logo
  • ঢাকা মঙ্গলবার, ২৩ জুলাই ২০১৯, ৮ শ্রাবণ ১৪২৬

দুর্ভোগের আরেক নাম জয়পুরহাট-মোকামতলা আঞ্চলিক মহাসড়ক

জয়পুরহাট প্রতিনিধি
|  ১৫ জুন ২০১৯, ১৮:০১ | আপডেট : ১৫ জুন ২০১৯, ১৮:১৭
জয়পুরহাট-মোকামতলা আঞ্চলিক মহাসড়কটি প্রশস্তকরণের নামে ভালো সড়কের পিচ ঢালাই তুলে পাথর খোয়া ও বালু ঢেলে কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ না করায়, চরম ভোগান্তিতে পড়েছে জয়পুরহাটসহ উত্তরাঞ্চলের চার জেলার মানুষ।

জয়পুরহাট থেকে বগুড়া হয়ে ঢাকা যাবার একমাত্র মহাসড়ক এটি। মহাসড়কটির জয়পুরহাট-মোকামতলা আঞ্চলিক অংশটুকু প্রায় ৩০ কিলোমিটার। এই মহাসড়কের দুই পাশে ২৪ ফুট প্রশস্তকরণের জন্য জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেক) ১৯৪.৭৫ কোটি টাকার বরাদ্দ হয়।

দরপত্রের মাধ্যমে তিনটি পৃথক প্যাকেজে দেড় বছরের মধ্যে কাজটি সম্পন্নের দায়িত্ব পান নাভানা কনস্ট্রাকশন, র‌্যাব আরসি এবং প্যারাডাইস ট্রেডার্স নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে সড়কটির ১৫ কিলোমিটার অংশের কাজও শুরু হয়। ভালো সড়কের পুরান পিচ ঢালাই তুলে বালু খোয়া ও পাথর দিয়ে ভরাট করা হয়। কিন্তু গত ১৫ মাসে সড়কটির মাত্র পাঁচ কিলোমিটার অংশের কাজ সম্পন্ন হলেও বাকি ২৫ কিলোমিটার সড়কে নতুন করে বালু, খোয়া ও পাথর দেবে গেছে। আবার কিছু কিছু জায়গায় নতুন করে কাজ শুরু হলেও চলছে ধীরগতিতে। এ সড়কটির কাজ চলতি বছরের জুন মাসে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাজের ধীরগতি ও অর্থের অভাবে কাজের মেয়াদ চলতি বছরের অক্টোবর পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়েছে।

প্রতিদিন উত্তরাঞ্চলের প্রায় চার জেলার যানবাহন চলাচল করছে এ সড়ক হয়ে। হিলি স্থলবন্দর থেকে প্রতিদিন শত শত অতিরিক্ত পাথর ও পণ্যবাহীবোঝাই ট্রাক চলাচল করতে গিয়ে অকেজো হয়ে দিনের পর দিন এ সড়কে পরে থাকতে দেখা গেছে। এছাড়াও প্রায়ই ঘটছে সড়ক দুর্ঘটনা। এছাড়াও অতিরিক্ত যানবাহন চলাচলের কারণে এ সড়কের জায়গায় জায়গায় বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। গর্তগুলোতে একটু বৃষ্টি হলেই জমে যাচ্ছে হাঁটু পরিমাণ পানি। ফলে আগামী বর্ষা মৌসুমে যানবাহন চলাচলে আরও চরম ভোগান্তিতে পড়বে এ অঞ্চলের মানুষকে।

সড়ক ও জনপদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৩০ কিলোমিটার জয়পুরহাট-মোকামতলা আঞ্চলিক মহাসড়কের দুধারে ২৪ ফুট প্রশস্তকরণের জন্য গত ২০১৭ সালের ১০ এপ্রিল জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) সভায় ১৯৪.৭৫ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়। বরাদ্দের পরই ১০ কিলোমিটার করে তিনটি প্যাকেজে টেন্ডার হয় এ সড়কের কাজের। তিনটি প্যাকেজের কাজ শেষ হওয়ার মেয়াদ দেওয়া হয়েছিল ২০১৯ সালের জুন মাস পর্যন্ত।

প্যাকেজ তিনটি মোকামতলা থেকে পুনট, পুনট থেকে মাটির ঘর এবং মাটির ঘর থেকে জয়পুরহাট শহর পর্যন্ত। পুনট থেকে মাটির ঘর পর্যন্ত ১০ কিলোমিটারের কাজ পায় রাজশাহীর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান র‌্যাব-আরসি লিমিটেড এবং মেসার্স প্যারাডাইস ট্রেডার্স। অপরদিকে মোকামতলা থেকে পুনট ও মাটির ঘর থেকে জয়পুরহাট শহর পর্যন্ত এ দুই প্যাকেজের কাজ পান নাভানা গ্রুপ। ওয়ার্ক অর্ডার পেয়েই প্রতিষ্ঠানগুলো কাজ শুরু করে।

সরেজমিনে রাস্তার এলাকা ঘুরে জানা যায়, চলতি বছরের জুন মাসে ওই সড়কের কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও শুরু থেকেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠাগুলো এ সড়কের কাজ করেছেন ধীরগতিতে। এছাড়াও অর্থের অভাবে কয়েক মাস ধরে পুরোদমে কাজ বন্ধ রেখেছিল এমন অভিযোগ এলাকাবাসীর। নাভানা গ্রুপ মোকামতলা থেকে পুনট পর্যন্ত ইট ও পাথর ফেলেছে কিন্তু কার্পেটিং করেনি। র‌্যাব-আর.সি লিমিটেড এবং মেসার্স প্যারাডাইস ট্রেডার্স পুনট থেকে মাটির ঘর পর্যন্ত সড়কের অর্ধেক কার্পেটিং করেছে। বাকি অর্ধেক কালাই পৌর শহর থেকে পুনট পর্যন্ত ইটের খোয়া ফেলেছে। তবে মাটির ঘর থেকে জয়পুরহাট শহর পর্যন্ত সড়কের কাজ গত মাসে আবার শুরু করেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

ট্রাকচালক জোবায়ের হোসেন, দূরপাল্লার কোচ চালক শামিম হোসেন, মাইক্রোড্রাইভার বেলাল হোসেন, মোটরসাইকেল চালক স্বপনচন্দ্র ও পথচারী হামিদুল ইসলাম জানান, গত দেড় বছর ধরে এ সড়কে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করা ছাড়াও গাড়ির বিভিন্ন যন্ত্রাংশ ভেঙে রাস্তায় পড়ে থাকতে হচ্ছে। বেশ কয়েকবার দুর্ঘটনাও ঘটেছে এ সড়কে। এরই মধ্যে বানিয়াপাড়া এলাকায় মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় আটজনসহ প্রায় এই সড়কে অনেকেই প্রাণ হারাচ্ছেন। বর্তমানে সড়কের যে অবস্থা, তাতে যেকোনো মুহূর্তে আরও বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা আছে। বর্ষার আগ মুহূর্তে দ্রুত এ সড়কের কাজ সমাপ্ত করতে তারা দাবি করেন। না হলে যানবাহন চলাচলের জন্য অযোগ্য হয়ে পড়বে এই সড়ক।

জয়পুরহাট মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম বলেন, উত্তরাঞ্চলে যাতায়াতের জন্য একমাত্র সড়ক হিসেবে ব্যবহৃত হয় এ সড়কটি। দূরপাল্লার কোচ, আন্তঃজেলা বাস ও মিনিবাস এবং পণ্যবাহী ট্রাকসহ অসংখ্য যানবাহন চলাচল করে এ পথে। সংগঠনের পক্ষ থেকে সড়ক ও জনপদ বিভাগের কর্মকর্তাদের হুঁশিয়ারি সংকেত দেওয়া হয়েছে। দ্রুত কাজ সমাপ্ত না হলে অচিরে সকল ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হবে।

র‌্যাব-আর.সি লিমিটেড এবং মেসার্স প্যারাডাইস ট্রেডার্সের পক্ষে সড়কের কাজ দেখভালের দায়িত্বে নিয়োজিত মাজেদুর রহমান বলেন, অর্থ সংকটের কারণে কিছুদিন কাজ বন্ধ থাকলেও পুনরায় কাজ শুরু হয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই কাজ সম্পন্ন হবে।

নাভানা কনস্ট্রাকশনের সহকারী ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম জানান, সড়ক নির্মাণের ধীরগতির কথা স্বীকার করে নির্মাণকারী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ জানান, আগাম বৃষ্টিপাতসহ নানা কারণে অসুবিধার সৃষ্টি হলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই তারা মহাসড়কটির প্রশস্তকরণের কাজ সমাপ্ত করতে পারবেন।

জয়পুরহাট সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী তানভির সিদ্দিক বলেন, রাস্তা প্রশস্তকরণের ৭০ ভাগ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। মাঝখানে সফটওয়ার জটিলতার কারণে অর্থ ছাড়ে সমস্যা হয়েছিল। তা আমরা সমাধান করেছি। ঠিকাদার আবার কাজ শুরু করেছে। বর্ষা মৌসুম শুরু হলেও কাজের কোনও সমস্যা হবে না। কাজের মেয়াদ চার মাস বর্ধিত করা হয়েছে। ফলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কাজ শেষ হবে।

জেবি/পি

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়