logo
  • ঢাকা সোমবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০১৯, ১ পৌষ ১৪২৬

পায়ে হেটে চলছেন মানুষ, নষ্ট হচ্ছে ট্রাক বোঝাই কাঁচামাল

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
|  ২৩ জুন ২০১৯, ১১:৫১ | আপডেট : ২৩ জুন ২০১৯, ১২:১০
সেতু ভেঙে পড়ায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের যাত্রীরা পড়েছে নানা ভোগান্তিতে। তেমনি গাড়ি চালকরাও। গত ৫ দিন ধরে পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে ট্রাক চলাচল। শতশত পণ্যবাহী ট্রাক অবস্থান করছে মহাসড়কের ওপর। নষ্ট হচ্ছে ট্রাকবোঝাই কাঁচামাল। রাতে মহাসড়কে নিরাপত্তাহীনতায় থাকার অভিযোগও আছে ট্রাক চালকদের। পায়ে হেটেও মাইলের পর মাইল চলছেন মানুষ। 

সিলেট থেকে শাহবাজপুরে সেতুর গোড়া পর্যন্ত দীর্ঘ পথের বিভিন্নস্থানে অবস্থান করছে দেশের বিভিন্ন গন্তব্যমুখী হাজার হাজার মালবোঝাই ট্রাক। সেতুর অন্য পাশে সরাইল বিশ্বরোড পর্যন্তও সিলেটমুখী ট্রাকের দীর্ঘ সারি। 

সরাইলের ইসলামাবাদে কথা হয় কয়েকজন ট্রাকচালকের সঙ্গে। একটি কাভার্ড ভ্যানের নিচে ১০/১২ জন চালক আলু ভর্তা দিয়ে ভাত খাচ্ছিলেন। এই গ্রামের বৃদ্ধ আবদুর রাজ্জাক এই খাবারের ব্যবস্থা করেছেন। ট্রাকচালক মানিক মিয়া জানান, একদিন বিশ্বরোডে আর ৩ দিন গাড়ি নিয়ে অবস্থান করছেন ইসলামাবাদে। প্যাকেটজাত বিভিন্ন পানীয় ভর্তি কাভার্ড ভ্যান নিয়ে তারা যাচ্ছেন সিলেটে। বিকল্প রাস্তার একটিতে ট্রাক ফেঁসে যাওয়ায় এবং অন্য রাস্তায় ব্রিজ ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় তারা ট্রাক নিয়ে ওই পথ দুটিতে যাওয়ার ঝুঁকি নিচ্ছেন না। 

মহাসড়কের এই স্থানে (ইসলামাবাদে) নিজেদের নিরাপত্তাহীনতার উল্লেখ করে তারা জানান, ভয়ঙ্কর জায়গা এটি। রাতে ডাকাতের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। গ্রাম থেকে ডাকাতরা উঠে আসে বলে অভিযোগ তাদের। সে কারণে সারারাত জেগে থাকতে হয়। পুলিশ টহল দিয়ে চলে গেলে আবারো ডাকাতদের আনাগোনা শুরু হয়। 
এছাড়া গোসল-টয়লেট করার সমস্যাও হচ্ছে তাদের। 

আলী আজম নামের এক চালক বলেন- ড্রাইভারদের কোনও দাম নাই। বিশ্বরোড গাড়ি পার্কিং করার পর পুলিশ সেখান থেকে তাড়িয়ে দিয়েছে। এখানে খোলা জায়গায় গাড়ি রেখে ভয়ে কোথাও যেতেও পারছি না। সারারাত গাড়ির নিচে সজাগ বসে থাকতে হচ্ছে। 

চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনা মসজিদ থেকে পেয়াজ ভর্তি ট্রাক নিয়ে এসেছেন জামান মিয়া। সিলেটের কালীঘাট তার গন্তব্য। তিনি জানান, তার গাড়ি বোঝাই পেয়াজ পচে যাচ্ছে। 

দিনাজপুরের হিলি থেকে পেয়াজ নিয়ে সেতু পাড়ি দেয়ার অপেক্ষায় আবদুস সালাম। তিনিও জানান, তার গাড়িতে থাকা ৯ লাখ টাকার পেয়াজ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। কাঁচামাল বোঝাই গাড়ি চলতে দেয়া হচ্ছে না। 

সরজমিনে দেখা গেছে, সেতুর পূর্ব পাশের রেলিং ভাঙা। এটি সংলগ্ন বেইলি মেরামত করা হচ্ছে। আর পশ্চিম পাশের বেইলি দিয়ে হালকা যানবাহন চলাচল করছে। কিন্তু গভীর রাতে এই বেইলির ওপর দিয়ে পণ্যবোঝাই ট্রাক চলাচল করে বলে অভিযোগ করেন বসে থাকা ট্রাক চালকরা। 

তারা জানান, দেড় থেকে দুই হাজার করে টাকা নিয়ে ভাঙা ব্রিজের একপাশের ওই বেইলি সেতু দিয়ে মালবোঝাই ট্রাক চলাচলের সুযোগ দিচ্ছে পুলিশ। দেড় থেকে দুইশ’ ট্রাক পার হচ্ছে প্রতিরাতেই। 

তবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া খাটিহাতা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হোসেন সরকার এই অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, সারারাত তারা সেতুর এখানে ছিলেন। সেতুর ওপর দিয়ে কোনও গাড়ি চলেনি। তবে পুলিশের আরেকটি সূত্র জানিয়েছেন, রাতে সরকারের এক সচিবকে বহনকারী বাস এই সেতু পাড়ি দিয়েছে। তখন আরও কিছু গাড়ি পার হয়।  

এদিকে তিতাসের ওপরই নির্মাণাধীন আরেকটি সেতুর কাজ শেষ হতে বিলম্ব আর পুরাতন এই সেতুর মেরামত কাজের ধীরগতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন গাড়ি চালকরা। সিলেট থেকে চট্টগ্রামগামী একটি ট্রাকের চালক রিয়াজ উদ্দিন বলেন, ‘সিলেট বিভাগের হাইওয়ে রোড এটা। আজকে ৫ দিন ধরে ব্রিজ বন্ধ। সরকার কি করে বুঝতে পারছি না। আর্মিকে দায়িত্ব দিলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই এই সেতু মেরামত হয়ে যেত।’ 

উল্লেখ্য, গেল ১৮ জুন বিকেলে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের সরাইলের শাহবাজপুরে তিতাস নদীর ওপর সেতুটির চতুর্থ স্প্যানের ফুটপাতসহ রেলিং ভেঙে পড়ে। এরপরই সড়ক ও জনপদ বিভাগ (সওজ) সব ধরণের ভারি ও মাঝারি যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেয় ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠা এই সেতুর ওপর দিয়ে। 

সড়ক বিভাগ বিকল্প পথ হিসেবে চান্দুরা-আখাউড়া সড়ক দিয়ে কুমিল্লা-সিলেট ও চট্টগ্রামের এবং সরাইল-নাসিরনগর হয়ে লাখাই এবং রতনপুর দিয়ে ঢাকা-সিলেট গন্তব্যের যানবাহন চলাচল করার নির্দেশনা দেয়। 

কিন্তু এ দু-পথের কোনটিতেই নানা সমস্যায় যানবাহন সেভাবে চলাচল করতে পারছেনা। ট্রাকতো নয়ই। ওইসব সড়কের বেহাল দশা আর ঝুঁকিপূর্ণ সেতু-কালভার্টের জন্যে গাড়ি চলাচল হয়ে পড়েছে সীমিত। তাতেও সৃষ্টি হচ্ছে যানজট। যদি বিকল্প চান্দুরা-আখাউড়া সড়কের কথা বলা হয়;  সাড়ে ৫ মিটার পাশের ২২ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়ক পাড়ি দিতে সময় লেগে যাচ্ছে কয়েক ঘণ্টা। তারপরও এই সড়ক দিয়ে ঢাকা-সিলেট এবং কুমিল্লা-সিলেট ও চট্টগ্রাম পথের যাত্রীবাহী বাস ও পণ্যবাহী ট্রাক চলাচল করছে চরম দুর্ভোগের মধ্যে দিয়ে।

এসএস

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
  • দেশজুড়ে এর সর্বশেষ
  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়