logo
  • ঢাকা শনিবার, ২০ জুলাই ২০১৯, ৫ শ্রাবণ ১৪২৬

কেন্দুয়ায় একের পর এক গণধর্ষণ, আতঙ্কিত জনসাধারণ

নেত্রকোনা প্রতিনিধি
|  ১৫ জুন ২০১৯, ১৬:৪৮ | আপডেট : ১৫ জুন ২০১৯, ১৭:২৭
নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলায় ঈদ পরবর্তী তিনটি গণধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে এক সপ্তাহের ব্যবধানে। এতে জনমনে আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয় এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার মধ্যরাতে কেন্দুয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক কিশোরীকে অজ্ঞান অবস্থায় পৌঁছে দেয় পথচারীরা।

কিশোরীটির পরিবার অভিযোগ করে, ইকবাল নামের এক অটোরিকশাচালকের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে ওই কিশোরীর। ঈদের পরদিন ছয় জুন অটোতে করে তারা দুজন ঘুরতে বের হয়। পরে তাকে পরিত্যক্ত একটি মেশিন ঘরে পাঁচদিন আটকে রেখে বন্ধুবান্ধব মিলে গণধর্ষণ করে ইকবাল। দুর্বৃত্তরা ১২ জুন বুধবার গোগবাজার জামতলা এলাকায় অজ্ঞান অবস্থায় কিশোরীটিকে ফেলে রেখে গেলে সেখান থেকে পথচারীরা তাকে উদ্ধার করে কেন্দুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।

এদিকে গত ১১ জুন উপজেলার গড়াডোবা ইউনিয়নে এক বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী কিশোরী ফুফুর বাড়ি থেকে নিজ বাড়িতে ফেরার পথে গণধর্ষণের শিকার হয়। এর আগে ছয় জুন ঈদে বাড়িতে এসে এক গার্মেন্টসকর্মী কথিত প্রেমিক সুমন ওরফে নূরে আলমের সঙ্গে মোটরসাইকেলে করে বেড়াতে গিয়ে গণধর্ষণের শিকার হন।

পুলিশ প্রথম দুটি ঘটনায় ছয়জনকে গ্রেপ্তার দেখালেও অটোরিকশাচালক ইকবাল ও পোশাককর্মী ধর্ষণের মূল আসামি কথিত প্রেমিক সুমনকে এখনও গ্রেপ্তার করতে পারেনি।

এ বিষয়ে জেলা নারী নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি ও লিগ্যাল এইড কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট দিলোয়ারা বেগম বলেন, রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ, আইনের কঠোর প্রয়োগ না হওয়া এবং বিচারের দীর্ঘসূত্রিতার কারণে বিচারপ্রার্থীরা অনেক সময় ন্যায়বিচার পাওয়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। ধর্ষণ মামলায় মেডিকেল রিপোর্ট পেতে গিয়েও ভিকটিমের পরিবার অনেক সময় হয়রানির শিকার হয়। ফলে এসব ঘটনা বেড়েই চলেছে।

কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রাশেদুজ্জামান বলেন, পুলিশ তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের চেষ্টা করে যাচ্ছে। দুটি গণধর্ষণ মামলার সঙ্গে জড়িত ছয় আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অচেতন অবস্থায় কিশোরী উদ্ধারের ঘটনায় তদন্ত করছে পুলিশ।

জেবি/পি

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়