• ঢাকা বুধবার, ২৬ জুন ২০১৯, ১২ আষাঢ় ১৪২৬

ফণী তাদের সিডরের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে

বাগেরহাট প্রতিনিধি
|  ০৩ মে ২০১৯, ১১:১৩ | আপডেট : ০৩ মে ২০১৯, ১১:১৯
ঘূর্ণিঝড় ফণী প্রবল বেগে আঘাত হানতে পারে এই খবর জানার পর বাগেরহাটের বিভিন্ন এলাকার মানুষের সিডরের কথা মনে পড়ছে। সেই প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড়ের কথা মনে হলে এখনও তারা মনের অজান্তে আঁতকে উঠেন। আর ফণী সিডরের থেকে শক্তিশালী হবে শুনে তারা ভয়ে স্তব্ধ হয়ে পড়েছেন।

whirpool
তাদেরই একজন শরণখোলার নলবুনিয়া গ্রামের ছগির মিস্ত্রি। তিনি জানান, এখনও সিডরের কথা মনে পড়লে মনের অজান্তে আঁতকে উঠি। ফণীর আঘাতের কথা শুনে আবারও সিডরের কথা মনে পড়ে গেল। শুধু তিনি নন এই এলাকার সবাই আতঙ্কিত ফণীর আঘাতের কথা ভেবে।

মোংলা উপজেলার পশুর নদীর তীরবর্তী বিদ্যারবহন গ্রামের মো. সেলিম জানান, ঘূর্ণিঝড়ের কথা শুনে আতঙ্কে আছি। এত শক্তিশালী ঝড় আঘাত করলে না জানি কতো ক্ষয়ক্ষতি হয়। বিশেষ করে পরিবারের বয়স্ক ও ছোটদের নিয়ে বেশি চিন্তা হচ্ছে।

একই এলাকার কালু সরদার ও গোবিন্দ দাস জানান, আমাদের কাঁচা ঘরবাড়ি। সামান্য ঝড়েই যা ভেঙে পড়ে। সেখানে এতবড় ঝড়ের কথা শুনে পরিবারের সবাই আতঙ্কিত। কাছে কোনও সাইক্লোন সেন্টার নেই। যেখানে সহজে যেতে পারবো।

এদিকে উপকূলে ধেয়ে আসা ঘূর্ণিঝড় ফণীর প্রভাবে মোংলা বন্দরে সাত নম্বর বিপদ সংকেত জারি করা হয়েছে। আর এই বিপদ সংকেত জারির পর থেকে ফণীর আঘাতের আশঙ্কায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ঘূর্ণিঝড় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। তবে জেলা প্রশাসন দফায় দফায় বৈঠক করে দুর্যোগ মোকাবেলায় নানা ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। এদিকে মোংলা বন্দরে পণ্য ওঠা-নামার কাজ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। বন্দর জেটি ও আউটার এ্যাংকরেজে অবস্থানরত ১৬ জাহাজসহ সব ধরনের পণ্যবাহী লাইটার জাহাজকে বন্দরের পশুর চ্যানেল থেকে সরে গিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাত নম্বর বিপদ সংকেত জারির পর বৃহস্পতিবার দিনভর বাগেরহাটের শরণখোলা, মোংলা ও রামপাল উপজেলায় মাইকে আশ্রয় কেন্দ্রে যেতে সতর্ক বার্তা প্রচার করা হচ্ছে। নিরাপত্তার কারণে সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের শেলারচর বন বিভাগের অফিস বন্ধ করে সব কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সরিয়ে আনা হয়েছে।

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী বেগম হাবিবুন নাহার তালুকদার প্রশাসনকে সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণের নির্দেশনা দিয়েছেন।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বাগেরহাট জেলায় ২৩৪টি ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। জেলা সদরসহ নয়টি উপজেলার প্রতিটিতে একটি করে কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। প্রস্তুত রাখা হয়েছে ৮৬টি মেডিকেল টিম। জেলার সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, রেড ক্রিসেন্ট ও বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার কয়েক হাজার উদ্ধার কর্মীদের প্রস্তুত রাখা হয়েছে। মজুদ করা হচ্ছে শুকনো খাবার ও সুপেয় পানি।

জেবি

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়