মেঘনার তীরে গুড়িয়ে দেয়া হলো ৪ তলা ভবন

প্রকাশ | ২১ মে ২০১৯, ২৩:০৩

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ের বৈদ্যেরবাজার এলাকা মেঘনা নদীর পশ্চিম তীর দখল করে গড়ে তোলা আল মোস্তফা গ্রুপের ৪ তলা ভবন গুড়িয়ে দিয়েছে বিআইডব্লিউটিএ’র নারায়ণগঞ্জ নদী বন্দর কর্তৃপক্ষ। এছাড়া নদী দখল করে ডকইয়ার্ড সম্প্রসারণ করায় ইউরো মেরিন শিপ বিল্ডার্স নামের জাহাজ নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দেন সংস্থাটির ভ্রাম্যমাণ আদালত।   

মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত বিআইডব্লিউটিএ’র নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোস্তাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে নারায়ণগঞ্জ নদী বন্দরের যুগ্ম পরিচালক গুলজার আলী ও উপ পরিচালক মো. শহীদুল্লাহর সার্বিক তত্ত্বাবধানে উচ্ছেদ অভিযানটি পরিচালিত হয়। 

উচ্ছেদ অভিযানে দুটি ভেকু, দুটি উদ্ধারকারী জাহাজ, একটি টাগবোট, বিপুল সংখ্যক উচ্ছেদ কর্মী, পুলিশ ও আনসার সদস্য, বিআইডব্লিউটিএর কর্মকর্তা কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

বিআইডব্লিউটিএ’র নারায়ণগঞ্জ নদী বন্দরের যুগ্ম পরিচালক গুলজার আলী বলেন, মেঘনা নদীর দুই তীরে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে ৬ দিনব্যাপী অভিযান পরিচালিত হবে। মঙ্গলবার দ্বিতীয় দিনের অভিযানে আল মোস্তফা গ্রুপের ৪ তলা বহুতল ভবন গুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। এছাড়া নদী দখল করে ডকইয়ার্ড সম্প্রসারণ করায় ইউরো মেরিন শিপ বিল্ডার্স নামের জাহাজ নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। 

এর আগে সোমবার মেঘনা নদীর তীরবর্তী মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া থানার চরবেতাকি এলাকায় খান ব্রাদার্সের জাহাজ নির্মাণ প্রতিষ্ঠানের ৬শ’ ফুট প্রশস্ত সীমানা প্রাচীরসহ দুইটি বালু ভরাট কাজের ড্রেজার ভাংচুর করা হয়। একই সঙ্গে সোনারগাঁয়ের হোসেনদি বলাকিরচর এলাকায় নদী ভরাট করে বালু রাখা অংশ ভেকু দিয়ে খনন করে নদী দখল মুক্ত করা হয়। 

এছাড়া মেঘনা লঞ্চঘাট এলাকায় নদীর তীরে ৩শ’ ফুট লম্বা ও ২শ’ ফুট প্রশস্ত জায়গা দখল করে অবৈধভাবে বালু, পাথর ও টিনসহ বিভিন্ন নির্মাণ সামগ্রী ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের এসব মালামাল জব্দ করা হয়। বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ এসব জব্দকৃত মালামাল নিলামে তুলে ৫ লাখ ৫২ হাজার টাকায় বিক্রি করে।

গুলজার আলী আরও বলেন, নদীর তীর দখল করে আরও যারা অবৈধ ব্যবসা পরিচালনা করছে পরবর্তী অভিযানগুলোতে পর্যায়ক্রমে সেগুলো উচ্ছেদ করা হবে। 

তিনি জানান, গত শুক্রবার নদী কমিশনের চেয়ারম্যান বিআইডব্লিউটিএ’র নারায়ণগঞ্জ নদীবন্দরের কর্মকর্তাদের নিয়ে সরেজমিন মেঘনা নদী পরিদর্শন করেছেন। এসময় মেঘনা গ্রুপ, বসুন্ধরা গ্রুপ, আমান ইকোনোমিক জোন, ইউনিক গ্রুপ, আল মোস্তফা গ্রুপের পলিমার ইন্ডাস্ট্রিজসহ বেশ কিছু শিল্প প্রতিষ্ঠানে নদী দখলের প্রমাণ পেয়েছেন। সেগুলো পর্যায়ক্রমে উচ্ছেদ করা হবে।

এসএস