logo
  • ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৯, ৩০ কার্তিক ১৪২৬

গাইবান্ধায় ৭ দিন ধরে ঢাকা ও সিলেটগামী বাস চলাচল বন্ধ

গাইবান্ধা প্রতিনিধি
|  ১১ জুলাই ২০১৯, ১৬:০০
বাস চলাচল বন্ধ
বাস চলাচল বন্ধ
গত ৭ দিন ধরে গাইবান্ধা বাস টার্মিনাল থেকে ঢাকা ও সিলেটের মধ্যে বাস যোগাযোগ বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়েছেন বাস যাত্রী ও পরিবহন শ্রমিকরা। বাস থেকে দ্বিগুণ হারে চাঁদা আদায়ের অভিযোগে পরিবহন মালিকরা গত শুক্রবার থেকে বাস চলাচল বন্ধ ঘোষণা করায় এই অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়। 

অভিযোগে জানা গেছে, গাইবান্ধা থেকে ঢাকা ও সিলেটগামী বাস থেকে গাইবান্ধায় ১৮০ টাকার বদলে ২৬০ টাকা, পলাশবাড়ীতে ৫০ টাকার বদলে ১০০ টাকা, গোবিন্দগঞ্জে ৬০ টাকার বদলে ১২০ টাকা ও শেরপুরে ২০ টাকার বদলে ৭০ টাকা চেইনের নামে চাঁদা নির্ধারণ করে মাস মালিক সমিতি ও মটর শ্রমিক ইউনিয়ন। 

দ্বিগুণ হারে চাঁদা আদায়ের অভিযোগে বাস মালিকরা গত ৫ জুলাই শুক্রবার থেকে গাইবান্ধা থেকে দূর পাল্লার সকল চেয়ারকোচ ও সাধারণ যাত্রীবাহী বাস বন্ধ করে দেয়। তবে গাইবান্ধা থেকে চট্টগ্রামগামী সাধারণ বাস চলাচল করছে। 

বাস চলাচল না করায় এবং বাস কাউন্টার গুলো বন্ধ থাকায় যাত্রী বিহীন হয়ে পড়েছে গাইবান্ধা বাস টার্মিনাল। অনেকেই বাধ্য হয়ে ট্রেনে করে যাতায়াত করছেন। কেউবা গাইবান্ধা থেকে লোকাল বাস, ব্যাটারি চালিত অটো ও সিএনজি চালিত অটোতে করে ১৯ কিলোমিটার দূরে পলাশবাড়ী উপজেলা শহরে গিয়ে রংপুর, কুড়িগ্রাম, ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড় থেকে বাসে ঢাকা যাচ্ছেন। 

অপরদিকে ৫ জুলাই ঢাকা ও সিলেট থেকে ছেড়ে আসা বাসের ড্রাইভার, সুপারভাইজার, হেলপার ও মেকানিকরা অলস সময় পার করছেন গাইবান্ধা বাস টার্মিনালে। দিন হাজিরা কর্ম হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন তারাও। 

এসআর পরিবহনের চালক মনিরুজ্জামান আজ সকালে বলেন, গত বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকা থেকে গাইবান্ধায় বাস নিয়ে আসি। আমরা বাস চালালে টাকা পাই। না চালালে টাকা পাই না। আমি সাত দিন ধরে গাইবান্ধায় বসে আছি। আমার পরিবারের কাছে টাকা পাঠাতে পারছি না। তারা কষ্টে আছে। এই অবস্থা চলতে থাকলে বাস রেখে বিকল্প পথে ঢাকা যেতে হবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পরিবহন কাউন্টারের ম্যানেজার জানান, পূর্বেও মালিক সমিতি ও শ্রমিক ইউনিয়ন চেইনের নামে চাঁদা নিতো। তবে হঠাৎ করেই তারা দ্বিগুণ চাঁদা দাবী করছে। তাই বাধ্য হয়ে পরিবহন মালিকরা গাড়ি চালানো বন্ধ রেখেছে। 

তিনি আরও বলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত তারা পূর্বের জায়গায় ফিরে না আসবে ততক্ষণ পর্যন্ত গাড়ি না চালানোর সিদ্ধান্ত রয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক শ্রমিক নেতা বলেন, এই বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রশাসক মো. আবদুল মতিন ও পুলিশ সুপার মো. আবদুল মান্নানের সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক হয়েছে। তিনি বলেন, গাইবান্ধায় কোনও সমস্যা নেই। সমস্যা ঢাকার মালিক সমিতি ও শ্রমিক ইউনিয়নের নাম ভেঙে কে বা কারা মোবাইল ফোনে আমাদের হুমকি দিচ্ছে গাইবান্ধা থেকে ঢাকায় কোন বাস যাবে না। তাই বাস ও শ্রমিকদের নিরাপত্তা কথা চিন্তা করে বাস চলাচল বন্ধ রাখছে মালিক সমিতি।

জেলা প্রশাসক মো. আবদুল মতিন বলেন, বিষয়টি নিয়ে মোটর মালিক সমিতি ও শ্রমিক ইউনিয়নের সঙ্গে বসেছিলাম। বৈঠকে পুলিশ সুপার মো. আবদুল মান্নান উপস্থিত ছিলেন। আমরা এখানকার সমস্যার সমাধানও করে দিয়েছিলাম। কিন্তু সাত দিনেও বাস চলাচল শুরু না হওয়ায় তিনি বলেন, গাইবান্ধার পরিবহন শ্রমিক ও মালিকদের অভিযোগ, ঢাকার বাস মালিক ও শ্রমিক ইউনিয়ন তাদের বাস চালাতে দিচ্ছে না। তাই তারা বাস চালাতে পারছেন না। 

জেলা প্রশাসক আরও বলেন, বিষয়টি নিয়ে আমরা আবারও বসবো। বিষয়টি দ্রুত সময়ে সমাধানের সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছি।

এসএস

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
  • দেশজুড়ে এর সর্বশেষ
  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়