logo
  • ঢাকা বুধবার, ১৭ জুলাই ২০১৯, ২ শ্রাবণ ১৪২৬

বাঁধ ভেঙেছে সাতক্ষীরায়, স্বেচ্ছাশ্রম দিচ্ছেন তিন শতাধিক মানুষ

আরটিভি অনলাইন রিপোর্ট
|  ০৪ মে ২০১৯, ১১:৩০ | আপডেট : ০৪ মে ২০১৯, ১৩:১৪

খুলনা, সাতক্ষীরা ও আশপাশের এলাকায় শনিবার সকালে আঘাত হানে ঘূর্ণিঝড় ফণী। এরই প্রভাবে সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর থানার নদীতীরবর্তী গাবুরা, পদ্মপুকুর, মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের বেশ কিছু অঞ্চলের বাঁধে ভাঙন দেখা দিয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে খোলপেটুয়া ও কপোতাক্ষ নদের বাঁধ। স্থানীয় ইউপি সদস্য জি, এম আবিয়ার রহমানের নেতৃত্বে প্রায় তিন শতাধিক মানুষ ঘরবাড়ি ও জীবন রক্ষার জন্যে বাঁধ সংস্কারে স্বেচ্ছাশ্রম দিচ্ছেন। 

গাবুরা ইউনিয়নের ভাঙন কবলিত এসব এলাকার মধ্যে আছে ডুমুরিয়া, হরিসখালি, চকবারা, গাবুরা, নেবুবুনিয়া, জেলে খালি, গাগড়ামারি, পার্শ্বেমারি, নাপিতখালি, চাঁদনীমুখা। এছাড়াও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মুন্সীগঞ্জ ইউনিয়নের জেলে পাড়ার সৎসংঘ মন্দিরের ওয়াপদা বেড়িবাঁধ। পদ্মপুকুর ইউনিয়নের কামালকাটি ও ঝাপাসহ বেশ কিছু অঞ্চল আছে ঝুঁকির মধ্যে।

এ বিষয়ে স্থানীয় সমাজকর্মী মো. মিজানুর রহমান বলেন, ডুমুরিয়া বাজার সংলগ্ন, হরিসখালি ও আমজিয়াদের দোকানের পার্শ্ববর্তী এলাকা প্রায় আধা কিলোমিটার জুড়ে ভাঙন লেগেছে। তিন শতাধিক মানুষ এখন স্বেচ্ছাশ্রম দিচ্ছেন। বেশ কিছু অঞ্চলের বাঁধ দুর্বল। সেখানেও ভাঙনের সম্ভাবনা আছে। আমাদের সঙ্গে স্বেচ্ছায় অনেক মানুষ কাজ করছেন। ভাঙন রোধ না করলে ব্যাপকভাবে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এখনও এখানের মানুষ সেই ২০০৯ সালের ভয়াবহ আইলার ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারেনি, এরই মধ্যে ফণীর আক্রমণ। এখনই বাঁধভাঙা রক্ষা করা না গেলে এখানের জানমালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হবে।

এদিকে, ঘূর্ণিঝড় ফণীর প্রভাবে সাতক্ষীরায় রাত ১২টা থেকে দমকা হাওয়া ও গুঁড়ি গুড়ি বৃষ্টি হচ্ছে। আকাশ মেঘাচ্ছন্ন রয়েছে।

জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও  জেলা প্রশাসক এস এম মোস্তফা কামাল জানান, জেলায় ১৬০টি আশ্রয় কেন্দ্রে ১ লাখ ৩২ হাজার মানুষ অবস্থান করছেন। প্রস্তুত রাখা হয়েছে ১১৮টি মেডিকেল টিম। জেলায় এখনও ৭ নম্বর সতর্কসংকেত রয়েছে। জেলার তিনটি ঝুঁকিপূর্ণ উপকূলীয় উপজেলা শ্যামনগর, আশাশুনি ও কালিগঞ্জে সবধরনের প্রস্তুতি রয়েছে। এছাড়া উপকূলীয় এলাকার জেলে-বাওয়ালীদের পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত নদীতে মাছ ধরা থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে।

এছাড়া উপকূলীয় উপজেলা এলাকায় ৫ হাজার স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত রাখা হয়েছে। প্রত্যেক ইউনিয়নে মেডিকেল টিম ও স্বেচ্ছাসেবক টিম প্রস্তুত, ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধ সংস্কার, শুকনা খাবার মজুদ রাখা, ওষুধের পর্যাপ্ততা নিশ্চিতকরণসহ দুর্যোগ মোকাবিলায় সম্ভাব্য সকল প্রস্তুতি নিশ্চিত করার কথা জানানো হয়।

ইতোমধ্যে জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তার অফিসসহ বিভিন্ন উপজেলায় একটি করে নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খোলা হয়েছে। এসব উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে সতর্ক সংকেত হিসাবে লাল পতাকা উত্তোলনসহ মাইকিং করে লোকজনকে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

তিনি আরও জানান, জেলায় দুর্যোগ মোকাবেলায় ২৭শ’ প্যাকেট শুকনা খাবার, ৩১৬ মেট্রিক টন চাল, ১১ লাখ ৯২ হাজার ৫০০ টাকা, ১১৭ বান টিন, গৃহ নির্মাণে ৩ লাখ ৫১ হাজার টাকা ও ৪০ পিস শাড়ি মজুদ আছে।

এছাড়া পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত জেলার সকল সরকারী কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের কর্ম এলাকায় থাকতে বলা হয়েছে।

 

জিএ/ এসএস

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়