• ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২০ জুন ২০১৯, ৬ আষাঢ় ১৪২৬

সেই দেড় ঘণ্টার পথ এখন ৬ থেকে ৮ মিনিটে

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি, আরটিভি
|  ২৬ মে ২০১৯, ১৩:১২ | আপডেট : ২৬ মে ২০১৯, ১৫:৩৫
কদিন আগেও ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মেঘনা ও মেঘনা গোমতীর নাম শুনলে যেন কান্না আসতো। শুধু এই পয়েন্ট পার হতেই লেগে যেত প্রায় দেড় ঘণ্টা। কিন্তু এখন দৃশ্যপট পাল্টে গেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উদ্বোধন করার পর যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে দেয়া হয়েছে মেঘনা ও মেঘনা-গোমতী সেতু।

whirpool
চট্টগ্রামগামী কাভার্ড ভ্যানের চালক এন্তেজার আলী রোববার বলছিলেন, নতুন সেতু দুটি খুলে দেয়ায় এখন আর ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে না। দুঃসহ যন্ত্রণার হাতে থেকে রক্ষা পেয়েছে সাধারণ মানুষ। এখন এই সেতু দুটি পার হতে সময় লাগবে মাত্র ৬ থেকে ৮ মিনিট।

শনিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে এই সেতু দুটি উদ্বোধন করেন।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চারলেন বিশিষ্ট ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়ক দিয়ে যানবাহন এসে আগে পুরাতন মেঘনা-গোমতী সেতুতে এসে  উঠতো একলেনে। পুরাতন সেতু দুটি বেশি ঢাল এবং যানবাহনের ধীরগতির কারণে প্রতিটি উৎসব ও সরকারি ছুটির দিনে যানজটে আটকা পড়ে ভোগান্তি পোহাতে হতো যাত্রী ও চালকদের। কিন্তু এবার ঈদের আগে দ্বিতীয় মেঘনা গোমতী সেতু খুলে দেয়ায়  মানুষের ভোগান্তি কমবে।

এদিকে নতুন সেতু দুটি দ্রুত খুলে দেয়ায় করায় সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন যাত্রী ও যানবাহনের চালকরা।  

মেঘনা ও মেঘনা গোমতী সেতুর প্রকল্প ব্যবস্থাপক শওকত আহমেদ মজুমদার জানান, ১ হাজার ৪১০ মিটার দৈর্ঘ্য ও ১৭ দশমিক ৭৫ মিটার প্রস্থের দ্বিতীয় মেঘনা-গোমতী সেতু নির্মাণে  ব্যয় হয়েছে ২ হাজার কোটি টাকা। এছাড়া পুরাতন মেঘনা- গোমতী সেতু পুনর্বাসনে ব্যয় হচ্ছে ৪০০ কোটি টাকা। 

তিনি বলেন, বাংলাদেশে এই প্রথম কোনও বড় প্রকল্প নির্ধারিত সময়ের আগেই শেষ হলো। এটি বাংলাদেশের জন্য ও বর্তমান সরকারের জন্য একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে।

ঈদের আগে সেতু দুটি খুলে দেয়ায় স্বস্তির নিশ্বাস ফেলছেন চালক ও যাত্রীরা। তারা বলছেন, এবার ঈদে ঢাকা চট্টগ্রামসহ দক্ষিণ বঙ্গের মানুষ স্বস্তিতে বাড়ি ফিরতে পারবে।

শ্যামলী পরিবহনের চালক সালাউদ্দিন মিয়া বলেন, এবার ঈদে কোনও যানজট হবার শঙ্কা নেই। কারণ আগে পুরাতন সেতুটি ছিল একলেনের। ঢাল ছিল খুব বেশি। যে কারণে চারলেন বিশিষ্ট সড়ক থেকে গাড়ি এসে ধীরগতিতে একলেনে উঠতো। এতে মহাসড়কে যানজট লেগে থাকতো। 

তিনি বলেন, দ্বিতীয় মেঘনা ও দ্বিতীয় মেঘনা গোমতী সেতু চারলেন বিশিষ্ট। দুইলেনে গাড়ি যাবে এবং দুইলেনে গাড়ি আসবে। এতে করে সেতুতে কোনও যানজট হবে না।

মেঘনা সেতুতে দায়িত্ব পালনকারী পুলিশের কনস্টেবল ফরিদ মিয়া জানান, গত ঈদে এই সেতুতে ডিউটি করেছি। যানজট নিরসন করতে গিয়ে আমাদের খুব কষ্ট করতে হয়েছে। এক মিনিটের জন্য রাস্তায় পাশে দাঁড়ানোর সুযোগ মিলেনি। সারাক্ষণ হ্যান্ড মাইকে ট্রাফিক কন্ট্রোল করতে হয়েছে। কিন্তু এখন সেই ঝামেলা নেই। গাড়ি এক মিনিটের জন্য কোথাও দাঁড়াচ্ছে না।

এস/ এসএস

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়