logo
  • ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৪ আশ্বিন ১৪২৬

হাঁটলেই জুতার সঙ্গে উঠে আসছে পিচ!

শরীফ চৌধুরী, চাঁদপুর
|  ১৯ মে ২০১৯, ১০:৫৩
চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলা ও মনপুরা গ্রামে রাস্তা পাকাকরণের দুই দিনের মধ্যেই কার্পেটের মতো পিচ ঢালাই উঠে গেছে। মাত্র দু’দিনের ব্যবধানে পাকা রাস্তা ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে। এ নিয়ে গ্রামবাসীদের মধ্যে ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। 

গেল ১৪ মে মঙ্গলবার ঢালাই দেয়া হলেও বৃহস্পতিবার সকালে গ্রামবাসী হাটতে গিয়ে দেখেন জুতার সঙ্গে পিচ ঢালাই রাস্তা উঠে যাচ্ছে। 

তবে স্থানীয় ঠিকাদার মো. সুমন প্রধানীয়া দ্বিমত পোষণ করে বলেন, এলাকার কিছু লোকজন হাত দিয়ে পিচ ঢালাই উঠিয়ে ফেলেছেন।

স্থানীয় এলাকাবাসীর অভিযোগ, চাঁদপুর জেলার কচুয়া-কাশিমপুর সড়কের মনপুরা গ্রামের ভেতরে ৪ কিলোমিটার রাস্তা পাকাকরণের টেন্ডার হয় ২০১৫ সালে। শুরু থেকেই ঠিকাদারের বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠে। নিম্নমানের ইট সামগ্রী দিয়ে কাজ করেন এ ঠিকাদার। ওই ভাবেই রাস্তার কাজ ফেলে রাখে প্রায় দুই বছর। এতে পথচারীরা চরম দুর্ভোগের শিকার হয়। 
এলাকাবাসী জানান, মন্থর গতির এই কাজে ব্যবহৃত হয় নিম্নমানের ইট-বালু ও পাথর। রাস্তার দু’পাশের রেলিংয়ের ক্ষেত্রে নম্বরের ইট ব্যবহারের বদলে ব্যবহার করা হয় পিকেট, মাটি দিয়ে যা দাঁড় করিয়ে দেয়া হয়। পিচ ঢালাই দেয়ার আগে রাস্তা পাকাকরণে বিটুমিন না দিয়ে পিচ ঢালাই করেন ঠিকাদার।

এ বিষয়ে কচুয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার নীলিমা আফরোজ বলেন, বিষয়টি আমি জেনেছি। স্থানীয় প্রকৌশলীকে সরেজমিনে দেখে কাজ নিম্নমানের হলে বন্ধ করে দেয়ার নির্দেশ দিয়েছি। 

অন্যদিকে উপজেলা প্রকৌশলী সৈয়দ জাকির হোসেন জানান, এখনো ঠিকাদারের বিল দেয়া হয়নি। কেন রাস্তাটি এমন হলো তা আমরা খতিয়ে দেখবো। প্রয়োজনে এ রাস্তার কাজ আবার করা হবে। 

কচুয়া উপজেলার চেয়ারম্যান শাহজাহান শিশির বলেন, কাজের মান খুবই খারাপ হয়েছে। হাত দিয়েই পিচের ঢালাই তুলো যাচ্ছে। সড়কটির পরীক্ষা করে দেখা গেছে সড়কটি খুবই নিম্নমানের হয়েছে। তাই উপজেলা প্রকৌশলীকে রাস্তার কাজটি পুনরায় করার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে। 

জানা গেছে, কচুয়া উপজেলার মনপুরা গ্রামে ৪ কিলোমিটার সড়কের জন্যে প্রায় তিন কোটি টাকা ২০১৫-১৬ অর্থবছরে বরাদ্দ দেয়া হয়। সেই কাঁচা রাস্তা ২০১৯ সালের মে মাসে পাকাকরণের কাজ শুরু হয়।

এসএস

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়