লালমনিরহাটে হঠাৎ তিস্তার পানি বৃদ্ধিতে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত

প্রকাশ | ২০ জুন ২০১৯, ১১:৫৩ | আপডেট: ২০ জুন ২০১৯, ১২:১৫

লালমনিরহাট, প্রতিনিধি
লালমনিরহাটে হঠাৎ তিস্তার পানি বৃদ্ধিতে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত

ভারতের গুজরাটে প্রবল বর্ষণের প্রভাবে হঠাৎ করেই লালমনিরহাটে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নদীর তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল ও দ্বীপচরগুলোর সাত গ্রামের কমপক্ষে ২ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। হঠাৎ পানি বৃদ্ধির কারণে চলতি মৌসুমে ভুট্টা ও বাদামসহ বিভিন্ন ফসলের ক্ষতি হয়েছে। 

অবশ্য বর্তমানে দেশের বৃহৎ সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারেজে পয়েন্টে পানি বিপদসীমার ১১০ সেন্টিমিটার নীচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বলে ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম জানিয়েছেন। 

এর আগে মঙ্গলবার থেকে পানির অতিরিক্ত চাপ সামলাতে খুলে দেয়া হয় তিস্তা ব্যারেজের সবগুলো গেট। ফলে পানি ভাটিতে নেমে আসায় জেলার আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা, সদর উপজেলার খুনিয়াগাছ ও রাজপুর, হাতীবান্ধা উপজেলার  ডাউয়াবাড়ী, সিন্দুর্না, পাটগ্রাম উপজেলার বহুল আলোচিত ছিটমহল দহগ্রাম ইউনিয়নের ৭টি গ্রামের প্রায় ২ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়ে। এতে ক্ষতির মুখে পড়ে বাদাম, ভুট্টা, বোরো বীজতলাসহ বিভিন্ন ফসলের। 

পানি বৃদ্ধির কারণে তিস্তা নদী তীরবর্তী এলাকার গোবর্ধন উচ্চ ও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চর গোবর্ধন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ ২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সাময়িক বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। 

এছাড়াও পানিবন্দিদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্যকর্মীরাও কাজ করছে।

আদিতমারী উপজেলা মহিষখোচা ইউনিয়নের বালাপাড়া গ্রামের আছিয়া বেওয়া ও মনছুর আলী বলেন, গত মঙ্গলবার হঠাৎ করে তিস্তার পানি হু হু করে বাড়তে শুরু করে। মুহূর্তের মধ্যে চরাঞ্চলের ফসলি জমি ও ঘরবাড়ি প্লাবিত হয়ে যায়। 
বৃহস্পতিবার বন্যা পরিস্থিতির সার্বিক উন্নতি হলেও এখনো উজানের ঢল অব্যাহত রয়েছে বলে জানা গেছে। 

পাটগ্রাম উপজেলার দহগ্রাম আঙ্গরপোতা ইউনিয়নের সাবেক  চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান হাবিব জানান, মঙ্গলবার ভোর থেকে তিস্তা নদীর পানি বাড়তে শুরু করে।  

আদিতমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান বলেন,  প্রশাসনের পক্ষ থেকে পানিবন্দি মানুষের প্রকৃত সংখ্যা ও জমির ফসলের ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণে কাজ ইতোমধ্যে শুরু করা হয়েছে।

এসএস