট নদীর পানি অব্যাহতভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় ত্রিমোহিনী রেল জংশন ও আশপাশের এলাকার রেললাইনের  ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হয়েছে। ফলে লালমনিরহাট-সান্তাহারগামী লোকাল ও মেইল ট্রেন যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। তবে লালমনি এক্সপ্রেস কাউনিয়া-রংপুর-পার্বতীপুর-শান্তাহার হয়ে ঢাকা চলাচল করছে। এছাড়া রংপুর এক্সপ্রেস রংপুর-পার্বতীপুর-শান্তাহার হয়ে ঢাকা চলাচল করছে। অপরদিকে ফুলছড়ি হেডকোয়ার্টার হাঁটু পানিতে তলিয়ে গেছে।

bestelectronics
শহরসংলগ্ন খোলাহাটী ইউনিয়নের গোদারহাট এলাকার সোনাইল বাঁধের প্রায় ৩০০ ফুট এলাকা ধসে যাওয়ায় শহরে পানি ঢুকেছে।

এদিকে শহরের ভেতর পানি প্রবেশ করায় জেলা প্রশাসক, জজের বাসভবন, পিকে বিশ্বাস রোড, স্বাধীনতা প্রাঙ্গণ, সান্তার পট্টি রোড, টেনিস কমপ্লেক্স, ডেভিড কোম্পানিপাড়া, ভিএইড রোড, মুন্সিপাড়া, ব্রিজ রোড, কালিবাড়িপাড়া, কুটিপাড়া, পূর্বপাড়া, সবুজপাড়া, পুরাতন বাজার, বানিয়ারজান, পুলিশ লাইন, নশরৎপুর, বোয়ালীসহ আশপাশের এলাকা প্লাবিত হয়েছে।

পৌর মেয়র অ্যাডভোকেট শাহ মাসুদ জাহাঙ্গীর কবির মিলন জানান, পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় বন্যার্তদের জন্য ১২টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, বুধবার ব্রহ্মপুত্রের পানি আরও বৃদ্ধি পাওয়ায় শহরের নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। অপরদিকে তিস্তার পানি অপরিবর্তিত রয়েছে।  ব্রহ্মপুত্রের পানি গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বিপদসীমার ১৪৮ সেন্টিমিটার ও ঘাঘট নদীর পানি ৯২ সেন্টিসিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।

ঘাঘট নদীর পানির তোড়ে সদর উপজেলার খোলাহাটি ইউনিয়নের ফকিরপাড়া এলাকার শহররক্ষা বাঁধ ভেঙে গেছে। ফলে সুন্দরগঞ্জ-গাইবান্ধা সড়কে যানবাহন চলাচল  বন্ধ রয়েছে। এদিকে শহরের ভেতর পানি প্রবেশ করায় আরও নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। তবে মূল শহররক্ষা বাঁধ রক্ষায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মীরা সার্বক্ষণিক কাজ করে যাচ্ছে। এদিকে সাঘাটা উপজেলায় যমুনা নদীর পানির তোড়ে ভরতখালীর দুই নম্বর ক্রস বাঁধটি ধসে গিয়ে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, এবারের বন্যায় সুন্দরগঞ্জ, সাঘাটা, ফুলছড়ি ও গাইবান্ধা সদর উপজেলার ৩৪টি ইউনিয়নের ২৩০টি গ্রামের তিন লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ২৯ হাজার ২৩০টি। বন্যাকবলিত মানুষের আশ্রয়ের জন্য ১১৪টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এতে আশ্রয় নিয়েছে ৪২ হাজার ১০২ জন। বন্যাকবলিত এলাকার রাস্তাঘাট সব ডুবে গিয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এক হাজার ২৪৬ হেক্টরের বিভিন্ন ফসল পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। এছাড়া ৩৩২টি পুকুরের মাছ বন্যার পানিতে ভেসে গেছে।

জেবি

bestelectronics bestelectronics
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়