logo
  • ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২২ আগস্ট ২০১৯, ৭ ভাদ্র ১৪২৬

৬৫ দিন মাছ ধরা বন্ধ, দুশ্চিন্তায় বরগুনার জেলেরা

বরগুনা প্রতিনিধি
|  ২০ মে ২০১৯, ১৩:৩০ | আপডেট : ২০ মে ২০১৯, ১৫:২৬
ফাইল ছবি
মৎস্য সম্পদের সুরক্ষায় বঙ্গোপসাগরে ৬৫ দিন সকল প্রকার মাছ ধরা নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সে হিসেবে আজ ২০ মে থেকে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে। শেষ হবে ২৩ জুলাই। মাছ ধরার এই নিষেধাজ্ঞায় দুশ্চিন্তায় পড়েছে বরগুনার জেলেরা।

bestelectronics
জানা গেছে, ইলিশের জাটকা নিধনে নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর সফল হওয়ায় এই পথে এগুচ্ছে সরকার।

প্রজ্ঞাপনটিতে ৬৫ দিন বঙ্গোপসাগরের মাছ আহরণের ওপর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে প্রশাসনকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এই সময় বঙ্গোপসাগরের কোনও স্থানেই যান্ত্রিক এমনকি ছোট্ট ডিঙি নৌকা দিয়েও মাছ আহরণ করা যাবে না। এ সময় বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরা বন্ধের কারণে যাতে জেলেরা ক্ষতিগ্রস্ত না হন সেদিকেও নজর দিচ্ছে সরকার। ক্ষতিগ্রস্ত জেলে পরিবারকে ভিজিএফ কার্ড দেওয়া হবে। যে কার্ডের মাধ্যমে তারা সরকারের কাছ থেকে রেশনিং সুবিধা পাবেন। এছাড়া নানা সহায়তা দেওয়া হতে পারে। তবে তাতেও আশার আলো দেখছেন না জেলেরা। কারণ সবাই সে সুবিধা পাবেন কিনা তা নিয়ে সংশয় রয়েছে জেলেদের মধ্যে।

জানা গেছে, বরগুনা জেলা মৎস্য অফিসের তৈরি করা তালিকায় বর্তমানে নিবন্ধিত জেলে রয়েছে ৪৪ হাজার ৪৪০ জন। যাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি জেলে আছে পাথরঘাটা উপজেলায়। পাথরঘাটায় নিবন্ধিত জেলে আছে ১৪ হাজার। এসব জেলেরা রেশনিংয়ের আওতায় আসবে। তবে পাথরঘাটা উপজেলায় জেলের সংখ্যা হবে ২০ হাজার। বাকি ৬ হাজার জেলে সরকারি সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবেন।

সাগরে ইলিশ ধরতে যাওয়া উপজেলার প্রায় সব এলাকার জেলেদের ট্রলার ঘাটে অবস্থান করছে। গতকাল দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কিছু জেলে সাগরে থাকলেও তারা ঘাটের উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন।

তবে এই নিষেধাজ্ঞায় জেলেরা অসন্তুষ্ট হয়েছেন। তারা অভিযোগ করে বলেন, প্রতিবছর ইলিশের প্রজনন মৌসুমে ২২ দিন নিষেধাজ্ঞা থাকলেও এ বছর ৬৫ দিন নিষেধাজ্ঞা জারি করায় উপজেলার ২০ হাজার জেলেকে না খেয়ে থাকতে হবে। তারা এই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানান।

বাংলাদেশ ফিসিং বোর্ড মালিক সমিতির সভাপতি চৌধুরী গোলাম মোস্তফা আরটিভি অনলাইনকে বলেন, ইলিশের মৌসুম থাকে ১৫০ দিন। তার মধ্যে আশ্বিন মাসে বন্ধ থাকে ২২ দিন। এবার যদি বন্ধ থাকে ৬৫ দিন তাহলে মোট বন্ধ থাকে ৮৭ দিন। এতো বন্ধ থাকলে জেলে পরিবারগুলোকে মানবেতর জীবন-যাপন করতে হবে। জেলায় আনুমানিক ৫৫ হাজার জেলে রয়েছে। এর মধ্যে নিবন্ধন আছে প্রায় ৪৫ হাজারের। তার দাবি, ৬৫ দিন মাছ ধরা বন্ধ থাকলে বাকি জেলেরা খাবে কি?

বরগুনা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ বলেন, আমাদের পার্শ্ববর্তী কয়েকটি দেশেও সাগরে মৎস্য আহরণের ওপর এই ধরনের আইন রয়েছে। এর আগে জাটকা নিধনের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করায় ইলিশের প্রজনন হার বেড়েছে। এই অভিযানেও অবশ্যই সফলতা আসবে।

এই দীর্ঘ সময়ে মানুষ কিভাবে সাগরের মাছ খাবে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সাগরের মাছে যে পুষ্টিগুণ রয়েছে নদী ও পুকুরের মাছের পুষ্টিগুণও প্রায় একই। তাছাড়া বাংলাদেশের মাত্র দুই ভাগ মানুষ সাগরের মাছ খাওয়ার সুযোগ পান। ফলে এই নিষেধাজ্ঞা দেশের বিপুলসংখ্যক মানুষের মধ্যে কোনও নেতিবাচক পড়বে না বরং এর সফলতায় তারা উপকৃত হবে।

জেবি/পি

bestelectronics bestelectronics
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়