কাল থেকে নামছে রাজশাহীর আম

প্রকাশ | ১৪ মে ২০১৯, ১৯:৪১

স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী

আগামীকাল মধুমাস জ্যৈষ্ঠে শুরুর দিন, আর এ দিন থেকে পাড়তে শুরু করা যাবে রাজশাহী অঞ্চলের গাছে গাছে থোকায় থোকায় ঝুলে থাকা আম। জ্যৈষ্ঠ মাস থেকেই পাকতে শুরু হয় একে একে বিভিন্ন প্রজাতির আম তাই এবারে মোট সাত ধাপে এবার আম পাড়া চলবে। আর সময় মতো পরিপক্ব অবস্থায় গাছ থেকে আম নামিয়ে বাজারজাত করলে কোনও কেমিক্যাল প্রয়োগের প্রয়োজন পড়ে না বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

রাজশাহীর আম মানেই সেরা। শুধু দেশেই নয়, এ আম যায় বিশ্বের অন্যান্য দেশেও। ১৫ মে বুধবার থেকে অনেকেই আগাম জাতের গুটি আম ভাঙতে শুরু করবেন। এরপর থেকে সব বাগানেই কিছু কিছু আম ভাঙা শুরু হবে। আর ঈদের পরপরই পুরোদমে ভাঙা শুরু করবেন আম। 

অপরিপক্ব আমের বাজারজাত ঠেকাতে গত কয়েক বছর ধরেই রাজশাহীতে আম নামানোর তারিখ নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে। এবার জেলা প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এবার ১৫ মে থেকে গুটি আম নামাতে পারবেন আম চাষিরা। আর উন্নতজাতের আমগুলোর মধ্যে গোপালভোগ ২০ মে, রাণীপছন্দ ২৫ মে, ক্ষীরশাপাত বা হিমসাগর ২৮ মে এবং লক্ষণভোগ বা লখনা নামানো যাবে ২৬ মে থেকে। 

এছাড়া ল্যাংড়া আম ৬ জুন, আম্রপালি ও ফজলি ১৬ জুন থেকে নামানো যাবে। আর সবার শেষে ১৭ জুলাই থেকে নামানো যাবে আশ্বিনা জাতের আম।

রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার বানেশ্বর মাইপাড়া বাজারের অনলাইন আম ব্যবসায়ী তরুণ উদ্যোগতা জাহিদ নয়ন জানান, আমি লেখাপড়ার পাশাপাশি অনলাইনের মাধ্যমে দেশের যেকোনো জায়গায় আম বিক্রি করে থাকি। এবার সরকার অগ্রিম সময় নির্ধারণ করে খুব ভালো উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। অপরিপক্ব অবস্থায় আম বিক্রি করার আর কোন সুযোগ নেই। যে সময়ের আম সে সময়ে কিনলে অর্থাৎ পরিপক্ব আম কিনলে কেমিক্যাল কিনছি কিনা সে ভয় আর থাকে না। ফলে আগামীকাল বুধবার থেকে গাছ থেকে আম পেড়ে বাজারজাত করবেন ব্যবসায়ীরা। গুটি আমের পরপরই জাত আম খ্যাত গোপালভোগ রাজশাহীর বাজারে আসবে বলেও জানান এই অনলাইন আম ব্যবসায়ী।

রুবেল হোসেন নামের আরেকজন আম ব্যবসায়ী জানান, গুটি আম প্রতিবছরই একটু আগে পাকে। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। তাই অনেকে কাল থেকে গুটি আম নামাতে শুরু করবেন। গাছে পরিপক্ব করে আম নামালে আর কেমিক্যাল দিয়ে আম পাকাতে হয় না। এজন্য তার মতো সব চাষিই এখন গাছ থেকে পরিপক্ব আম নামান। এবারও তার ব্যতিক্রম ঘটছে না। এরই মধ্যে প্রায় গাছের আমেই পূর্ণতা এসে গেছে। এছাড়া জেলা প্রশাসনের বেঁধে দেয়া সময় অনুযায়ী সাত দফায় আম নামাতে পারবেন। এতে কারো ক্ষতির আশঙ্কা নেই। 

নির্ধারিত সময়ের আগেই যদি কোনও বাগানে আম পেকে যায় তাহলে চাষি তা নামাতে পারবেন। কিন্তু সেক্ষেত্রে বিষয়টি লিখিতভাবে ইউএনওকে জানাতে হবে। তারপর ইউএনও সরেজমিনে বাগান পরিদর্শন করবেন এবং প্রাকৃতিকভাবে আম পাকা দেখলে তা নামানোর অনুমতি দেবেন। এরপরই আম নামিয়ে বাজারে পাঠাতে পারবেন চাষি ও ব্যবসায়ীরা। 

ফল গবেষণা কেন্দ্রের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা এম মোর্শেদুল বারী আরটিভি অনলাইনকে জানান, রাজশাহী অঞ্চল আম উৎপাদনে সূতিকাগার বলা হয়। এখানে এ বছরের লক্ষ্যমাত্রা ১৭ হাজার ৪৬৫ হেক্টর জমিতে আম চাষ হবে। এবং রাজশাহীতে চলতি মৌসুমে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ২ লাখ ১৩ হাজার ৪২৬ মেট্রিক টন আমের। আম এখন প্রায় পরিপক্বের দিকে তাপদাহ কেটে গেলে আর নতুন কোনও প্রাকৃতিক দুর্যোগ না এলে এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে কোনও সমস্যা হবে না।

এসএস